ছবি: আপন দেশ
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের দফতর। দফতরটি নিরাপদ বিদ্যুৎ ব্যবহার নিশ্চিত করে জনজীবন ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ করে। বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র ও স্থাপনা পরিদর্শন করে অনুমোদন দেয়, লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন করে, দুর্ঘটনা তদন্ত, নিরাপত্তা ও মানদণ্ড তদারকি করে, সিনেমা হলের বিদ্যুৎ সংযোগের ছাড়পত্র ও প্রদর্শনী লাইসেন্স জারির জন্য সুপারিশ করাসহ গ্রাহক ও শিল্প মালিকদের সচেতনতা বৃদ্ধির কাজও করে।
দফতরটির ওয়েব সাইটে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে, ‘লাইসেন্স ফি ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন, নিজেই নিজের লাইসেন্স ফি জেনে নিন। এ দফতর হতে সকল প্রকার লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন কার্যক্রম অনলাইনে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। এ বিষয়ে কারো দ্বারা বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে পরামর্শ প্রদান করা হল’। কিন্তু ঘোষণার সঙ্গে কি বাস্তবতার মিল আছে? এমনটি জানতে ও জানাতে অনুসন্ধান করে আপন দেশ।
দীর্ঘ অনুসন্ধানের পাওয়া গেছে, এ দফতরে গত পাঁচ বছরে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৯২৮টি লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। দালাল ছাড়া লাইসেন্স মিলেছে-এমন একজনকেও পাওয়া যায়নি। অপ্রতিরোধ্য দালালচক্র প্রতি লাইসেন্সে সরকারি ফি-র বাইরে ঘুষ আদায় করেছে ১০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। লাইসেন্সের ধরন ও সংখ্যার ভিত্তিতে সাধারণ হিসাব কষলে এ খাত থেকে পাঁচ বছরে শুধু লাইসেন্স থেকেই ঘুষ আদায় করা হয়েছে ৬৬৪ কোটি টাকার বেশি।
ভয়ঙ্কর এ দুর্নীতির জাল বুনেছেন মূলত দু’জন কর্মচারী। একজন অফিস সহায়ক (পিয়ন) সাখাওয়াত হোসেন বাবু, অন্যজন অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক উইলিয়াম হোসেন। এহেন অকল্যাণকর কাজের নেপথ্যে রয়েছেন প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের দফতরে কল্যাণ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. আতোয়ার রহমান মোল্লা। যিনি বিদ্যুৎ লাইসেন্সিং বোর্ডের সদস্য সচিব। টাকার তাবিজে এ খাতে রয়েছেন বছরেরপর বছর। গড়েছেন অপ্রতিরোধ্য চক্র।
আরও পড়ুন<<>> ‘দুদকের সততা, আজিজীর বহুতল ভবন’
দেশজুড়ে রয়েছে এ চক্রের দালাল নেটওয়ার্ক। টাকা লেনদেন হয় ডিজিটাল আর ডকুমেন্ট যাতায়াত করে কুরিয়ার সার্ভিসে। এর আড়ালে চলছে লাইসেন্সের ঘুষ বাণিজ্য। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লাইসেন্স করালে পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তরপত্র আগেই চলে যায় প্রার্থীর দরজায়। এ প্রক্রিয়ার বাইরে পরীক্ষা দিলেও তাদের কপালে পাস জুটে না। পরীক্ষার খাতায় ঘষামাজা করে ফেল দেখানো হয়। সরকারি অফিসে সংঘটিত ভয়ঙ্কর ঘটনাটি দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের হেড অফিস থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটারের মধ্যে। রাজধানীর ২৫, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০-এ।
