ফাইল ছবি
বিয়ের আগে বর-কনের নানা প্রস্তুতি থাকে। পোশাক ও আয়োজনেই বেশি মনোযোগ যায়। খরচও অনেক হয়। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অনেকেই উদাসীন থাকেন। সেটি হলো বিয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা।
চিকিৎসকেরা বলছেন, থ্যালাসেমিয়া, বর্ণান্ধতা, সিক্ল সেল অ্যানিমিয়া ও এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফেটালিসের মতো রোগ বংশগতভাবে ছড়ায়। এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে এসব রোগ সঞ্চারিত হয়। এসব ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে বিয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি।
বাস্তবে দেখা যায়, বড় একটি অংশ এ বিষয়ে আগ্রহী নয়। ফলে বিয়ের পর নানা জটিলতা তৈরি হয়। পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে রোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই বিয়ের আগে কয়েকটি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করিয়ে নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
রক্ত পরীক্ষা: বর ও কনের রক্তের গ্রুপ জানা প্রয়োজন। এছাড়া কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট করতে হবে। থাইরয়েড ও ডায়াবেটিস আছে কি না তাও পরীক্ষা জরুরি। রক্তে কোনো অস্বাভাবিকতা থাকলে পরে বড় রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
জিনগত পরীক্ষা: আগে থেকে পরীক্ষা করালে জিনগত রোগ শনাক্ত সহজ হয়। ডায়াবেটিস ও হাইপারটেনশনের ঝুঁকি জিনে লুকিয়ে থাকতে পারে। থ্যালাসেমিয়া, কিছু ক্যানসার ও কিডনি সমস্যার ঝুঁকিও জিনে থাকে। তাই আগাম জিনগত পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন <<>> মা চোখের আড়াল হলেই শিশু কান্না করে কেন
যৌনরোগ সংক্রান্ত পরীক্ষা: এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি ও সি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে দাম্পত্য জীবনে সমস্যা তৈরি হয়। গনোরিয়া, সিফিলিস ও ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিসের ঝুঁকিও থাকে। আগে থেকে জানা থাকলে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
প্রজনন ক্ষমতা পরীক্ষা: এ পরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে স্ট্রেস ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে বন্ধ্যত্ব বাড়ছে। ইনফার্টিলিটি দাম্পত্য জীবনে মানসিক চাপ তৈরি করে। সামাজিক সমস্যাও দেখা দেয়। তাই দুজনেরই ফার্টিলিটি পরীক্ষা করানো জরুরি।
হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা: রক্তে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা জানা প্রয়োজন। হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষাও করা উচিত। রিকেট বা হাড়ের গঠনগত সমস্যা থাকলে জটিলতা বাড়তে পারে। অস্টিওপোরোসিস থাকলেও সতর্কতা দরকার।
আপন দেশ/এসএস




































