ছবি: আপন দেশ
আজ ১৭ মে (রোববার) বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা নিশ্চিত করা এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে মানুষকে সচেতন করাই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিন ধরে শরীরে এ রোগ বাসা বাঁধলেও তেমন কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। অথচ অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ধীরে ধীরে হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক, কিডনি ও চোখের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে হৃদরোগ ও স্ট্রোকজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ।
উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৪ মে ২০০৫ সালে World Hypertension League (WHL) সর্বপ্রথম বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবসের সূচনা করে। পরবর্তীতে ২০০৬ সাল থেকে প্রতি বছর ১৭ মে দিনটি নিয়মিতভাবে বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রক্তচাপ পরীক্ষা, সচেতনতামূলক র্যালি, আলোচনা সভা এবং স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া, ধূমপান, মানসিক চাপ ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রার কারণে উচ্চ রক্তচাপের রোগী দিন দিন বাড়ছে। শুধু বয়স্ক নয়, তরুণদের মধ্যেও এ রোগের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করায় অনেকেই দীর্ঘদিন রোগটি সম্পর্কে জানতে পারেন না।
চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্যায়াম, পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, অতিরিক্ত লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার, ধূমপান ও মাদক থেকে দূরে থাকা এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করলে এ রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। পাশাপাশি ১৮ বছর বয়সের পর থেকে নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন<<>>হাম উপর্সগ নিয়ে ২ শিশুর মৃত্যু
দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্য সংস্থা ও সামাজিক সংগঠন বিনামূল্যে রক্তচাপ পরীক্ষা, সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজভিত্তিক উদ্যোগও উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস উপলক্ষে শেরপুরে National Heart Foundation of Bangladesh-এর উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচিতে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবেন।
উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস মোকাবেলা করা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষণায় উঠে এসেছে, দেশের ৩১ ভাগ মানুষ জানেনই না যে তারা উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।
বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস উপলক্ষ্যে শুক্রবার (১৫ মে) রংপুর ধাপে হাইপারটেনশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘একসঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করি’ এ স্লোগানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাকির হোসেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাধ্যক্ষ ডা. মুহম্মদ জহুরুল হক, মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মোখলেছুর রহমান, ডা. শাহ মো. সরওয়ার জাহান এবং ডা. এম রাহেকুল মণ্ডল আপেল প্রমুখ।
আলোচনায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, শুধু বয়স্করাই নয়, তরুণদের মধ্যেও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। নির্দিষ্ট সময় পরপর রক্তচাপ পরীক্ষা করা এবং সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে জানান তারা।
আলোচনা সভায় চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, সামাজিক ও পেশাজীবী ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ রোগীরা অংশগ্রহণ করেন।
আপন দেশ/জেডআই




