ঘুষ লেনদেন ও কাজ বন্টন
প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের দফতর থেকে লাইসেন্স নেয়ার পদ্ধতি এখন অনেকটা অনলাইন শপিংয়ের মতো। ডকুমেন্ট পাঠাতে হয় কুরিয়ারে, ঘুষের টাকা দিতে হয় বিকাশে। ঘুষের টাকা পাঠালে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লাইসেন্স মেলে অনলাইনে। এ ব্যবস্থা চালু অফিস সহায়ক সাখাওয়াত হোসেন বাবু ও কম্পিউটার অপারেটর উইলিয়াম হোসেন। একাধিক ভুক্তভোগী তাদের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। নথিপত্র ঘেঁটে মিলেছে আরও ভয়ঙ্কর চিত্র। সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস ও স্টেডফাস্ট কুরিয়ারের মাধ্যমে নথি বিনিময়ের একাধিক চালান সিটও সরবরাহ করেছে সোর্স।
নাজমুল হাসান আপন দেশকে জানান, বিকাশে টাকা নেয়া ও দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করার দায়িত্বে অফিস সহায়ক (পিয়ন) সাখাওয়াত হোসেন বাবু। আর কম্পিউটার অপারেটর উইলিয়াম হোসেন ডাটাবেজ তৈরি করেন। এ তালিকায় তাদের নাম লিপিবদ্ধ হয় যারা ঘুষ প্রদান করেছে। চুক্তিমতো টাকা পরিশোধকারীদের পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন। যুক্ত করে দেয়া হয় উত্তরপত্রও। মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় যেনো সমস্যায় পড়তে না হয় সেজন্যও অভিনব কৌশল গ্রহণ করা হয়। সাক্ষাৎকারে কি প্রশ্ন করা হবে, কোন যন্ত্রের নাম জানতে চাওয়া হবে তা আগেই সরবরাহ করা হয় লাইসেন্সপ্রত্যাশীদের হাতে।
সোর্স জানায়, ঘুষ না দিয়ে যেসব মেধাবীরা লাইসেন্স পেতে লড়াই করে তাদের দুষমনে রূপ নেয় ওই চক্র। লিখিত পরীক্ষায় যারা পাশ করে তাদের খাতায় ভুল-ভাল লিখিয়ে যোগ্য প্রার্থীকে অযোগ্য করে চক্রটি।
সুপারভাইজার লাইসেন্সের জন্য পরীক্ষা দিয়েছিলেন ইঞ্জিনিয়ার আল-আমিন হোসেন। মৌখিক পরীক্ষাতেও সব প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে পাশ করানো হয়নি।
আল আমিন অভিযোগ করেন, কারো কারো বেলায় কোনো প্রশ্নই লিখতে হয়নি। পরীক্ষায় তার পাশের সীটে বসা নওসিন তাবাসুম নামের এক পরীক্ষার্থী তার খাতায় দু/চার লাইন ছাড়া কিছুই লিখতে পারেনি। অথচ এবিসি ক্যাটাগরির লাইসেন্স অনুমোদন দেয়া হয় নওসিন তাবাসুমকে। তার সঙ্গেই কথা বলে আমি নিশ্চিত হয়েছি, দালালের মাধ্যমে এসেছিলেন। যা লেখার বা করার তারাই করেছে।
আরও পড়ুন<<>> বড় ভাই নাছিরের চাকরি করলেন ছোট ভাই সৈয়দ
