ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে চান বলে জানিয়েছেন। তিনি তার ঘনিষ্ঠ সহকারীদের বলেছেন, সম্ভব হলে আগামী চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যেই এ সংঘাতের অবসান চান।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর প্রায় এক মাস পর ট্রাম্প মনে করছেন সংঘাত এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ে ট্রাম্পের বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বৈঠকের আগেই যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে তার।
তবে বাস্তবে পরিস্থিতি জটিল। শান্তি আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং ট্রাম্পের হাতে কার্যকর বিকল্পও সীমিত। এদিকে, তিনি মাঝেমধ্যে মনোযোগ সরিয়ে নিচ্ছেন অন্যান্য ইস্যুতে—যেমন মধ্যবর্তী নির্বাচন, অভিবাসন নীতি ও ভোটার আইন। এমনকি এ যুদ্ধকে তিনি কখনো কখনো ‘বিভ্রান্তি’ হিসেবেও দেখছেন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট একাধিক বিষয় একসঙ্গে সামলাতে সক্ষম এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক লক্ষ্য পূরণে তিনি পুরোপুরি মনোযোগী। তার একমাত্র লক্ষ্য ‘বিজয়’।
সম্প্রতি ট্রাম্প কূটনীতির দিকেও কিছুটা ঝুঁকেছেন। ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি থেকে তিনি আংশিক সরে এসেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রস্তাব আদান-প্রদান করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আরও পড়ুন <<>> যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবে ইরানের আনুষ্ঠানিক জবাব
তবে চাপ বজায় রাখতে পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে। ট্রাম্প সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের কিছু তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ধারণাও তুলেছেন, যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেই।
তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান আলোচনায় না এলে সামরিক পদক্ষেপ বাড়ানো হবে। তবে ইরানের মাটিতে স্থলসেনা পাঠাতে অনীহা রয়েছে তার, কারণ এতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে পারে। এখন পর্যন্ত এ সংঘাতে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের মতে, তার অবস্থান কখনো কূটনীতি, আবার কখনো সামরিক কঠোরতার দিকে দোদুল্যমান। কিছু উপদেষ্টা ইরানে শাসন পরিবর্তনের পক্ষে মত দিচ্ছেন, যা ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে যুদ্ধের সমাপ্তি পুরোপুরি তার নিয়ন্ত্রণে নয়। তেহরান এখনো সরাসরি আলোচনায় রাজি হয়নি। হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও ঝুঁকিপূর্ণ, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে ইসরায়েল নিজস্ব সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোও পাল্টা পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।
এদিকে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে চাপ বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে দ্রুত হামলার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এ কৌশলকে ‘বোমা দিয়ে দরকষাকষি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ সংঘাতকে একটি সীমিত ‘সামরিক অপারেশন’ হিসেবে দেখছেন। দেশের ভেতরেও তিনি রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন। মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক উদ্বেগ মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।
এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ট্রাম্প রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। মার-এ-লাগোতে এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, যুদ্ধ ‘খুব ভালোভাবেই এগোচ্ছে’।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































