ছবি: আপন দেশ
গাইবান্ধা জেলার উত্তরের জনপদ—নদীভাঙন, বন্যা ও খরার সঙ্গে লড়াই করা এক চরম বাস্তবতার নাম। এ অঞ্চলের মানুষের জীবন সবসময়ই অনিশ্চয়তা ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে। তবুও এ প্রতিকূলতার মাঝেই জন্ম নেয় মানবকল্যাণে নিবেদিত এক উদ্যোগ—এসকেএস (SKS)।
১৯৮৭ সালে ভরতখালীর কিছু তরুণ মানবসেবার লক্ষ্য নিয়ে একটি ক্ষুদ্র সামাজিক উদ্যোগ শুরু করে। সীমিত সম্পদ ও সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তাদের লক্ষ্য ছিল অসহায় ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একটি ছোট ক্লাবকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এ উদ্যোগ ধীরে ধীরে সমাজে আস্থা অর্জন করে।
পরবর্তীতে এ উদ্যোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে রূপ নেয় এসকেএস ফাউন্ডেশনে। ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি মহাজনি ঋণের দুষ্টচক্র থেকে মুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
আরও পড়ুন<<>>টাঙ্গাইলে গ্রাম আদালত বিষয়ক কর্মশালা হয়েছে
সংস্থাটির কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন পরিচালক রাসেল আহমেদ লিটন। তার নেতৃত্বে এসকেএস-এর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে এসকেএস শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিতি লাভ করেছে। গাইবান্ধা জেলায় গড়ে ওঠেছে স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এসকেএস স্কুল এন্ড কলেজ, এসকেএস হাসপাতাল, এসকেএস ইন, এ সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ অবদান রাখছে।
এসকেএস শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, মানুষের মাঝে সঞ্চয়ের অভ্যাস, আত্মবিশ্বাস এবং আত্মনির্ভরতার পথ তৈরি করেছে। এর ফলে বহু পরিবার দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার জীবন থেকে বেরিয়ে এসে স্বাবলম্বী হয়েছে।
১৯৯১ সালে সমাজসেবা অধিদফতরের নিবন্ধন লাভের মাধ্যমে এসকেএস পায় আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। পরবর্তীতে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সহায়তায় এটি আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
এখন এসকেএস শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়—এটি হাজারও মানুষের জীবন পরিবর্তনের এক জীবন্ত উদাহরণ। স্থানীয়দের মতে, এ সংস্থা প্রমাণ করেছে—সঠিক দিকনির্দেশনা ও মানবিক উদ্যোগ থাকলে একটি ছোট প্রতিষ্ঠানও বিশ্বমানের সাফল্যে পরিণত হতে পারে।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































