ছবি: আপন দেশ
ব্রাত্যভাষা
কেননা আমি বড্ড অসময়ের এক আগন্তুক—
হয়তো গত শতাব্দীর কোনো বাতিল অচল মুদ্রা;
আমার এই স্ব-অচলায়তনের গোপন কথাগুলো
তোর কাছেই বলে ফেলবো বলে ভাবছি।
খাঁচায় আবদ্ধ তোতাপাখিদের মতো শেখানো বোলে
আমি সত্যিই বীতশ্রদ্ধ;
পাঠশালায় যে আদর্শের মহাসত্যগুলো গিলেছিলাম,
পরম সত্য বলে, গোগ্রাসে—
আজ সেসব মহা-অসত্যের রঙিন ফুলঝুরি মনে হয়।
তুই তো জানিস নিশিকান্ত,
আমার এই কাটখোট্টা মুখে কোনো তৈল-স্রোত নেই;
তাই বরাবরই আমার জিহ্বা থমকে যায়—
এ বাজারের ঝকঝকে লেনদেনে আমি এক প্রত্যাখ্যাত উপাখ্যান।
নিশিকান্ত,
এই যে চারদিকে সস্তা ফেনিল ঢেউ,
এসবের ভিড়ে আমি বরাবরই অক্ষম।
অনেক চেষ্টা করেও তোতা-মিছিলে নাম লেখাতে পারিনি,
আর তাই আমার সুর সময়ের উল্টো রথের।
তুই কি অস্বীকার করতে পারবি, নিশিকান্ত?
কীভাবে প্রায় সবাই ব্যাকরণের নির্ভুল ছাঁচে পাউডার মেখে
সাজিয়ে রাখে তাদের যত সব দুর্গন্ধময় পুঁজ!
যাকে তোরা আলো ভেবে উচ্ছ্বসিত,
আমার চোখে তা কেবল পালিশ করা এক মিথ্যে মুখোশ!
এই অবেলায়, তোর নিশ্চুপ নির্লিপ্ততার কাছেই
আমার যত অভিমান জমা রাখি।
তুই তো জানিস, এই আগন্তুকের কোনো উচ্চবিলাস ছিলো না—
আছে শুধু তোর চোখের আয়নায় এক চিলতে অকৃত্রিম ঘর।
তোর কাছে আমার নিতান্তই একটা জিজ্ঞাসা, নিশিকান্ত—
এই যে মহা-অসত্যের আসরের মহামারি,
সেখানে আমাদের এই 'অচল' সত্যগুলোই কি
সবচেয়ে দামী অলঙ্কার ছিল না?
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































