ছবি : সংগৃহীত
তেহরান দাবি না মানলে আজ (মঙ্গলবার) রাতে একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে-এমন হুমকির পর ইরানে সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় যখন হামলা শুরু হতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি এ ঘোষণা দেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের অনুরোধে আজ (মঙ্গলবার) রাতে ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ধ্বংসাত্মক সামরিক হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে এ সিদ্ধান্ত শর্তসাপেক্ষ—ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ, তাৎক্ষণিক এবং নিরাপদভাবে খুলে দিতে হবে। এ শর্তে আমি ইরানের বিরুদ্ধে বোমাবর্ষণ ও সামরিক হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করতে সম্মত হয়েছি। এটি হবে একটি দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি।
এমন সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন, আমরা ইতোমধ্যে আমাদের সামরিক লক্ষ্য পূরণ করেছি, এবং তা অতিক্রমও করেছি। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যে একটি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির পথে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও লেখেন, ইরানের পক্ষ থেকে আমরা একটি ১০ দফা প্রস্তাব পেয়েছি, যা আলোচনার জন্য একটি কার্যকর ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অতীতের বেশির ভাগ বিরোধপূর্ণ বিষয়েও ইতোমধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এ দুই সপ্তাহের সময়কাল চুক্তিটিকে চূড়ান্ত ও কার্যকর করার সুযোগ করে দেবে বলে আমরা আশা করছি।
ট্রাম্পের বার্তার কিছুক্ষণ পরেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি নিশ্চিত করেছেন, একটি সাময়িক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেছেন, ইরানের ওপর হামলা বন্ধ হলে আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীও তাদের প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রম বন্ধ রাখবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, আগামী দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় রেখে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত সম্ভব হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলা স্থগিত করার শেষ মুহূর্তের আবেদনের জন্য আরাগচিও পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন<<>>
এদিকে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল আলাদা বিবৃতিতে ইঙ্গিত দিয়েছে, আলোচনা ইতিবাচকভাবে চললে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ দুই সপ্তাহের বেশি বাড়ানো হতে পারে।
আগামী সপ্তাহগুলোতে ইসলামাবাদে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ করেন ইরানের সঙ্গে চুক্তির সময়সীমা আরও দুই সপ্তাহ বাড়ানোর জন্য। একই সঙ্গে এ সময় ইরানকে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার আহবান জানিয়েছেন তিনি। শাহবাজের মতে, চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আশাব্যঞ্জক এবং তার যৌক্তিক ফলাফলের জন্য সময় দেয়া প্রয়োজন।
মঙ্গলবার ০(৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ তিনি লিখেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরালো ও ধারাবাহিকভাবে এগোচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে এর মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য ফলাফল আসার সম্ভাবনা রয়েছে। পোস্টে তিনি আরও লেখেন, কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে সফল হওয়ার সুযোগ দিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সময়সীমা আরও দুই সপ্তাহ বাড়ানোর জন্য আন্তরিক অনুরোধ জানাচ্ছি।
শাহবাজ শরিফ তেহরানের প্রতি সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে ওই দুই সপ্তাহ হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার কথাও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে যুদ্ধরত সব পক্ষকে আগামী দুই সপ্তাহ সর্বত্র যুদ্ধবিরতি পালন করার আহবান জানাচ্ছি। এতে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের একটি চূড়ান্ত সমাপ্তি সম্ভব হতে পারে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































