ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করা অনলাইন স্ক্যাম এবং সাইবার অপরাধের সম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে বেইজিং। এরই অংশ হিসেবে মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের ত্রাস হিসেবে পরিচিত কুখ্যাত ‘বায়’ মাফিয়া পরিবারের আরও চার শীর্ষ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
গত বছরের নভেম্বরে বাই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়, যাদের মধ্যে পরিবারের প্রধান বাই সুওচেংও ছিলেন। তবে দণ্ডাদেশের পর অসুস্থ হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সর্বশেষ এ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে গত সপ্তাহে চীন মিং পরিবারের ১১ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেয়, যারা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্ক্যাম সেন্টারগুলোর সঙ্গে জড়িত আরেকটি অপরাধী চক্রের সদস্য ছিলেন।
আরও পড়ুন<<>>পাকিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নিহত ১৯৩
বছরের পর বছর ধরে বাই ও মিং পরিবার মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী শহর লাউক্কাইংয়ে আধিপত্য বিস্তার করে রাখে। সেখানে তারা ক্যাসিনো, যৌনপল্লি ও সাইবার প্রতারণা কেন্দ্র পরিচালনা করত। কর্তৃপক্ষ জানায়, শুধু বাই পরিবারই ৪১টি কম্পাউন্ডে এসব কার্যক্রম চালাত, যেখানে নির্যাতন, সহিংসতা ও জোরপূর্বক শ্রম ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। এসব অপরাধে একাধিক চীনা নাগরিক নিহত ও আহত হন।
২০২৩ সালে চীন মিয়ানমারের সামরিক সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং ওই এলাকায় জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অভিযানে পরোক্ষ সমর্থন দিলে এসব অপরাধী চক্রের পতন ঘটে। পরে আটক ব্যক্তিদের চীনের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং সেগুলো ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মাধ্যমে অনলাইন প্রতারণা চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতে চাচ্ছে বেইজিং—যেসব চক্র শত সহস্র মানুষকে পাচার করেছে এবং প্রধানত চীনা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে বিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































