Apan Desh | আপন দেশ

মা চোখের আড়াল হলেই শিশু কান্না করে কেন

আপন দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:৪৩, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মা চোখের আড়াল হলেই শিশু কান্না করে কেন

ছবি: সংগৃহীত

পাঁচ মিনিটের জন্য চোখের আড়াল হলেই শিশু চিৎকার করে এবং কান্না জুড়ে দেয়। ওয়াশরুমেও যাওয়া যায় না। ছোট্ট শিশুকে নিয়ে এমনই অভিযোগ মায়েদের। কিন্তু এটি খুব স্বাভাবিক ঘটনা। আধুনিক নিউরোসায়েন্স বলছে, শিশুর এ প্রতিক্রিয়া কোনো অভ্যাস বা জেদ নয়। মা চোখের আড়াল হলে অস্থির হয়ে যাওয়া শিশুর মস্তিষ্কের স্বাভাবিক সুরক্ষা ব্যবস্থা।

নবজাতকের মস্তিষ্ক সময় বা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে পারে না। তাই সে জানে না একটু পরেই মা ফিরে আসবেন। সেজন্য যখন সে মাকে দেখতে পায় না, শুনতে পায় না বা ছুঁতে পারে না, তখন মস্তিষ্ক সেটিকে সাময়িক বিচ্ছেদ হিসেবে নয়। যা শিশুর মস্তিষ্ক সম্ভাব্য বিপদ হিসেবে ধরে নেয়। সে মুহূর্তে শিশুর স্নায়ুতন্ত্র সারভাইভাল মোডে চলে যায়।

মাকে দেখতে না পেলে শিশুর স্ট্রেস রেসপন্স সিস্টেম সক্রিয় হয়ে যায়। এসময় শরীরে এক প্রকার হরমোন নিঃসৃত হয়। যা শরীরকে সতর্ক করে তোলে। অনেক ক্ষেত্রে এ হরমোন স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণও হয়ে যেতে পারে। তবে এটি শিশুর দুর্বলতা না, বরং প্রাকৃতিকভাবে তার নিরাপত্তার জন্য তৈরি একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা।

এ পরিস্থিতিতে দেখা যায় শিশুর কান্না দ্রুত তীব্র হয় এবং তার নিজে নিজে শান্ত হওয়ার ক্ষমতা ভেঙে পড়ে। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুরা কান্না থামাতে পারে না কারণ তাদের মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া তখনো পরিপূর্ণভাবে গড়ে ওঠেনি। তাদের শান্ত হতে সাহায্য করতে হয় বাইরের নিরাপত্তার মাধ্যমে – যেমন মায়ের কণ্ঠ, স্পর্শ বা উপস্থিতি।

আরও পড়ুন <<>> বালিশের কভার পরিষ্কার না করলে যে বিপদ

মা-বাবা যখন শিশুকে কোলে নেন, কথা বলেন বা শান্তভাবে সাড়া দেন, তখর শিশুর শরীরে কর্টিসল দ্রুত কমে আসে। স্নায়ুতন্ত্র আবার ভারসাম্যে ফেরে ও শিশুর মস্তিষ্ক শেখে - বিচ্ছেদের পরও নিরাপত্তা ফিরে আসে। বারবার এ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেলে শিশুর ভেতরে বিশ্বাস তৈরি হয়। ভবিষ্যতে সে চাপ সামলাতে পারে, আত্মবিশ্বাসী হয় এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের ভিত গড়ে ওঠে।

তবে বিজ্ঞান এর উল্টোটা বলছে। ছোটবেলায় নিয়মিত সাড়া পাওয়া শিশুরাই বড় হয়ে বেশি স্বাধীন ও মানসিকভাবে স্থিতিশীল হয়। কারণ তারা জানে – বিপদ এলেও তা সাময়িক এবং নিরাপত্তা ফিরে আসে। তাই শিশুর কান্না থামানো মানে তাকে দুর্বল করা নয়। বরং তার স্নায়ুতন্ত্রকে ট্রেনিং দেয়া - নিরাপত্তা ফিরে আসে। এ শেখাটাই পরবর্তী জীবনের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক স্থিতির ভিত্তি।

আপন দেশ/এসএস

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়