Apan Desh | আপন দেশ

নতুন পৃথিবীর সন্ধান পেল বিজ্ঞানীরা

আপন দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:৩৫, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নতুন পৃথিবীর সন্ধান পেল বিজ্ঞানীরা

ছবি: সংগৃহীত

সৌরজগতে মিলল আরেক গ্রহ। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেছেন এ গ্রহটির আকার  পৃথিবীর মতোই। গ্রহটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১৪৬ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এটি একটি সূর্যসদৃশ নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, গ্রহটি প্রাণ ধারণের সম্ভাবনাময় অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এ কারণে আশপাশের বাসযোগ্য জগত নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) আনাদোলুর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রহটির নাম দেয়া হয়েছে এইচডি ১৩৭০১০বি। নাসার কেপলার স্পেস টেলিস্কোপের কে-টু মিশনের ২০১৭ সালের তথ্য ব্যবহার করে গ্রহটি শনাক্ত করা হয়।

আন্তর্জাতিক একটি গবেষক দল তথ্য বিশ্লেষণ করেন। দলের নেতৃত্ব দেন অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ডের গবেষক আলেকজান্ডার ভেনার। গবেষণার ফলাফল দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্সে প্রকাশিত হয়।

গবেষণা অনুযায়ী, গ্রহটি পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বড়। গ্রহটি তার নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করতে প্রায় ৩৫৫ দিন সময় নেয়। বিজ্ঞানীদের ধারণা, গ্রহটির প্রায় ৫০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে নক্ষত্রের ‘হ্যাবিটেবল জোন’-এ অবস্থান করার।

এ অঞ্চলে তরল পানি থাকার উপযোগী পরিবেশ থাকতে পারে। তবে গ্রহটির পৃষ্ঠের তাপমাত্রা মঙ্গলের কাছাকাছি হতে পারে। তাপমাত্রা মাইনাস ৯৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। সেলসিয়াস স্কেলে তা মাইনাস ৭০ ডিগ্রি।

আরও পড়ুন <<>> মোবাইল ফোনের কারণে কি ব্রেন ক্যানসার হয়

ইউএসকিউয়ের সহলেখক চেলসি হুয়াং বলেন, গ্রহটির অবস্থান তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি। সৌরজগত থেকে দূরত্ব প্রায় ১৫০ আলোকবর্ষ। ভবিষ্যতের শক্তিশালী টেলিস্কোপ দিয়ে এ গ্রহ নিয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণা সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, সূর্যসদৃশ নক্ষত্রের চারপাশে হ্যাবিটেবল জোনে থাকা কেপলার-১৮৬এফ এ গ্রহটির তুলনায় চার গুণ দূরে। সেটি প্রায় ২০ গুণ বেশি ক্ষীণ।

এ গ্রহের অস্তিত্বের ইঙ্গিত প্রথম আসে সাধারণ বিজ্ঞানপ্রেমীদের মাধ্যমে। সিটিজেন সায়েন্টিস্টরা প্রাথমিকভাবে সংকেত শনাক্ত করেন। গবেষণার প্রধান লেখক আলেকজান্ডার ভেনার জানান, তিনি স্কুলে পড়ার সময় ‘প্ল্যানেট হান্টার্স’ নামের নাগরিক বিজ্ঞান প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন।

ভেনার বলেন, ওই প্রকল্পই তাকে গবেষণার পথে আসতে বড় অনুপ্রেরণা দেয়। ভবিষ্যতে নাসার ‘হ্যাবিটেবল ওয়ার্ল্ডস অবজারভেটরি’র মতো মহাকাশ মিশন এ গ্রহের সরাসরি ছবি তুলতে সক্ষম হতে পারে।

গবেষকরা মনে করছেন, এ আবিষ্কার ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়