বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনদিনের উত্তরবঙ্গ সফর শেষে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ঢাকায় ফিরেছেন তিনি। একদিন বিশ্রাম নিয়ে সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা ও যশোরে যাচ্ছেন বিএনপি প্রধান।
সফরসূচি অনুযায়ী, সোমবার বেলা ১১টায় হেলিকপ্টারে করে ঢাকা থেকে খুলনায় যাবেন তারেক রহমান। সেখানে সরকারি হাজী মুহাম্মদ মুহসিন কলেজ সংলগ্ন প্রভাতি স্কুল মাঠে বেলা ১২টায় সমাবেশে যোগ দেবেন।
খুলনার জনসভা শেষে হেলিকপ্টারে যশোরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তারেক রহমানের। বেলা ২টার দিকে জনসভায় তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ বক্তব্য দেবেন। এ সময় যশোর, নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়ার বিএনপির ২২ প্রার্থীকে জনসাধারণের কাছে পরিচয় করিয়ে দেবেন। সেখানে প্রার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেবেন।
দলীয় প্রধানের আগমন ঘিরে যশোর-কুষ্টিয়ার সাত জেলার নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তার আগমন ইচিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।
প্রথমবার দলীয় প্রধানের আগমন ঘিরে সাজ সাজ রব সমগ্র যশোরে। প্রস্তুত করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। শহর ছাড়াও জনসভাস্থলে তারেক রহমান ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদের বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে। রাজনৈতিক দলীয়প্রধানের জনসভাগুলো মূল শহরে হলেও জনদুর্ভোগ এড়াতে শহরের বাইরে আয়োজন করেছে বিএনপি। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার অপেক্ষায় যেমন একদিকে অধীর আগ্রহে নেতাকর্মীরা অন্যদিকে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে সবার মাঝে।
দলীয় প্রধানের আগমনকে স্বাগত জানিয়ে কয়েকদিন দিন আনন্দ মিছিল প্রচারণা চালিয়েছেন বিএনপির দলীয় প্রার্থী, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। রবিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে জনসভার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জেলা বিএনপি।
এতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বক্তব্য রাখেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনে তারেক রহমানকে বরণে দুই লাখের বেশি নেতাকর্মী প্রস্তুতি নিয়েছেন।
আরও পড়ুন<<>>তারেক রহমানে পক্ষে কোকোর স্ত্রীর উঠান বৈঠক
সংবাদ সম্মেলনে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, তারেক রহমানের যশোরে আগমন ঘিরে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নেতাকর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় প্রচার চালিয়েছেন। তারেক রহমান দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর আমাদের মাঝে শোক কাজ করছিল। জনগণ শোকাহত ছিলেন। কিন্তু তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের পর সারা দেশ নতুনভাবে জেগে উঠেছে। নতুন প্রত্যয়, নতুন চেতনা ও নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়েছে।
তারেক রহমানের সফর ঘিরে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন। তার আগমন ও কর্মসূচি ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা ও ট্রাফিক পুলিশের একাধিক টিম মাঠে দায়িত্ব পালন করছে।
রোববার বিকালে জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জনসভাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জনসমাবেশ ঘিরে আমরা নিরাপত্তা জোরদার করেছি। সমাবেশে আসা-যাওয়ার রাস্তা সব সময় পুলিশের নজরদারিতে থাকবে। এ ছাড়া গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা আলাদাভাবে করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, তারেক রহমান গত ২২ জানুয়ারি সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ থেকে নির্বাচনি প্রচারাভিযান শুরু করেন। সেদিন তিনি মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী সমাবেশ করেন।
এরপর ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম থেকে প্রচারাভিযান শুরু করেন তারেক রহমান। সেখান থেকে তিনি ফেনী, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, সোয়াগাজী, দাউদকান্দি, নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী সমাবেশ করে ঢাকায় ফেরেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান উত্তরাঞ্চল সফর শুরু করেন ২৯ জানুয়ারি। তিন দিনের সে সফরে তিনি রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, রংপুরে, সিরাজগঞ্জে ও টাঙ্গাইল নির্বাচনি সমাবেশ শেষে ঢাকায় ফেরেন শনিবার। ২২ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ২২টি নির্বাচনি সমাবেশে করেছেন তারেক রহমান।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































