পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি
শিক্ষার্থীদের রাজনীতি থেকে বিমুখ হওয়া উচিত নয়। দেশের স্বার্থে সচেতনভাবে ছাত্ররাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়া প্রয়োজন। ছাত্ররাজনীতিকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির অন্যতম প্রধান ভিত্তি বলে মন্তব্য করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, ছাত্ররাজনীতি থেকে গড়ে ওঠা নেতৃত্বই রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘সিটিজেন ডায়ালগ: ম্যানিফেস্টো টু অ্যাকশন চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ছাত্ররাজনীতি থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে সরে যাওয়ার প্রবণতাকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, আমরা যদি বলি ছাত্ররাজনীতি করব না, তাহলে ক্ষতিটা দেশেরই হবে। হাজার হাজার শিক্ষার্থী যখন রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকে, সেটাই ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির ভিত্তি হয়।
নিজের ছাত্রজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আমি চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে পারতাম। কিন্তু ছাত্ররাজনীতির পথ বেছে নেয়ার কারণে জাতীয় রাজনীতিতে বৃহত্তর পরিসরে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।
তিনি বলেন, আমি যদি শিক্ষক হতাম, হয়তো আমার বিষয় অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল টেকনোলজির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতাম। কিন্তু ছাত্ররাজনীতি আমাকে সমাজ, রাষ্ট্র ও মানুষের নানা দিক বোঝার সুযোগ দিয়েছে।
আরও পড়ুন<<>>হামের প্রাদুর্ভাব, চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজের রাজনৈতিক যাত্রার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আমি হলের জেনারেল সেক্রেটারি ছিলাম, ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলাম, তিনবার সিনেট সদস্য হয়েছি। ছাত্রদলের সদস্য সম্পাদক থেকে কেন্দ্রীয় সভাপতি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছি। এ অভিজ্ঞতাই আমাকে জাতীয় রাজনীতিতে কাজ করার সক্ষমতা দিয়েছে।
সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে পানিসম্পদ মন্ত্রী জানান, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। খাল খনন পানি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর এবং গ্রামীণ অর্থনীতি জড়িত। আগামী ৫০ বছর টিকে থাকতে হলে এ কর্মসূচির বিকল্প নেই।
পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ দুটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে।
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বর্তমান সরকার মাত্র তিন মাসে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। দেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ৪০ লাখ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়। যার মধ্যে ৫ লাখ টন ইলিশ। বিশ্বের মোট ইলিশ উৎপাদনের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়।
চিংড়ি রফতানি বাড়ানোর উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের চাহিদা পূরণ করে ভবিষ্যতে মাছ ও গবাদিপশু খাত থেকেও বড় ধরনের রফতানি আয় সম্ভব।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। এছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালক করেন চ্যানেল ওয়ানের সিনিয়র সাংবাদিক হাবিব রহমান ও ব্রাইটার্স ফারিহা অমি।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































