ছবি: আপন দেশ
‘মৌমাছি, মৌমাছি, কোথা যাও নাচি নাচি/ দাঁড়াও না একবার ভাই।’ নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের এ কবিতাটি ছোটবেলায় পড়ে নাই এমন মানুষ পাওয়া দুস্কর। প্রকৃতির এক অত্যন্ত উপকারী ও পরিশ্রমী পতঙ্গ মৌমাছি। মধু, মোম এবং ফুলের পরাগায়ণের মাধ্যমে পরিবেশ ও কৃষিতে এদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ কারণে আজ ২০ মে (বুধবার) বিশ্ব মৌমাছি দিবস।
২০১৮ সাল থেকে জাতিসংঘের উদ্যোগে প্রতিবছর এদিনে বিশ্ব মৌমাছি দিবস পালিত হয়ে আসছে। আধুনিক মৌমাছি পালনের জনক হিসেবে পরিচিত স্লোভেনীয় মৌমাছি পালক অ্যান্টন জনসার জন্মদিন ১৭৩৪ সালের ২০ মে। তার এ জন্মতারিখকে স্মরণীয় করে রাখতেই এ দিনটি নির্ধারণ করা হয়।
এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য— “Bee inspired by nature to nourish us all” (প্রকৃতি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সবার পুষ্টি নিশ্চিত করি)।
আমাদের পরিবেশকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য, বাসযোগ্য করে তোলার জন্য মৌমাছি পরিবেশে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সে সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর আজকের এ দিনটি পালিত হয়। বাস্তুতন্ত্রের সবচেয়ে পরিশ্রমী প্রাণী হিসেবে মৌমাছি অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা দরকার। মৌমাছি, প্রজাপতির মতো পরাগ বহনকারী কীটপতঙ্গ রক্ষার গুরুত্ব এবং জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখার জন্য ও পরিবেশে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য প্রতি বছর পালিত হয় বিশ্ব মৌমাছি দিবস।
নগরায়ণ, শিল্পায়ন, পরিবেশ ধ্বংসের কারণে আজ মৌমাছি এবং অন্যান্য পরাগায়নকারী যেমন প্রজাপতি, বাদুড় এবং হামিংবার্ড বিলুপ্তির পথে। এ সব পরাগ বহনকারী কীটপতঙ্গ খাদ্যশস্য সহ একাধিক উদ্ভিদের প্রজননে সহায়ক। তাই পরিবেশে এ সব পরাগ বহনকারী কীটপতঙ্গের স্থায়িত বজায় রাখার জন্য পালিত হয় এ দিনটি।
জাতিসংঘের তরফ থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল যে প্রতি বছর ২০ মে বিশ্ব মৌমাছি দিবস পালিত হবে। কিন্তু ২০ মে-ই কেন? এর পিছনেও রয়েছে একটি কারণ। ২০ মে হল অ্যান্টন জনসার জন্মদিন। অ্যান্টন জনসা হলেন স্লোভেনীয় মৌমাছি পালক। অ্যান্টন জনসা আধুনিক মৌমাছি পালনের জনকও বলা হয়।
আরও পড়ুন<<>>ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস আজ
২০১৬ সালে স্লোভেনিয়া সরকার ২০ মে বিশ্ব মৌমাছি দিবস হিসাবে উদযাপনের ধারণাটি প্রস্তাব করেছিল এবং এটি ২০১৭ সালে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলি দ্বারা অনুমোদিত হয়েছিল।
বিশ্বের বেশিরভাগ বন্য ফুলের গাছ প্রাণীর পরাগায়নের উপর আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে। শুধু ফুলের গাছ নয়, খাদ্যশস্যের ৭৫ শতাংশেরও বেশি এবং বিশ্বব্যাপী কৃষি জমির ৩৫ শতাংশও পরাগায়নের ওপর নির্ভরশীল।
পরাগায়নকারীরা শুধুমাত্র বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তায় অবদান রাখে না বরং তারা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং অনেক উদ্ভিদের বেঁচে থাকা ও প্রজনন নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ ভূমিকা পালন করে। মৌমাছিরা বনের পুনর্জন্মকে সাপোর্ট করে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে স্থায়িত্ব এবং অভিযোজন প্রচার করে।
মৌমাছি প্রকৃতির এক অত্যন্ত উপকারী ও পরিশ্রমী পতঙ্গ। মধু, মোম এবং ফুলের পরাগায়ণের মাধ্যমে পরিবেশ ও কৃষিতে এদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পৃথিবীর প্রায় সব অঞ্চলে মৌমাছি দেখা যায়, শুধু অ্যান্টার্কটিকায় এদের অস্তিত্ব নেই। বাংলাদেশে সাধারণত যে মৌমাছি বেশি দেখা যায়, তার বৈজ্ঞানিক নাম Apis indica।
বাংলাদেশেও কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় মৌমাছির গুরুত্ব বাড়ছে। মধু উৎপাদনের পাশাপাশি সরিষা, লিচু, সূর্যমুখীসহ বিভিন্ন ফসলের ফলন বাড়াতে মৌমাছি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিশ্বে প্রায় ২০,০০০ প্রজাতির মৌমাছি রয়েছে। মৌমাছিরা উপনিবেশে থাকে। প্রতিটি কলোনির রানী, কর্মী এবং ড্রোন রয়েছে। ড্রোনটিতে সমস্ত পুরুষ মৌমাছি থাকে, শ্রমিক মৌমাছি ড্রোনটিকে পরিষ্কার করে। কর্মীরা পরাগ এবং অমৃত সংগ্রহ করে এবং বাচ্চাদের যত্ন নেয়। ড্রোন মৌমাছি কেবল রানী মৌমাছির সঙ্গে সঙ্গম করে। রানী মৌমাছি কেবল ডিম দেয়ার কাজ করে। মৌমাছিরা গণতন্ত্র অনুসরণ করে। নতুন বাড়ি বাছাই করতে তাদের আলোচনা হয়।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































