Apan Desh | আপন দেশ

হরমুজ সংকটে ট্রাম্পের কূটনীতি ব্যর্থ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৮:৪৪, ২৭ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ২০:২৯, ২৭ মার্চ ২০২৬

হরমুজ সংকটে ট্রাম্পের কূটনীতি ব্যর্থ

ফাইল ছবি

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি প্রায় চার সপ্তাহ ধরে কার্যত বন্ধ। পারস্য উপসাগরের এ সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এ পথ অচল হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে খাদ্য উৎপাদন, শিল্প খাত এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে।

এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও শক্তি-নির্ভর কূটনীতির পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন এবং মার্কিন নৌবাহিনীর পাহারায় তেলবাহী জাহাজ পার করে দেয়ার পরিকল্পনার কথা বলছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ পদক্ষেপ বাস্তবসম্মত সমাধানের চেয়ে শক্তি প্রদর্শনের কৌশল হিসেবেই বেশি প্রতীয়মান হচ্ছে।

আরও পড়ুন<<>> যুদ্ধ শেষ করতে চান ট্রাম্প

কারণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান তাদের বড় সুবিধা দিচ্ছে। সংকীর্ণ জলপথ এবং উপকূলবর্তী অবস্থানের কারণে ইরান সহজেই নজরদারি ও হামলার সক্ষমতা ধরে রেখেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপ্রচলিত যুদ্ধকৌশল- বিশেষ করে কম খরচের ড্রোন ও সমুদ্রমাইন। এসব কৌশলের কারণে উন্নত যুদ্ধজাহাজ ও বিশাল সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে প্রতিটি জাহাজ নিরাপদে পার করানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইরানের আর্থিক সুবিধা অর্জনের বিষয়টি। গত ২৩ মার্চ ‘লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, অন্তত দুটি জাহাজ নিরাপদে পার হওয়ার জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করেছে। ইরানি কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কিছু জাহাজকে নিরাপদে পার করে দেয়ার বিনিময়ে এ ফি নেয়া অব্যাহত থাকবে। এতে প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কার্যত ইরানের হাতেই রয়েছে বলে ধারণা জোরদার হয়েছে।

 আরও পড়ুন<<>> জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে জানাল কর্তৃপক্ষ

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘদিনের চাপ ও হুমকিনির্ভর নীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। কূটনৈতিক সমাধানের বদলে সামরিক অবস্থান জোরদার করার প্রচেষ্টা উত্তেজনা কমানোর পরিবর্তে বাড়িয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালির চলমান সংকট তাই শুধু জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতাকেও সামনে এনে দিয়েছে। শক্তি প্রদর্শনের ঘোষণার মধ্যেও বাস্তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারা ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক ব্যর্থতার দিকটিই এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সূত্র: সিএনএন

আপন দেশ/এবি

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement