ছবি : আপন দেশ
মাঘ মাসের অর্ধেক পেরিয়ে প্রতিদিনই কমেছে শীতের আমেজ। দেশজুড়ে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রচারণায় প্রতিপক্ষকে ঘায়েলে ব্যস্ত। এনিয়ে সমর্থকদের মধ্যে বাড়ছে উত্তাপ। এগিয়ে আসছে পবিত্র মাহে রমজান। ফুরিয়ে আসছে শীতকালীন সবজির সরবরাহ। এমন পরিস্থিতিতে বাজারে মাছ, মাংস, মুরগি ও ডালের দাম ঊর্ধ্বমুখী।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। বিক্রেতারা জানান, শীতের সবজির মৌসুম প্রায়ই শেষ পর্যায়ে, সরবরাহ কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তাই কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।
তবে বেশির ভাগ সবজির কেজি কেনা যাচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। নতুন আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়। এ ছাড়া মান ও জাতভেদে শিম ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শালগম ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং বেগুন ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বরবটির দাম কিছুটা বেশি; প্রতি কেজি কিনতে গুনতে হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা। গত সপ্তাহের তুলনায় টমেটোর দাম আরও কমেছে। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। আকারভেদে প্রতিটি ফুলকপি ৩০ থেকে ৪০ এবং বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় কেনা যাচ্ছে। মুলার কেজি কেনা যাচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে। গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।
তবে গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগির প্রতি কেজিতে বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। বিপরীতে ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন মিলছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত সপ্তাহে দাম ছিল ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। একইভাবে দর বেড়েছে সোনালি জাতের মুরগিরও। এ জাতের মুরগি কিনতে ক্রেতাকে কেজিতে গুনতে হচ্ছে ২৭০ থেকে ৩০০ টাকা। গত সপ্তাহে ছিল ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা।
মুরগির দাম বাড়লেও স্বাভাবিক রয়েছে ডিমের বাজার। ফার্মের বাদামি রঙের প্রতি ডজন ডিম কমবেশি ১১০ টাকা এবং সাদা রঙের ডিমের ডজন ১০০ টাকায় কেনা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন<<>>সবজির বাজার চড়া, কমেছে ডিমের দাম
এদিকে মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৪৬০ টাকা, বাইন ৬০০ টাকা, শিং ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা এবং টাকি ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে চিংড়ির দাম তুলনামূলক বেশি। আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজিতে খরচ করতে হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা।
রোজা সামনে রেখে সুগন্ধি চালের দাম বাড়িয়েছেন সরবরাহকারীরা। এরই মধ্যে পোলাও চালের দাম বেড়ে গেছে অস্বাভাবিকভাবে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজি বেড়েছে প্রায় ২০ টাকা। বাজারে খোলা পোলাওর চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩৮ থেকে ১৪০ টাকা দরে। প্যাকেটজাত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের চালের দর বেড়েছে আরও বেশি। ব্র্যান্ডভেদে প্রতি কেজি চাল কিনতে ক্রেতাকে খরচ করতে হবে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। এ ছাড়া সরু বা মিনিকেট চালের দাম আগের মতোই চড়া। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। তবে মাঝারি ও মোটা চালের দর কিছুটা কমেছে। প্রতি কেজি মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৩ এবং মাঝারি মানের চালের কেজি কেনা যাচ্ছে ৫৫ থেকে ৫৬ টাকায়।
এছাড়া মানভেদে প্রতিকেজি আদা ও রসুন ১৪০-২২০ টাকায়, চিনি ৯৮-১০৫ টাকায়, পেঁয়াজ ৫০-৭০ টাকায়, ছোলা ৮০-১০০ টাকায়। বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কিছুটা কমেছে। মুদি পণ্যের বিক্রেতারা জানিয়েছেন, কয়েক দিন ধরে সরবরাহকারীদের (ডিলার) কাছ থেকে চাহিদামতো সয়াবিন তেল পাচ্ছেন না খুচরা বিক্রেতারা। তবে দাম বাড়েনি। বাজারে ছোট দানার মসুর ডাল ১৬০–১৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তিন সপ্তাহ আগে এ দাম কেজিতে ২০ টাকা কম ছিল। অবশ্য মোটা দানার মসুরের দাম কেজিতে ৫ টাকা কমে ৮৫–৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বেড়েছে লেবুরও।
গরুর মাংসের কেজি ৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকা। গরুর মাংসের বিক্রেতা জানান, আগে মানুষ সলিড মাংস নিতে পারত, কিন্তু এখন দাম বাড়ায় মাথার মাংসের সঙ্গে মিলিয়ে বিক্রি করা লাগে। আর আগের মতো ক্রেতাও নেই। দোকানে প্রায় অলস সময় পার করা লাগে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।



































