ছবি: বাফুফে
চব্বিশের ৫ আগস্টের পর থেকেই বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। সাম্পতিক সময়ে সেটি খেলার মাঠ পর্যন্ত গড়িয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল আকার ধারণ করেছে যে, ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়েছে টাইগাররা। এ নিয়ে প্রতিবেশি দুই দেশের মধ্যে তুমুর উত্তেজনা বিরাজ করছে। সে উত্তেজনার মধ্যেই ফুটবলে ভারতকে পরাজয়ের মালা পড়াল বাংলাদেশ।
চলমান সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের বিপক্ষে দারুন এক জয় তুলে নিয়েছে লাল সবুজের ফুটবল কন্যারা। সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) নেপালের পোখারায় ভারতকে ২-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশে মেয়েরা। প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ১২-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করে পিটার বাটলারের শিষ্যরা।
এরআগে, টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছিল ভারত। দ্বিতীয় ম্যাচেই হারের স্বাদ পেল তারা।
শুরু থেকে বাংলাদেশের রক্ষণে চাপ দিতে থাকে ভারত। কিন্তু পোস্টে ইয়ারজান ছিলেন বিশ্বস্ত দেয়াল হয়ে। চতুর্থ মিনিটে জাদা ফের্নান্দেসের ফ্রি কিক অনেকটা লাফিয়ে আটকান তিনি। পরের মিনিটে ফের আক্রমণ শাণায় ভারত। বাম দিক থেকে আসা থ্রু পাস প্রীতিকা বর্মন ধরার আগেই পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে তার পথ আগলে দাঁড়ান ইয়ারজান। তাতে শট নেয়ার জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ে। ইয়ারজানের পাশ দিয়ে প্রীতিকা শট নিলেও বল বেরিয়ে যায় দূরের পোস্ট দিয়ে। অষ্টম মিনিটে কোনোমতে পা দিয়ে আরেকটি শট ঠেকিয়ে তিনি আবারও ত্রাতা বাংলাদেশের।
আরও পড়ুন<<>>পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বর্জনে আইসিসির কত ক্ষতি
২২তম মিনিটে প্রথম আক্রমণে ওঠে বাংলাদেশ। কিন্তু মামনি চাকমার বক্সে ফেলা বলের নাগাল পাননি সুরভি আকন্দ প্রীতি। তবে এরপর থেকে ভারতের রক্ষণে চাপ বাড়াতে থাকে বাংলাদেশ। সাত মিনিট পর মিলে যায় কাঙ্ক্ষিত গোলও। মামনি চাকমার ফ্রি কিক ভারতের গোলকিপার মুন্নির গ্লাভস হয়ে ক্রসবারে লেগে নিচে পড়ে। শেষ মুহূর্তেও পা চালিয়ে তিনি প্রাণান্ত চেষ্টা করেছিলেন বিপদমুক্ত করার, কিন্তু গোলমুখে থাকা বাংলাদেশ অধিনায়ক অপির্তা বিশ্বাস টোকায় খুঁজে নেন জাল।
বাংলাদেশ ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেয় ৪০তম মিনিটে। ডান দিক থেকে গোলমুখে বাড়ানো সতীর্থের ক্রস দুই ডিফেন্ডারের ফাঁকে থাকা আলপি নিখুঁত টোকায় জালে পাঠান। ৫৬তম মিনিটে মুনকির বাম পায়ের শটে লাফিয়ে আটকে ব্যবধান বাড়তে দেননি গোলকিপার মুন্নি। এরপর বাংলাদেশের আক্রমণের গতি কমে কিছুটা। গোল করার চেয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ রেখে দুই গোল আগলে রাখার দিকেই যেন মনোযোগ দেয় দল।
বয়সভিত্তিক এ প্রতিযোগিতা এ পর্যন্ত অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০ ক্যাটাগরি মিলিয়ে ছয়বার মাঠে গড়িয়েছে। বাংলাদেশ চারবার এবং ভারত একবার এককভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০২৪ সালের আসরে যৌথভাবেও সেরা হয়েছিল বাংলাদেশ ও ভারত।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































