ছবি সংগৃহীত
দলের অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজাচ্ছে বিএনপি। ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। বিভিন্ন সাংগঠনিক অঞ্চলের নেতারা তাদের প্রত্যাশীত পদের জন্য বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কাছেও যোগাযোগ করছেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সম্ভাবনার নাম মোঃ হারুনুর রশিদ। ‘কমিশনার হারুন’ হিসেবে তৃণমূলের আস্থার প্রতীক এ নেতা দীর্ঘদিনের রাজপথের সংগ্রাম, সাংগঠনিক দক্ষতা ও সাহসী নেতৃত্বের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন পরীক্ষিত রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে। আগামীর দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত এ মাঠনেতা ইতোমধ্যেই নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন।
মোঃ হারুনুর রশিদ। রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘কমিশনার হারুন’ নামেই সবার কাছে বহুল পরিচিত। তিনি মতিঝিল এলাকার সাবেক নির্বাচিত কমিশনার এবং জাতীয়তাবাদী শক্তির একনিষ্ঠ কর্মী। বর্তমান ঢাকা মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক। রাজনীতির পাঠ শুরু হয়েছে তৃণমূল থেকে, আর তাই মাঠের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আবেগ ও স্পন্দন অত্যান্ত সুগভীরভাবে। বিগত ১৭ বছরের দুঃসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে তিনি ঢাকা মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে রাজনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি ও রাজপথের সক্রিয় কর্মি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় অসংখ্য রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা, জেল-জুলুম-হুলিয়া মাথায় নিয়ে সদাসর্বদা নেতাকর্মিদের নিয়ে রাজপথে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। কিন্তু কোনো রক্তচক্ষু শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার আদর্শ থেকে তাকে বিচ্যুত করতে পারেনি। এমনকি ২০২৪’র ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবেও তাকে রাজপথে সম্মুখসারিতে থেকে ফ্যাসিবাদ পতনের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে।
কমিশনার হারুন বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমানের ভিশন ও আমার অঙ্গীকার। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে দেশে ফিরে বিমান বন্দরে ঘোষণা করেছিলেন-‘I have a plan’। তার এ পরিকল্পনার মূল ভিত্তি ছিলো প্রতিটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করা এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। নির্বাচীত হয়ে সরকার গঠনের পরপরই তিনি সময় ক্ষেপন না করে তার ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, বিধবা-বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী কার্ড, ইমাম-মোযাজ্জিনদের ভাতাসহ প্রভৃতি নানা যুগান্তকরী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার কাজ শুরু করেছেন।

সভাপতির দায়িত্ব পেলে কী করবেন এমনটি জানান হারুন। তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পেলে তারেক রহমানের ঘোষিত আগামীর পরিকল্পনা ও ভিশন বাস্তবায়নে ৩টি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে দলকে ঢেলে সাজাবেন। যেমন-
১) সাংগঠনিক সুদৃঢ়করণ: ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে বিএনপিকে কেবল শক্তিশালী নয়, বরং একটি শিক্ষিত, সুশৃঙ্খল এবং আধুনিক ইউনিটে পরিণত করবেন এবং চেইন অব কমান্ড বজায় রেখে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করবেন।
২) তারুণ্যের ঐক্য ও সৃজনশীল রাজনীতি: গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে আধুনিক ও সৃজনশীল কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ তরুণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জাতীয়তাবাদের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ করে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষিত করে রাজনীতি ও প্রচারণায় মহানগর বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলিতে একই চেইন অব কমান্ডে সংযোজন করবেন।
৩) সামাজিক ও জনবান্ধব রাজনীতি: জনগণের আস্থা অর্জনে বিএনপিকে কেবল রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবেন। তারেক রহমানের রাষ্ট্র সংস্কারের রূপকল্প বাস্তবায়নে মহানগর দক্ষিণ বিএনপিকে সক্রিয় করে গড়ে তুলবেন।
মোঃ হারুনুর রশিদ বিশ্বাস করেন, রাজনীতি মানেই জনগণের কল্যাণে নিরলস কাজ করা। তিনি দলকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনসেবাকে রাজনৈতিক সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে চান। তার পরিকল্পনায় রয়েছে বেকার তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম চালু করা। তিনি মনে করেন, তৃণমূলকে শক্তিশালী না করলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও কার্যকর হয় না। তাই তিনি নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, শৃঙ্খলা ও ঐক্যের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সাবেক এ কমিশনার মনে করেন, দীর্ঘদিনের রাজপথের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের হাতেই আগামীর নেতৃত্ব নিরাপদ। তিনি দায়িত্ব পেলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পরস্পর আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলে দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন। দলীয় প্রধান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে এবং একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তিনি এইমূহুর্তে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানান এই মাঠনেতা।
আপন দেশ/এবি
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































