Apan Desh | আপন দেশ

ইইউ’র সঙ্গে বাংলাদেশের দ্রুত এফটিএ শুরুর আহবান প্রধান উপদেষ্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২০:৩১, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ২০:৩২, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ইইউ’র সঙ্গে বাংলাদেশের দ্রুত এফটিএ শুরুর আহবান প্রধান উপদেষ্টার

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরু করার আহবান জানিয়েছেন।

রোববার (০১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্সের (ইউরোচেম) চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। 

সাক্ষাৎকালে ড. ইউনূস বলেন, বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বাংলাদেশের রফতানি অব্যাহত রাখতে এখন প্রস্তুতি নেয়া জরুরি। বিশেষ করে তৈরি পোশাকের রফতানির ক্ষেত্রে এ বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।

বৈঠকে আলোচনা হয় বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়ানো, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ জোরদার করা এবং বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্য সম্পর্ক মসৃণ করার বিষয়ে। এছাড়া আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়।

ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পন্ন করেছে। এতে ৭,৩০০-এর বেশি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউরোপসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নেয়া সম্ভব।

আরও পড়ুন <<>> পে স্কেলের দাবিতে কর্মবিরতিতে সরকারি কর্মচারীরা

তিনি বলেন, জাপানের সঙ্গে ইপিএ বাংলাদেশের রফতানিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ হলে আমাদের বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে।

ইউরোচেমের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেন, এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ ইইউর বাজারে বিদ্যমান সুবিধা হারাতে পারে। তাই এফটিএ নিয়ে আলোচনা জরুরি। এ ধরনের চুক্তি হলে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়বে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। উন্নত বাজারে রফতানিও জোরদার হবে।

তিনি বলেন, ভারত ইতোমধ্যে ইইউর সঙ্গে এফটিএ করছে। ভিয়েতনামও এর সুবিধা পাচ্ছে। ফলে তারা ইউরোপীয় বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করেছে। আমরা এফটিএ পক্ষে কাজ করছি। ইউরোপে গিয়ে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে।

ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশ-ইউর বাণিজ্য সম্পর্কের ধরন বদলাবে। তবে তা ২০২৯ সালের আগে নয়। বাংলাদেশ ২০ কোটি মানুষের বাজার। ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি আনার বিষয়ে ইইউ আগ্রহী। ২০২৬ সালে একটি ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আয়োজনের প্রস্তুতিও রয়েছে।

ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান বড় সুযোগ পেতে পারে। দক্ষ শ্রমশক্তি এবং কম ব্যয় বাংলাদেশের শক্তি। সরকার একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তুলছে। লক্ষ্য বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত করা।

তিনি ইউরোপীয় পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক উল্লেখ করেন। বলেন, তাদের উপস্থিতি গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের আস্থার প্রতীক। নির্বাচনী প্রচারের পরিবেশ এখন পর্যন্ত ইতিবাচক।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়