রামিসা আক্তার। ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকা দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা বড় বোনের পিছু নিয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার পরই পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ভাড়াটিয়া সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বড় বোন রাইসা আক্তার পাশের চাচার বাসায় যাওয়ার জন্য বের হন। ছোট বোন রামিসা সঙ্গে যেতে চাইলে তাকে বাসায় রেখে যান তিনি। পরে রামিসা দরজা খুলে বড় বোনের পিছু নিলে সামনের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা তাকে জোর করে নিজের বাসায় নিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পরিবার। এরপর শিশুটির ওপর নির্যাতন চালানো হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রামিসাকে খুঁজতে গিয়ে ভবনের সব ফ্ল্যাটে খোঁজ করা হলেও সোহেল রানা ও তার স্ত্রী দরজা খুলছিলেন না। পরে সন্দেহ বাড়লে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভাঙা হয়। এর আগেই অভিযুক্ত জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
রামিসার বড় বোন রাইসা আক্তার বলেন, আমি চাচার বাসায় যাচ্ছিলাম। বোন আমার সঙ্গে বের হতে চাইছিল। আমি ওকে ঘরে রেখে বের হয়ে যাই। পরে বুঝতে পারিনি সে পেছনে এসেছে। তখনই লোকটা ওকে টেনে নিয়ে যায়। ও চিৎকার করেছিল।
শিশুটির মা পারভিন আক্তার বলেন, একটা জুতা পরে ছিল, আরেকটা পরারও সুযোগ পায়নি। দরজার সামনে জুতা পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয়। পরে দরজা ধাক্কাধাক্কি করি। সবাই দরজা খুললেও ওই বাসার দরজা খোলেনি।
আরও পড়ুন <<>> মেয়েকে অপহরণ, ছবি হাতে অঝোরে কাঁদছেন বাবা-মা
বুধবার (২০ মে) ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের সামনে স্থানীয়দের ভিড় এবং হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ব্যানার টানানো হয়েছে।
ঘটনাস্থলে শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লাকে পাওয়া না গেলেও তার একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
সেখানে তিনি বলেন, বিচার আপনারা করতে পারবেন না। আপনাদের এ ধরনের কোনো রেকর্ড নেই। আপনারা পারবেন না। আমার মেয়েও ফিরে আসবে না। আপনারা বিচার করতে পারবেন? পারবেন না। আপনারা বিচারের কোনো প্রমাণ দেখাতে পারবেন? পারবেন না। আমার থেকে স্ট্যাম্পে লিখিত নেবেন? এইটা বড়জোর ১৫ দিন। এরপর আবার কোনো একটা ঘটনা ঘটবে। এটা তলে চলে যাবে। শেষ! শেষ এটা। আমি দেখছি, আমার বয়স ৫৫। কোনো বিচার হবে না।
অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বুধবার রাজধানীর পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির বাজে ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরা করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।
গ্রেফতার সোহেল রানার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নাটোরে একটি মামলা আছে জানিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, তার স্ত্রীর বক্তব্য থেকে যেটা আমরা পেয়েছি, তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন। প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