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের দফতরে লাইসেন্স সিন্ডিকেটের প্রধান দুই সদস্য হলেন সাখাওয়াত হোসেন বাবু ও উইলিয়াম হোসেন। তাদের গডফাদার হলেন- বিদ্যুৎ লাইসেন্সিং বোর্ডের সদস্য সচিব প্রকৌশলী মো. আতোয়ার রহমান মোল্লা। তার নিয়ন্ত্রণেই বিদ্যুৎ বিভাগের দুর্নীতিবাজ কর্মচারীরা দাপটের সঙ্গে সবধরনের অপকর্ম করেন। দালালরা সবাই জানেন প্রকৌশলী মো. আতোয়ার রহমান মোল্লার ক্যাশিয়ার ও কালেক্টরের কাজ করেন সাখাওয়াত হোসেন বাবু ও উইলিয়াম হোসেন।
ডিজিটাল ফাঁদ
বিদ্যুৎ পরিদর্শকের দফতরের সূত্রমতে, দেশজুড়ে প্রচারণা চালাতে এ চক্রটি ব্যাবহার করেন সোশ্যাল মিডিয়া। ‘এবিসি লাইসেন্স গ্রুপ’এবং ‘বিদ্যুৎ লাইসেন্স ও ইলেকট্রিক্যাল স্টাডি গ্রুপ’নামের দুটি হোয়াট্সঅ্যাপ গ্রুপ খুলেছেন সাখাওয়াত ও উইলিয়াম। ‘এবিসি লাইসেন্স গ্রুপ’-এর অ্যাডমিন ‘সুমন বই বিতান’ (xxxxx৭৪৪১০৯) ও ‘এক্সাম সেন্টার’ (xxxxx৮৩৯৭১৮) নামের দুই হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী।
‘বিদ্যুৎ লাইসেন্স ও ইলেকট্রিক্যাল স্টাডি গ্রুপের অ্যাডমিন নয়জন। এর মধ্যে রয়েছেন সুমন বই বিতান (*৭৪৪১০৯), আল আমিন শিকদার (*০৩১৯২৩), জাহিদ (xxxxx৭৮৪০২৭), পাওয়ার মাইন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড অটোমেশন (*৪০৭২৫৭), এসএমটিডিএনকেএস (xxxxx৭৫৮৯৯২) ও সিরাজগঞ্জ ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস (xxxxx৭৭১৫০৬) প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া ‘ইলেকট্রিশিয়ান ভাই’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমেও দালালরা লাইসেন্স দেয়ার ফাঁদ তৈরী করেছে।
আরও পড়ুন<<>> পাউবোর শুভ্র যেনো সেই ‘আবেদ আলীর’ শিষ্য, অবৈধ সম্পদেও সেরা
আনিসুল ইসলাম সাজু নামের ভুক্তভোগী এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের দফতরের চক্রটি দেশেজুঁড়ে চক্র গড়ে তোলেছেন। লাইসেন্স প্রার্থীরা এ চক্রের মাধ্যমে না আসলে মাসের পর মাস ঘুরতে হয় বিদ্যুৎ অফিসে। ৯ বিভাগে ৪০ জনের নাম উঠে এসেছে আপন দেশ-এর দীর্ঘ তালাশে। এদেরমধ্যে জয়নুল আবেদীন, আবুল খায়ের, ইকবাল হোসেন, শাকিল খান, নূরুল ইসলাম, জাহিদ হাসান, সৈকত হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার শিমুল, আলমগীর হাসান প্রথম কাতারের। প্রতিটি অঞ্চলে তাদের অঘোষিত অফিস রয়েছে।
দীর্ঘ অনুসন্ধানে মিলেছে, দালাল চক্রের মাধ্যমে লাইসেন্স পেয়েছেন টাঙ্গাইলের মো. শহিদুল ইসলাম, রাজধানীর মতিঝিলের ‘গণি পাওয়ার’, এ ছাড়াও এমএস তালুকদার এন্টারপ্রাইজ, এমএস তাওহিদ এন্টারপ্রাইজ, এমএস এ আর অ্যান্ড কোং, সর্দার সিরাজুম মুনিরা, মো. তফিকুর রহমান, একে এম আখতার হোসেন, মো. খাইরুল ইসলাম, মো. আল মাসুদ, সুমন কুমার দাস, মো. আবদুর রশিদ ও মো. বাবুল মিয়ারা লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে বাগিয়েছেন লাইসেন্স। তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও দক্ষতা বিষয়ে খোজ নিলেই প্রমাণ মিলবে।
কতো কোটি টাকার বাণিজ্য?
