Apan Desh | আপন দেশ

ঈদের আগে লাগামহীন নিত্যপণ্যের বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১২:২৭, ১৫ মে ২০২৬

ঈদের আগে লাগামহীন নিত্যপণ্যের বাজার

ছবি: আপন দেশ

পবিত্র ঈদুল আজহা আসন্ন। এক একটি দিন যাচ্ছে, আর সীমিত আয়ের মানুষের দুঃশ্চিন্তা বাড়ছে। আয় না বাড়লেও ব্যায় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুন। মাছ, মাংসের ধারে যেতে না পারাদের ভরসা সবজি আর ডিম। গরিবের ভরসার এসব পণ্যের দামও ক্রমেই নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। নিত্যপণ্যের বাজার লাগামহীন হওয়ায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে স্বল্প আয়ের মানুষ। 

বাজারে শীত-গ্রীষ্মের সব ধরনের সবজি পাওয়া গেলেও কমেনি দাম। অধিকাংশ সবজি ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। টমেটোর দাম বেড়ে ১২০ টাকায় ছুঁয়ে গেছে। ঈদ ঘনিয়ে আসায় আদা কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। নতুন করে দাম বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের। একই সঙ্গে গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া অস্থিরতা এখনো চলছে ডিমের বাজারে। সস্তা প্রোটিনের উৎস হিসেবে পরিচিত এ পণ্যের দাম আরও বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সব ধরনের পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। তাই কমছে না কোনো জিনিসের দাম। 

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি, পাঙাশ, তেলাপিয়া মাছ ও বিভিন্ন সবজির দাম বেশি ভোগাচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

বাজারে এখনো শীতের কপি, টমেটো বিক্রি হচ্ছে। গ্রীষ্মকালের সবজিতেও ভরে আছে বাজার। তার পরও কমছে না দাম। সব সবজি যেন ১০০ টাকা কেজিতে স্থির হয়ে গেছে। বিভিন্ন বাজারের অধিকাংশ দোকানে কাঁকরোল ১২০ টাকা কেজি, বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটোল ১০০ থেকে ১২০, হাইব্রিড শসা ৭০ থেকে ৮০, দেশি শসা ১০০ থেকে ১২০, বরবটি ও কচুরলতি ৮০ থেকে ১০০, কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৪০, শজনেডাঁটা ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া করলা ৮০ থেকে ১০০, ঢ্যাড়স ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। আগের সপ্তাহে টমেটো ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল ১০০ থেকে ১২০ টাকায় ঠেকেছে। গ্রীষ্মকালের ঝিঙা, ধুন্দুল, চিচিঙাও ১০০ টাকার কমে মিলছে না বাজারে। অন্য সবজিও উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা পেঁপে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় মিলছে। 

রাজধানী মুগদা বাজারের বিক্রেতারা জানান, সরকার তেলের দাম বাড়িয়েছে। এর প্রভাবে সব কিছুর দাম বেড়ে গেছে। আড়ত থেকে সব সবজিই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। অপরদিকে ক্রেতা মাহমুদুল হাসান বলেন, সব সবজিরই দাম ১০০ টাকার ওপরে। এত দাম! 

আরেক ক্রেতা লাগামহীন দামে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাজার সবজিতে ভরা, তার পরও দাম কমে না। অদ্ভুত ব্যাপার। 

আরও পড়ুন<<>>নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে বিপাকে স্বল্প আয়ের মানুষ

সবজির চড়া দামের কারণে বাজারে ডিমের চাহিদা বেড়েছে। ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজন ডিমের ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে ফার্মের বাদামি রংয়ের ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা। সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা ডজন। রাজধানীর পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে আরো বেশি দামে ডিম বিক্রি হতে দেখা গেছে। 

আগের সপ্তাহের মতোই সোনালি মুরগির কেজি ৩৬০ থেকে ৩৭০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৯০, দেশি মুরগি ৬৫০ থেকে ৭০০, গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ ও খাসির মাংস ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। 

মুরগির মতো মাছও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ৫০০ গ্রামের ইলিশ মাছ ৮০০ টাকা, ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুই, কাতল মাছও আগের মতো ৩৬০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, নদীর চিংড়ি, কাজলি, ট্যাংরাসহ নদীর অন্যান্য মাছ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে চাষের এসব মাছ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। তেলাপিয়া মাছও আকারভেদে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি, পাঙাশ ২০০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। 

কয়েক মাস থেকে আদা ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসায় দাম বাড়তে শুরু করেছে। আদা ২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। তবে আগের মতোই আলু ২০ থেকে ২৫, দেশি রসুন ১০০, চায়নাটা ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

আসন্ন কোরবানির ঈদ সামনে রেখে বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ এখন ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে। এ হিসাবে সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

হাওরে ধান ওঠা শুরু হলেও কমেনি চালের দাম। আগের মতো মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি, আটাশ ৬০ থেকে ৬৫ এবং মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়। তবে দেশি মসুর ডাল ১০ টাকা কমে ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। ২ কেজির প্যাকেট আটা ১২০ থেকে ১৩০, চিনি ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।

স্বস্তি নেই ভোজ্যতেলের বাজারে। সরকার দর নির্ধারণ করে দিলেও সে দরে বাজারে তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে ভোক্তারা অভিযোগ করেছেন। বর্তমানে বাজারে খোলা সয়াবিন তেল ১৯২ থেকে ১৯৫ টাকা এবং পাম অয়েল ১৭৮ থেকে ১৮০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু সম্প্রতি খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটার প্রতি ১৮০ টাকা এবং খোলা পাম অয়েলের দাম ১৬৬ টাকা নির্ধারণ করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুসারে, গত এক মাসের মধ্যে বাজারে আটা, ময়দা, সয়াবিন ও পাম তেল, মসুর ডাল, পেঁয়াজ, মুরগি, ডিম, বিভিন্ন ধরনের মাছ, মাংস ও মসলার দাম বেড়েছে। এর মধ্যে কোনো কোনো পণ্যের দাম গত বছরের এ সময়ের তুলনায় বেশি। যেমন বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম গত বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়