Apan Desh | আপন দেশ

স্বর্ণজয়ী ভারোত্তোলক মাবিয়া নিষিদ্ধ 

ক্রীড়া প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১২:০০, ১২ এপ্রিল ২০২৬

স্বর্ণজয়ী ভারোত্তোলক মাবিয়া নিষিদ্ধ 

ফাইল ছবি

নিষিদ্ধ শক্তিবর্ধক ওষুধ সেবনের দায়ে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন স্বর্ণ পদক জয়ী ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার। সাউথ এশিয়া রিজিওনাল অ্যান্টি ডোপিং অর্গানাইজেশন (সারাদো) তাদের রেজাল্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভায় বিশ্ব ডোপবিরোধী সংস্থা (ওয়াডা) কোড অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

গত বছরের সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমস শুরুর আগে ২৯ অক্টোবর ঢাকার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) ভবনে মাবিয়ার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরীক্ষায় তার শরীরে নিষিদ্ধ ‘ফুরোসেমাইড’ এবং ‘ক্যানরেনোন’-এর উপস্থিতি পাওয়া যায়, যা মূলত শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে দেয়ার কাজ করে।

সাউথ এশিয়া রিজিওনাল অ্যান্টি ডোপিং অর্গানাইজেশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ব ডোপবিরোধী সংস্থা (ওয়াডা) বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) তাকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার চিঠি পাঠিয়েছে।

তবে শাস্তির খবরে ভেঙে পড়লেও নিজেকে নির্দোষ দাবি করছেন মাবিয়া। তার দাবি, তিনি কোনো অনৈতিক সুবিধা নিতে নয়, বরং ডাক্তারের পরামর্শে চোটের চিকিৎসা নিতে গিয়েই বিপদে পড়েছেন। মাবিয়া বলেন, আমি হাঁটুর ব্যথা আর অ্যালার্জির জন্য ওষুধ খেয়েছিলাম। বিওএ থেকে আমাদের সব সময় বলা হয় ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কিছু না খেতে। আমি সেটাই করেছি, গোপনে কিছু খাইনি। আমার কাছে সব প্রেসক্রিপশন আছে।

আরও পড়ুন<<>>নেইমারের দলে থাকা নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করলেন আনচেলত্তি

মাদারীপুরের সে সাধারণ টংঘর থেকে উঠে এসে দক্ষিণ এশিয়ার ভারোত্তোলনে রাজত্ব করেছিলেন মাবিয়া। ২০১৬ এসএ গেমসের পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে যখন দেশের জাতীয় সংগীত শুনছিলেন, মাবিয়া আক্তার সীমান্তের সে অশ্রুসজল চোখ নাড়িয়ে দিয়েছিল পুরো বাংলাদেশকে। চরম দারিদ্র্য আর প্রতিকূলতা জয় করা সে অদম্য অ্যাথলেটের ক্যারিয়ারে এবার নেমে এল বড় এক ধাক্কা।

২০১০ সালে মামার হাত ধরে ভারোত্তোলনের আঙিনায় পা রাখা মাবিয়া ২০১৩ সাল থেকেই ঘরোয়া আসরে ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ২০১৬ এসএ গেমসে ৬৩ কেজি বিভাগে স্বর্ণ জয়, ২০১৯ এসএ গেমসে টানা দ্বিতীয়বারের মতো স্বর্ণ পদক জয় এবং ২০১৮ কমনওয়েলথ গেমসে ১৮০ কেজি ওজন তুলে ষষ্ঠ হয়েছিলেন।

সাম্প্রতিক সময়ে মাবিয়ার ক্যারিয়ার খুব একটা ভালো যাচ্ছিল না। কোচদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ও ফেডারেশনের অবহেলা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে। কদিন আগেই সংবাদমাধ্যমে জোর গলায় বলেছিলেন, আমি শেষ হয়ে যাইনি। কিন্তু ২৬ বছর বয়সী একজন ভারোত্তোলকের জন্য দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা ক্যারিয়ারের বড় এক অনিশ্চয়তা তৈরি করল। এ লম্বা বিরতি কাটিয়ে তিনি আবার আগের ফর্মে ফিরতে পারবেন কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়