আপন দেশের হাতে আসা নথিপত্র ঘেঁটে জানা গেছে, গত পাঁচ বছরে প্রকৌশলী মো. আতোয়ার রহমান মোল্লাদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিদ্যুৎ লাইসেন্সিং বিভাগ বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র চালুর অনুমোদন দিয়েছে ১৭ হাজার ১৫১টি। দালালের মাধ্যমে যারা এ লাইসেন্স পেয়েছেন, তাদের প্রতিটি ফাইলে অতিরিক্ত গুনতে হয়েছে ১ লাখ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। গড়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে ধরলে শুধু এ ক্যাটাগরিতেই অতিরিক্ত আদায়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪২৯ কোটি টাকার বেশি।
আরও পড়ুন<<>>বেনামি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে মোরশেদ আলমের শত শত কোটি টাকা পাচার
৫ হাজার ৪০৭টি বৈদ্যুতিক ঠিকাদারি লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। আর প্রতি লাইসেন্সে ঘুষ অতিরিক্ত আদায় ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। গড়ে ৬৫ হাজার টাকা করে ধরলে এ খাতে আদায় হয়েছে ৩৫ কোটি টাকার বেশি। বৈদ্যুতিক সুপারভাইজার লাইসেন্স দেয়া হয়েছে ১১ হাজার ২৩৭টি। প্রতিটিতে অতিরিক্ত ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। গড়ে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা করে ধরলে এ খাতে আদায়ের পরিমাণ ১২৪ কোটির টাকার বেশি।
অতিরিক্ত ১০-২০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে ৪৮ হাজার ১৫৩টি ইলেকট্রিশিয়ান লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। গড়ে ১৫ হাজার ধরা হলে এ খাতে ঘুষ আদায় হয়েছে ৭২ কোটি টাকার বেশি। সব মিলিয়ে পাঁচ বছরে এ চার ধরনের লাইসেন্সে অবৈধ বা ঘুষ উত্তোলন করা হয়েছে ৬৬৪ কোটি টাকার বেশি।
বাবু-উইলিয়ামের হাতে নয়া চেরাগ?
এ দুই অফিস সহায়ক (পিয়ন) ও অফিস সহকারির বেতন হাজারের ঘরে হলেও লেনদেন চিত্র দেখে চোখ কপালে উঠবেই।
প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের দফতরে হিসাব শাখার তথ্য ও অনুসন্ধানে ধরা পড়েছে পিয়ন সাখাওয়াত হোসেন বাবু শুধু মোবাইল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম বিকাশ ও নগদে গত ১২ মাসে করেছেন ৬০ লাখ টাকা। মাসে গড়ে ৫ লাখ টাকা। এর বাইরেও ইসলামী ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকের হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের দফতরের হিসাব শাখার তথ্য মাসিক বেতন মাত্র ১৭ হাজার ২৩৭ টাকা।
উইলিয়াম হোসেনের বেতন ২২ হাজার ২৯৭ টাকা। তার ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর (xx৮১xx৪) ও লতা আক্তার নামের আরেকটি বিকাশ নম্বরে (xx৬৬x১০৪) গত বছর লেনদেন হয়েছে ৮০ লাখ টাকার বেশি। সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে গত বছর লেনদেন হয়েছে আরও ২০ লাখ টাকার বেশি। সব মিলিয়ে উইলিয়াম প্রতি মাসে লেনদেন করেন ৭-৮ লাখ টাকা।
উইলিয়াম-বাবুর যতো সম্পদ
বিদ্যুতগতিতে কোটি কোটি টাকা কামানো সাখাওয়াত হোসেন বাবুর নেশা হলো-জমি, প্লট ও ফ্ল্যাট কেনা। কখনো নিজ নামে আবার কখনো স্বজনদের নামে। ট্যাক্স ফাঁকি দিতে এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের দৃষ্টি আড়াল করতে অভিনব কৌশল নিয়েছেন। সাখাওয়াত হোসেন বাবু নিজ জেলা গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় রামশীল কাফুলাবাড়ি মৌজায় নারায়ণ রায়ের কাছ থেকে ১৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ জমি প্রায় ৭৫ লাখ টাকায় কিনেছেন। যার দলিল নম্বর (xx২৪)। একই মৌজায় জিন্নাতুন নেসার কাছ থেকে কিনেছেন আরও ৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ জমি, যার আনুমানিক মূল্য ২০ লাখ টাকা (দলিল নম্বর xx১৯)।
