ফাইল ছবি
চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই দেশের স্বর্ণবাজারে অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা গেছে। ঘন ঘন দাম সমন্বয়ের ফলে বড় অঙ্কে বেড়েছে স্বর্ণের মূল্য।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন–এর তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মার্চ—এ তিন মাসে মোট ৫০ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৯ বার দাম বেড়েছে এবং ২১ বার কমেছে। এ সময়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম মোট বেড়েছে ২০ হাজার ৫২৯ টাকা।
বছরের শুরুতে ১ জানুয়ারি দাম কমিয়ে প্রতি ভরি নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা। তবে খুব দ্রুতই বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। জানুয়ারিতে একাধিক ধাপে দাম বাড়তে বাড়তে ২৯ জানুয়ারি সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকায় পৌঁছে।
এরপর হঠাৎ বড় পতন ঘটে। ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি দুই দফায় মোট ৩০ হাজার ৩৮৪ টাকা কমে দাম নেমে আসে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকায়। তবে একই দিনেই আবার দাম বাড়ানোর ঘটনাও ঘটে।
ফেব্রুয়ারি মাসজুড়েও ওঠানামা অব্যাহত থাকে। এ মাসে মোট ১৫ বার দাম সমন্বয় করা হয়। কখনো কমে, কখনো বাড়ে—এভাবেই চলতে থাকে বাজার। মাস শেষে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮০ টাকা।
আরও পড়ুন <<>> উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তিতে কর আরোপ চায় এনবিআর
মার্চ মাসেও অস্থিরতা কমেনি। এ মাসে ১৬ বার দাম পরিবর্তন করা হয়। শুরুতে দাম বাড়লেও মাঝামাঝি সময়ে বড় ধরনের পতন ঘটে। টানা কয়েক দফায় কমে দাম নেমে আসে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকায়।
তবে মাসের শেষ দিকে আবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। সবশেষ সমন্বয় অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকায়।
অন্যান্য ক্যারেটেও রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন দাম। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৫৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
স্বর্ণবাজারের এ অস্থিরতার পেছনে মূল কারণ হিসেবে বিশ্ববাজারের প্রভাবকে দায়ী করছে বাজুস। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ওঠানামা করলে দেশের বাজারেও তার প্রতিফলন ঘটে।
বাজুস সভাপতি এনামুল হক খান বলেন, এ অস্থিরতার জন্য দেশীয় কোনো পক্ষ দায়ী নয়। মূলত বৈশ্বিক বাজারে স্টক ও কাগজে লেনদেনের কারণেই এ ওঠানামা হচ্ছে।
তিনি জানান, নিয়মিত দাম সমন্বয়ের উদ্দেশ হলো স্বর্ণ পাচার রোধ করা এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষতি থেকে রক্ষা করা। দেশের বাজারে দাম কম থাকলে স্বর্ণ পাচারের ঝুঁকি বাড়ে।
এছাড়া বর্তমানে অনেকেই স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন। তবে বৈশ্বিক বাজারে প্রকৃত স্বর্ণের তুলনায় কাগুজে লেনদেন বেশি হওয়ায় প্রকৃত মজুত নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে জানান তিনি।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































