ফাইল ছবি
আগের মৌসুমে তাকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে সমর্থকরাও। কারণ, তার হাত ধরেই প্রথম পেশাদার শিরোপা জিতেছে সাদাকালোরা। কিন্তু বছর ঘুরতেই মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখলেন কোচ আলফাজ আহমেদ। একের পর এক হেরেই চলেছে দল। অবনমনের শঙ্কা চোখ রাঙাচ্ছে।
সর্বশেষ ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি আবাহনীর কাছে হারের পর আলফাজকে বরখাস্ত করেছে মোহামেডান। এমন অপ্রত্যাশিত বিদায়েও ক্লাব কর্তৃপক্ষের প্রতি কোনো প্রকাশ্য ক্ষোভ নেই সদ্য সাবেক এ কোচের।
পেশাদারিত্বের চরম বাস্তবতা মেনেই জাতীয় দলের সাবেক ই তারকা ফুটবলার নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এভাবে, দল আশানুরূপ ফল দিতে পারছে না, তাই আমাকে সরিয়ে দিয়েছে। মোহামেডান বলে নয়, যে কোনো ক্লাব হলেও তাই করতো। ক্লাব তো ভালো ফল চাইবেই। ফলে তাদের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি।
আরও পড়ুন<<>>স্বর্ণজয়ী ভারোত্তোলক মাবিয়া নিষিদ্ধ
মাত্র এক মৌসুম আগের কথা। এ আলফাজের জাদুকরী রণকৌশলেই দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময়ের অপেক্ষা ঘুচিয়ে লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সাদা-কালোরা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীকে হারিয়ে ঘরে তুলেছিল ফেডারেশন কাপের ট্রফিও। কিন্তু সে সাফল্যের রূপকারকেই এবার চরম মূল্য চোকাতে হলো দলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতার দায়ে। ১২ ম্যাচ শেষে মাত্র ১১ পয়েন্ট নিয়ে ১০ দলের টুর্নামেন্টে সপ্তম স্থানে ধুঁকছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা, চোখ রাঙাচ্ছে লিগ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কা। চলতি মৌসুমে লিগে তাদের জয় মোটে দুটি। সবশেষ কুমিল্লায় আবাহনীর বিপক্ষে শুরুতে এগিয়ে গিয়েও ২-১ গোলের হারটাই মূলত কফিনের শেষ পেরেক হিসেবে কাজ করেছে।
ফুটবল বোদ্ধাদের মতে, এবারের মৌসুমে দলবদলের বাজারেই বড় ধাক্কা খেয়েছিল মতিঝিলের ক্লাবটি। সুলেমান দিয়াবাতে কিংবা ইমানুয়েল সানডের মতো পরীক্ষিত বিদেশিরা পাড়ি জমিয়েছেন অন্য ঠিকানায়। তাদের শূন্যস্থান পূরণে স্যামুয়েল বোয়াটেং, বার্নার্ড মরিসন বা দেশি তারকা সুমন রেজাদের দলে ভেড়ানো হলেও, মাঠে তারা নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। আর ভাঙাচোরা স্কোয়াড নিয়ে ধুঁকতে থাকা দলের এ ব্যর্থতার খেসারত শেষ পর্যন্ত দিতে হলো ডাগআউটে থাকা হেড কোচকেই।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































