Apan Desh | আপন দেশ

বগুড়া-৩ আসনে জমেছে ভোটের লড়াই

বগুড়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭:৪৪, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

বগুড়া-৩ আসনে জমেছে ভোটের লড়াই

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশের মতো বগুড়াতেও জোর প্রচার–প্রচারণা শুরু হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পৈতৃক নিবাস হওয়ায় বগুড়া জেলা এবার জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

একই সঙ্গে জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলীয় ঐক্যজোট শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। যার ফলে রাজনীতির মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। ফলে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াত জোটকেই দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াতের সঙ্গে জোট না বেঁধে এককভাবে প্রার্থী দিয়ে আলোচনায় এসেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

জেলার প্রতিটি আসন ঘিরে চলছে নানা হিসাব–নিকাশ ও বিশ্লেষণ। বগুড়া-০৩ আসনের পরিস্থিতি ও জনমত জানতে ‘আপন দেশ’-এর বগুড়া প্রতিনিধি মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন। এ প্রতিবেদনে নিরপেক্ষভাবে প্রার্থী, কর্মী ও ভোটারদের ভাবনা, প্রত্যাশা ও অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।

ভোটার সংখ্যা ও প্রার্থী পরিচিতি:

বগুড়া-৩ আসনের ১২টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা মিলিয়ে মোট ভোটা ৩ লাখ ৩১ হাজার ৫৪০ জন। এবারে এ আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যেমন- আব্দুল মুহিত তালুকদার— বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি); মো. নূর মোহাম্মদ— বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী; শাহজাহান আলী তালুকদার— ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ; শাহিনুল ইসলাম — জাতীয় পার্টি (জেপি)।

গ্রামগঞ্জে বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ:

বগুড়া-০৩ আসনে নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। শহর ও গ্রামগঞ্জে দলীয় অংশগ্রহণ বাড়ছে। হাট-বাজার ও চায়ের দোকানে প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা চলছে। গ্রামীণ সড়কে ছোট ছোট দলে আনন্দমিছিলও চোখে পড়ছে। ভোটারদের ভাষায়, এবারের নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় গণতান্ত্রিক আবহ ফিরে আসছে।

স্থানীয়দের মতে, বিএনপির প্রার্থী আব্দুল মুহিত তালুকদার ও জামায়াতের প্রার্থী মো. নূর মোহাম্মদের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে কিছু বিশ্লেষক ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শাহজাহান আলী তালুকদারকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।

বিএনপির অবস্থান:

বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বলেন, ২০১৪ সালে বগুড়া-০৩ আসনে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন হয়নি। আমরা সে নির্বাচন বর্জন করেছিলাম। পোস্টার, ব্যানার ও মিছিল কিছুই ছিল না। ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়েও মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে। এ প্রত্যাখ্যানের মনোভাব থেকেই চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। এবার আমরা ঘরে ঘরে যাচ্ছি। ভোট চাইছি। জনগণের সাড়া ভালো পাচ্ছি। আমাদের সম্ভাবনাও শক্ত। আমরা মনে করি বিজয় আমাদের সুনিকটে।

নির্বাচনে জয়ী হলে উন্নয়ন প্রসঙ্গে দুপচাঁচিয়া উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মো. আফসার আলী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর বগুড়া-০৩ আসন উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে ছিল। আমরা আবার উন্নয়নের হাল ধরতে চাই। গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। হিন্দু-মুসলমানের বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় করবো। অমেরামত রাস্তাঘাট সংস্কার করবো। মসজিদ-মন্দিরের উন্নয়ন করবো। শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবো। ফ্যামিলি কার্ডসহ বিএনপির উত্থাপিত ৩১ দফা বাস্তবায়ন করবো।

জামায়াতের বক্তব্য:

জামায়াত প্রার্থী মো. নূর মোহাম্মদের কর্মী আব্দুল বারী বলেন, আমরা ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। ক্ষমতায় গেলে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন করবো। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সমস্যা সমাধান করবো। জনগণের দুর্ভোগ কমানো হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন <<>> যুবদল কর্মীর ঘুষিতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নিহত

সংখ্যালঘুদের প্রসঙ্গে তারা বলেন, সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করবে। কাউকে বাধা দেয়া হবে না। তারা গঙ্গায় স্নান করবে। আমরা সেখানে ওজু করবো।

ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান:

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শাহজাহান আলী তালুকদার বলেন, ইসলামী আন্দোলন শুধু দুপচাঁচিয়া-আদমদীঘিতেই নয়, সারাদেশে হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমি আমার আসনের প্রতিটি হিন্দু বসবাসরত গ্রামে গেছি। তাদের আশ্বস্ত করেছি। ফোন নম্বর দিয়ে এসেছি। পাঁচ আগস্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আসা পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রাতে পাহারা দিয়েছি। এতে প্রমাণ হয়, আমরা তাদের কোন চোখে দেখি।

প্রচারণা নিয়ে তার কর্মীরা বলেন, আমরা প্রতিটি বাড়িতে যাচ্ছি। জনগণের অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। এতে কর্মীদের ভেতরে নতুন সাহস তৈরি হচ্ছে। জনগণ আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করছে।

ক্ষমতায় গেলে পরিবর্তন প্রসঙ্গে শাহজাহান তালুকদার বলেন, এলাকায় যেসব অন্যায় চোখে পড়েছে, তার বিরুদ্ধে আমি সব সময় প্রতিবাদ করেছি। ক্ষমতায় গেলে ইনশাআল্লাহ বগুড়া-৩ আসনকে ঘুষ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত করবো। এছাড়া আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। আমি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক। সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের কাছে জিজ্ঞেস করলেই তা জানা যাবে। এ কারণেই জনগণ আমাকে গ্রহণ করবে বলে আশাবাদী।

ভোটারদের কথা:

সাধারণ ভোটাররা বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগে সবাই পরিবর্তনের কথা বলে। পরে নিজেরাই বদলে যায়। আমরা এমন একজন এমপি চাই, যিনি মানুষের সুখ–দুঃখে পাশে থাকবেন। স্বচ্ছ রাজনীতি করবেন।

তরুণ ভোটারদের প্রত্যাশা:

এক তরুণ বলেন, এখন পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারিনি। এবার ভোট দিতে আগ্রহী। তবু আগের অভিজ্ঞতা থেকে আতঙ্ক কাজ করছে। ১২ তারিখে জীবনের প্রথম ভোট দিতে পারবো কি না, সে দুশ্চিন্তা আছে।

অনেকে বলেন, তারা এমন প্রার্থী চান, যিনি কখনো অনৈতিক কাজে জড়াননি এবং এলাকায় বাস্তব উন্নয়ন করবেন।

বিশ্লেষকের মতামত:

অধ্যক্ষ ও স্থানীয় বিশ্লেষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে একটি স্থায়ী সরকার নির্বাচন করা এখন সবচেয়ে জরুরি। তাতে গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত হবে। সবকিছু ভালো মনে হলেও কিছু এলাকায় উত্তেজনা আছে। সংযম না থাকলে সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। সবাই গণতান্ত্রিক নিয়ম মেনে প্রচার চালালে জনসমর্থন হারাবে না।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়