জেলার কোটালিপাড়ায় সাখাওয়াত হোসেন বাবু ও তার ভাই ইয়াসিন কাজীর নামে রয়েছে আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যের ৩৯ দশমিক ৮২ শতাংশ জমি। একই এলাকায় দুই ভাইয়ের নামে রয়েছে আরও ৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ জমি, আনুমানিক মূল্য ৩০ লাখ টাকা। এ ছাড়া কোটালিপাড়ার বান্ধাবাড়ী মৌজায় সাখাওয়াতের নামে রয়েছে আনুমানিক ২ কোটি টাকা মূল্যের ৪২ শতাংশের একটি প্লট।
দুর্নীরি বিষয়ে জানতে এ প্রতিবেদক সাখাওয়াত হোসেনের ফোনে যোগাযোগ করেন। তিনি বলেন, এসব অভিযোগ সত্য নয়। আমার প্রতিপক্ষ আপনাকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন।
দুর্নীতিবাজ উইলিয়ামের বাবার নাম মো. নাজিম উদ্দীন। গ্রামের বাড়ি যশোর জেলায়। থানা বাঘারপাড়া। তেলিধ্যান্যপুরের বাসিন্দা তিনি। কিছুদিন আগে স্থানীয় বাজারে একটি জমি কিনে সেখানে চারতলা ফাউন্ডেশনের একটি ভবন নির্মাণ শুরু করেছেন উইলিয়াম। ভবন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি টাকা।
বিদ্যুৎ বিভাগে যোগ দেয়ার আগে উইলিয়াম নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানেও অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর চাকরি ছেড়ে দেন।
নথিপত্রে দেখা যায়, উইলিয়াম মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নিয়েছেন প্রতারণা করে। উইলিয়ামের নানা মো. জয়নাল মোল্লা মুক্তিযোদ্ধা। ২০০৫ সালের ১৪ মে প্রকাশিত বেসামরিক গেজেটে তার নম্বর ২১২৩। নাতি হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিদ্যুৎ বিভাগে চাকরি নেন উইলিয়াম। তবে নথিপত্রে গরমিল। উইলিয়াম ও তার ভাই-বোনদের জাতীয় পরিচয়পত্রে মায়ের নাম লেখা 'রিনা খাতুন'। কিন্তু তার বাবা মো. নাজিম উদ্দীনের একাধিক পাসপোর্টে স্ত্রীর নাম রেহেনা বেগম।
এসব বিষয়ে জানতে অফিস সহকারী মো. উইলিয়ামের মোবাইল নম্বরে ০১৭২৩৮১XX০৪ কল করে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাই না। হোয়াট্সঅ্যাপে যা পাঠিয়েছেন তা এসবই মিথ্যা।
সাখাওয়াত হোসেন বাবুর নম্বরে একাধিবার যোগাযোগ করেও সাড়া মেলেনি। বিদ্যুৎ পরিদর্শক দফতরের অফিসে গেলেও তার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। সহকর্মীরা জানান তাকে দেখেননি।

আরও ভয়ঙ্কররূপ প্রকৌশলী আতোয়ার মোল্লার
একাধিক ইঞ্জিনিয়ার, লাইসেন্সধারী ও দালাল থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে বিদ্যুৎ লাইসেন্সিং বোর্ডের সদস্য সচিব প্রকৌশলী মো. আতোয়ার রহমান মোল্লা হলেন উল্লিখিত দুর্নীতিচক্রের নাটেরগুরু।
এ বোর্ড থেকে দুর্নীতির মাধ্যমে শতাধিক কোটি টাকা হাতিয়েছেন প্রকৌশলী আতোয়ার রহমান মোল্লা। নিজেকে দুদকের জাল থেকে দুরে রাখতে অবৈধ সম্পদের কর ফাঁকি দিতে নিজ ছেলেকে সাজিয়েছেন ব্যবসায়ি। আয়-উপার্জন দেখিয়েছেন সন্তানসহ স্বজনদের নামে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ চাকরিজীবী মো. আতোয়ার রহমান মোল্লার ধানমণ্ডি, মিরপুর, মোহাম্মদপুরে জমি, ফ্ল্যাট-বাড়ীসহ সম্পদ বিবরণী এসেছে আপন দেশ-এর হাতে।
আপন দেশ/এবি
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































