Apan Desh | আপন দেশ

হঠাৎ বাড়ছে হামের প্রকোপ

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২১:৫৫, ২৯ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ২২:০১, ২৯ মার্চ ২০২৬

হঠাৎ বাড়ছে হামের প্রকোপ

ফাইল ছবি, আপন দেশ

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশুদের হামে আক্রান্তের সংখ্যা। রাজধানী ঢাকা ছাড়িয়ে এখন প্রত্যন্ত জেলাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে এ ছোঁয়াচে রোগের সংক্রমণ। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, দেশজুড়ে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে।

দেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুরা এ রোগের টিকা পাওয়ার পরেও কেন এ সময় আবার রোগটির প্রবণতা বাড়ছে, সে আলোচনা জোরদার হচ্ছে।

এছাড়া ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাম আক্রান্ত হয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে ও রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গত ১২ দিনে হাম আক্রান্ত হয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হলো।

রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ১০টা পর্যন্ত হাম আক্রান্ত ৬৬ জন শিশু ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি আছে। গতকাল থেকে আজ সকাল পর্যন্ত নতুন করে তিনজন ভর্তি হয়েছে। যা উদ্বেগকে আরও তরান্বিত করেছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, টিকা দেয়ার পরেও অনেক শিশু এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, যা উদ্বেগের। কারণ ব্যাপক ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত এ রোগটি আক্রান্ত শিশুর জীবনকেও ঝুঁকিতে ফেলে দিতে পারে। 

আরও পড়ুন<<>>৬০৪ কোটি টাকার হামের টিকা কিনবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা নতুন করে টিকার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, গত আট বছর অতি সংক্রামক এ রোগটির টিকা না দেয়ার কারণেই এখন হামের প্রকোপ আবার দেখা যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আগামী জুলাই-অগাস্টে বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে দেশজুড়ে শিশুদের হামের টিকা দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যেই ভ্যাকসিন চলে আসছে। আরও যা যা লাগবে সেটি টিকার জন্য গঠিত বৈশ্বিক জোট গ্যাভিকে অবহিত করা হয়েছে। তারা মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে ২ কোটি সিরিঞ্জ দিবে। সবকিছু একত্রিত হলেই ক্যাম্পেইন (বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি) শুরু করা হবে। 

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা :

সম্প্রতি হামে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দুই মন্ত্রীকে সারাদেশ ঘুরে পরিস্থিতি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় তিনি জানান, সরকারি দলের সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ব্রিফ করা হয়। সেখানে হামে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে দুজন মন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছেন, সারা দেশ ঘুরে হামের প্রাদুর্ভাবের বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিতে। 

কেন বাড়ছে হামের রোগী :

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা ও শিশু চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত পর্যাপ্ত টিকা না দেয়া, শিশুদের মায়ের বুক দুধ ঠিকমতো পান না করানো, প্রয়োজনীয় কৃমিনাশক ওষুধ না খাওয়ানো এবং অপুষ্টির কারণেই নতুন করে হামের এ প্রকোপ শুরু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এছাড়া হামের জন্য যে টিকা দেয়া হচ্ছে সে টিকার মান এবং দীর্ঘদিন ধরে টিকা দেয়ার কারণে ভাইরাসের ধরণে কোনও পরিবর্তন নতুন করে হামের প্রকোপে ভূমিকা রেখেছে কি-না সে প্রশ্নও উঠছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের উপপরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, সাধারণত ৯ মাস পূর্ণ হলে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় হামের টিকা পায় শিশুরা। কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে যারা আক্রান্ত তাদের ৩৩ ভাগ এ বয়সের আগেই আক্রান্ত হয়েছে। অর্থাৎ ৯ মাসের কম বয়সীদের মধ্যে এ রোগের সংক্রমণ বাড়ছে। 

সাধারণত সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৯-১৫ বয়সী শিশুদের হামের দুটি টিকা দেয়া হলেও এর অতিরিক্ত হিসেবে প্রতি চার বছর পরপর হামের টিকা দেয়ার যে বিশেষ কর্মসূচি নেয়া হয়, ২০২৪ সালে তা হয়নি।

শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, ২০২০ সালে করোনা, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন কারণে হামের টিকাদানের বিশেষ ক্যাম্পেইন হয়নি এবং এরপর চলতি বছরের এপ্রিলে করার কথা থাকলেও সেটি হয়নি। 

ঢাকার শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার দে বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি কারণ রোগটিতে আক্রান্ত হলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং সে কারণে নিউমোনিয়ায় ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে যা করছে সরকার :

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, মিজেলসের (হাম) রোগী অনেক বেড়েছে। আট বছর আগে মিজেলসের ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে এবং এরপর ভ্যাকসিন কোনো গভর্নমেন্ট দেয়নি। গত ১৫ দিনে হামের প্রবণতা বেড়েছে। তবে এখনো আমাদের সক্ষমতা রয়েছে। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ডিএনসিসি হাসপাতালে হামের জন্য আলাদা কর্নার করা হয়েছে। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে আইসিইউ রেডি করা হয়েছে, উইথ ভেন্টিলেটর। 

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল) আবু হোসেইন মো. মইনুল আহসান বলেন, সুনির্দিষ্ট কিছু এলাকায় বেশি আক্রান্ত হলেও কমবেশি সারাদেশেই হামে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাচ্ছেন তারা।

প্রসঙ্গত, চলতি মাসেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভেন্টিলেশনসহ আইসিইউ সুবিধার অভাবে ৩৩টি শিশুর মৃত্যুর খবর দেশের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হবার পর এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। যদিও এদের ১০ থেকে ১২টি শিশু হামে আক্রান্ত ছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় চলতি মাসে রাজশাহী বিভাগের ১৫৩টি রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে ৪৪ জনের হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও পাবনায় সংক্রমণ হচ্ছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দীন বলেন, ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২০ জন রোগীর নমুনা ঢাকায় পাঠিয়েছিলাম। তার মধ্যে ১০ জনই হামে আক্রান্ত রোগী বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। জেলার সব উপজেলাতেই শিশুদের হামে আক্রান্ত হতে দেখা গেছে এবং অনেকে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠছেন।

আপন দেশ/এসআর

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

শীর্ষ সংবাদ:

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি কর্মচারীদের ১১ নির্দেশনা ওয়ান ইলেভেনের কেউ ছাড় পাবে না: চিফ প্রসিকিউটর ৬০৪ কোটি টাকার হামের টিকা কিনবে সরকার ফাঁসির মঞ্চ থেকে সংসদে আসা বিরল ঘটনা: ডেপুটি স্পিকার ইরানি হামলায় গোয়েন্দা বিমান হারাল যুক্তরাষ্ট্র ফের রিমান্ডে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ভূমধ্যসাগরে খাবারের অভাবে মারা যান সুনামগঞ্জের ১০ জন সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্র গেলেন সেনাপ্রধান সচিবালয়ের বিভিন্ন দফতরে প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন ইরানের পক্ষে ইসরায়েলে দ্বিতীয় দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হুথিদের ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় তাপমাত্রা বাড়তে পারে ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতুতে ৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা টোল আদায়