ছবি : সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামী নারী সমাজকে হেয় প্রতিপন্ন করেছে, আবার তারাই নির্বাচন নিয়েও ষড়যন্ত্র শুরু করেছে উল্লেখ দেশবাসীকে সর্তক থাকার আহবান জানিয়েছেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময়ে বহু মানুষের আত্মত্যাগ, বহু মানুষের গুম-খুন, অত্যাচার-নির্যাতনের বিনিময়ে আমাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে এসেছে। সে অধিকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে, ইনশাল্লাহ।
সোমবার (০২ জানুয়ারি) দুপুরে খালিশপুরের প্রভাতি স্কুল মাঠে এক সমাবেশে বিএনপির চেয়ারম্যান এ আহবান জানান।
ষড়যন্ত্র আবার শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আমরা খেয়াল করছি, একটি মহল বলার চেষ্টা করছে এবার ভোট গণনায় নাকি অনেক সময় লাগবে। এতে বুঝা যায়, ষড়যন্ত্র আবার শুরু করেছে। যারা জনগণের সামনে সকাল-বিকাল মিথ্যা কথা বলছে। যারা দেশের নারী সমাজকে হেয় প্রতিপন্ন করছে, এরাই বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। তাদের এসব কথা-বার্তা, তাদের এসব কাজ কর্ম, এসব ফাঁকি-ঝুঁকি মানুষ ধরে ফেলেছে। সেজন্য তারা বিভিন্ন ছলচাতুরীর চেষ্টা করছে।
আজ এ জনসভায় দাঁড়িয়ে আপনাদের সকলকে বলতে চাই, আজ থেকে আপনাদেরকে সর্তক থাকতে হবে, সজাগ থাকতে হবে। যে অধিকার আপনি এক যুগ ধরে পাননি আবার যাতে এ অধিকার কেউ কেড়ে নিয়ে যেতে না পারে আপনাদের সকলকে দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্তক এবং সজাগ থাকতে হবে।
আরও পড়ুন<<>>নির্বাচন নিয়ে অপতথ্যের চাপ বাড়ছে: প্রেস সচিব
তারেক বলেন, আমরা যদি সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকি, সকলে যদি একত্রিত থাকি তাহলে আমরা অবশ্যই আমাদের সে কাঙ্ক্ষিত কাংবাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশের শ্লোগান হবে একটাই ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ আসুন আমরা এ জনসভায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই যে, বর্তমানে যতগুলো রাজনৈতিক দল আছে তার মধ্যে একমাত্র বিএনপির অভিজ্ঞতা আছে দেশ পরিচালনার করার। যেহেতু বিএনপির অভিজ্ঞতা আছে দেশ পরিচালনা করার সেহেতু একমাত্র বিএনপির পক্ষেই সম্ভব বাংলাদেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করার।
তিনি বলেন, সঠিকভাবে দেশ পরিচালনা করতে হলে দুইটা বিষয় নজর দিতে হবে। এক, যেকোনো পরিস্থিতিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা। যেন মানুষ শান্তিতে চলতে পারে, শান্তিতে তার ব্যবসা বানিজ্য করতে পারে,রাতে নিজের ঘরে ঘুমাতে পারে। এ অভিজ্ঞতা বিএনপিরই আছে। বিএনপি জানে কীভাবে দেশের নিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি করতে হয়। একই সঙ্গে বিএনপির আরেকটি অভিজ্ঞতা আছে কিভাবে দেশকে দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে বের করে নিয়ে আসতে হয়। অতীতেও আমরা দেখেছি যে, স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে তারা যখন অতীতে ক্ষমতায় ছিলো তারা দুর্নীতিতে দেশকে সয়লাব করে দিয়েছিলো। পরবর্তিতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন তখন কিভাবে ধীরে ধীরে বাংলাদেশকে দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে বের করে নিয়ে এসেছিলো। সেজন্য এ মুহুর্তে দেশকে পূনর্গঠনের জন্য যদি কোনো দল থেকে থাকে সেটা হচ্ছে বিএনপি,সে প্রতীক হচ্ছে ধানের শীষ।
তিনি ভোটারদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, আসুন আগামী ১২ তারিখে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করে দেশ পূনর্গঠনের কাজে আমরা হাত দেই। এসময় তিনি তার পাশে থাকা ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং বলেন, আগামী ১২ তারিখ পর্যন্ত উনাদের দেখে রাখার দায়িত্ব আপনাদের। তারেক রহমান বলেন, ইনশাল্লাহ ১২ তারিখে ধানের শীষের সরকার গঠিত হলে ১৩ তারিখ থেকে এ মানুষগুলো আপনার এলাকার উন্নয়ন, সমস্যা-অসুবিধা সব কিছু দায়দায়িত্ব তাদের। আপনাদের কাছে এ মানুষগুলোর দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে গেলাম…ইনশাল্লাহ। আজকে আমাদের প্রতিজ্ঞা হউক আমরা যেকোনো মূল্যে ধানের শীষকে বিজয় করবো, ধানের শীষকে বিজয় করার মাধ্যমে আমরা দেশ পূনর্গঠনের হাত দেবো।
এর আগে তিনি ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে খুলনা পৌঁছে হেলিপ্যাড থেকে মাঠে আসেন ১২টা ২৪ মিনিটে। ৩৮ মিনিটে বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। বক্তব্য শেষ হওয়ার পর তিনি হেলিপ্যাডের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































