ছবি: আপন দেশ
স্বার্থপরতার জাঁতাকলে পিষ্ট আমাদের এ পৃথিবী। যেখানে মানুষ কেবল নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। তবে এখানেও কিছু মানুষ জন্মায়, যারা অন্যের দুঃখে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চায়। এমনই একদল স্বপ্নবাজ তরুণের হাতে গড়ে ওঠে ‘বাঁচতে হবে ফাউন্ডেশন’ নামে একটি মানবিক সংগঠন। যার নেতৃত্ব দেন শাকিল আহমেদ।
২০২০ সালের এক অনিশ্চিত সময়ে জ্বেলে উঠেছিল বাঁচতে হবে ফাউন্ডেশন। আজ তা হাজারও মুমূর্ষু মানুষের বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। এ সংগঠনের মাধ্যমে বলা যেতেই পারে, এক নিঃস্বার্থ মানবিক বিপ্লব ঘটেছে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পারখী ইউনিয়ন এলাকায়।
যেকোনো মহৎ কাজের পেছনে থাকে এক বলিষ্ঠ সংকল্প। এখানেও এর ব্যতিক্রম নয়। একদল স্বপ্নবাজ তরুণ ও তাদের সৎ সাহস এ বিপ্লবের মূলভিত্তি। বাঁচতে হবে ফাউন্ডেশনের সে স্বপ্নের কাণ্ডারিরা হলেন সাহেদ সাব্বির, শাহাদাত মন্ডল, মহিউদ্দিন, শরিফুল সোহান, তাহমিদ রুবেল, শাওন ইসলাম, সোলায়মান মিয়া, মো. নুরনবী, মো. ইয়ামিন, আলহাজ আহামেদ, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। এছাড়াও সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে আসছেন তাফিদুল মন্ডল।
এ তরুণ দল কেবল একটি নাম বা সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেননি। তারা গড়ে তুলেছেন এক বিশাল মানবিক পরিবার। যখন গভীর রাতে কোনো অজ্ঞাত রোগীর রক্তের প্রয়োজনে শহর নিস্তব্ধ, তখন এ তরুণদের নেতৃত্বেই নতুন আলোর দেখা পেয়েছেন সে সব ভীত পরিবার। এর পেছনে শুধু তারা নন, এর আড়ালে-আবডালে আরও অনেক কমরেড নীরবে শ্রম দিয়েছেন। সকলের এ নিখাদ ভালোবাসা ও আত্মদানের কারণেই লেখা যাচ্ছে বাঁচতে হবে ফাউন্ডেশনের নাম।
আরও পড়ুন <<>> ভারতে পাচারের সময় বিষ্ণুমূর্তি জব্দ, গ্রেফতার ২
একটি সংগঠনকে সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন সঠিক নেতৃত্বের। প্রায় অর্ধযুগ আগে যাদের হাত ধরে এ সংগঠন গড়ে ওঠে, তারা অনেকেই এখন দূর থেকে ভালোবাসা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে শিকড় বা ভিত্তিকে উপড়ে ফেলা কঠিন। জীবনের প্রয়োজনে ছুটে চলার এ পৃথিবীতে বাঁচতে হবে ফাউন্ডেশনের নেতৃত্ব ঘুরে ঘুরে আসবে তরুণতুর্কিদের হাতে।
এমনই দুজন তরুণ আব্দুর রাকিব ও রিয়াজ আহমেদের কাঁধে পড়েছে ফাউন্ডেশনের ভার। তাদের বলিষ্ঠ সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তরুণদের উজ্জীবিত করার ক্ষমতায় এগিয়ে যাচ্ছে এ সংগঠন।
বাঁচতে হবে ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয় রক্তদানের মাধ্যমে। তবে এখন আর রক্তদানে সীমাবদ্ধ নয় সংগঠনটি। তাদের কাজের পরিধি বেড়েছে কয়েকগুণ। মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে রক্তের যোগান দেয়ার পাশাপাশি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন করা হচ্ছে। যার মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে বাড়ছে রক্ত নিয়ে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা।
এছাড়াও অসহায়দের পাশে দাঁড়াচ্ছে বাঁচতে হবে ফাউন্ডেশন। সমাজ ও রাষ্ট্রের সুবিধাবঞ্চিতদের যেকোনো সংকটে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু করেছে সংগঠনটি। তা হলো সবুজায়ন করা। যার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে নাম লিখিয়েছে সংগঠনটি। ‘সবুজ বাঁচলে বাঁচবে দেশ’—এ মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে তারা নিয়মিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করছে। যেন আগামী প্রজন্ম একটি নিরাপদ, অক্সিজেনসমৃদ্ধ পৃথিবী পায়—এ আশায়।
বর্তমানে পারখীর বহরমপুর বাজারে সংগঠনের অস্থায়ী প্রধান কার্যালয়। এখান থেকে সংগঠনের মানবিক কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে তাদের লক্ষ্য আরও সুদূরপ্রসারী।
প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা জানান, আমাদের কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া নেই। আমরা শুধু চাই, রক্তের অভাবে যেন কোনো কোল খালি না হয়।
সমাজের বিত্তবান ও সুশীল সমাজ যদি এ তরুণদের পাশে দাঁড়ায়, তবে ‘বাঁচতে হবে ফাউন্ডেশন’ হয়ে উঠতে পারে সমগ্র বাংলার অনুপ্রেরণা। এ জন্য প্রয়োজন ঐক্য, সাহস ও উদার মন। আসুন, এ মানবিক যোদ্ধাদের উৎসাহ দিই। কারণ তারা লড়ছে বলেই আপনার দুঃসময়ে পাচ্ছেন আমাদের সহযোগিতার অদম্য ইচ্ছা।
প্রধান কার্যালয়: বহরমপুর বাজার, পারখী, কালিহাতী, টাঙ্গাইল।
স্লোগান: দেবো রক্ত, বাঁচাবে প্রাণ; স্বেচ্ছায় করবো রক্তদান।
যোগাযোগ: +৮৮০ ১৮১৭-২৩৬১১১
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































