Apan Desh | আপন দেশ

পাঁচ বছরের ১১ কোচ বদল

পাকিস্তান ক্রিকেটে ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’ 

ক্রীড়া ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৪:৫৬, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তান ক্রিকেটে ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’ 

ফাইল ছবি

গেল কয়েক বছরে পাকিস্তান ক্রিকেটে প্রধান কোচ ও সাপোর্ট স্টাফ পদে নজিরবিহীন পরিবর্তন এসেছে। গ্যারি কার্স্টেন, জেসন গিলেসপি, আকিব জাভেদ ও আজহার মাহমুদের মতো কোচরা দায়িত্ব নিলেও বোর্ডের সঙ্গে মতপার্থক্যর কারণে টিকতে পারেননি। পাঁচ বছরের ব্যবধানে ১১টির বেশি কোচ বদল হয়েছে।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডে (পিসিবি) কোচের আসা-যাওয়া এবং বারবার পদ পরিবর্তনের অবস্থাকে ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’ খেলার সঙ্গে তুলনা করা হয়। গেল পাঁচ বছরে ১১ কোচ বদলিয়েছে দেশটি। কিন্তু তাত্রে আশানুরুপ ফল আসেনি।

সর্বশেষ ইংল্যান্ডের মাটিতে তিন টেস্টের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে হেরে বসেছে পাকিস্তান। এজবাস্টনের শেষ টেস্টের আগে সাত খেলোয়াড়কে দল থেকে বাদ দিয়েছে পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্ট। প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকেও সরিয়ে দেয়া হয়েছে। 

সিরিজ শেষ হওয়ার আগে দলে কয়েকজনের জায়গা সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আর হুট করে আড়মোড়া ভেঙে এসব কিছুই করা হয়েছে স্রেফ একটি নিয়মরক্ষার ম্যাচের আগে। অবিশ্বাস্য, তা–ই না!

পাকিস্তান ক্রিকেটের ধারা জানা থাকলে অবশ্য বলতে হয়, না, মোটেও অবিশ্বাস্য কিছু নয়। অনেক দিন ধরে তাদের জন্য এটাই স্বাভাবিক। নিশ্চয়তা দিয়ে অনিশ্চয়তা লালনে পাকিস্তান ক্রিকেট এতটাই ধারাবাহিক! হুটহাট দল কিংবা ম্যানেজমেন্ট থেকে এক বা একাধিক মানুষের ‘চেয়ার’ সরিয়ে নেয়া তাদের বহু বছরের অভ্যাস। তবে অতটা পেছনে না তাকালেও চলে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর উদাহরণই দেয়া যায়। সেটা ব্যবস্থাপনা বা কোচিং পর্ষদ নিয়ে।

কোনো সিরিজ বা টুর্নামেন্টে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পরপরই রদবদল ঘটে কোচিংয়ে। আগের কোচিং স্টাফ নিজেদের গুছিয়ে নেয়ার পর্যাপ্ত সময় পাওয়ার আগেই শুরু হয় নতুন কোচের অধ্যায়। গত পাঁচ বছরের বেশির ভাগ সময় এ ধারা চলেছে পাকিস্তান ক্রিকেটে। বদল হয়েছেন ১১ জন কোচ। এ সময়ে খুব কমসংখ্যক কোচই তাদের মেয়াদ শেষ করতে পেরেছেন।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে মিসবাহ-উল-হক প্রধান কোচের দায়িত্ব ছাড়ার পর একের পর এক স্থায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন এবং বিভিন্ন সংস্করণে আলাদা কোচ নিয়োগ দিয়েছে পাকিস্তান।

সে সময় মিসবাহ ও বোলিং কোচ ওয়াকার তাদের চুক্তির মেয়াদ এক বছর বাকি থাকতেই সরে দাড়ান। কারণ হিসেবে অন্তর্গত কোন্দলের গুঞ্জন উঠেছিল। সাকলায়েন মুশতাক ও আবদুল রাজ্জাককে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব দেয় পিসিবি। পরবর্তী সময়ে সাকলায়েন স্থায়ী প্রধান কোচ হন এবং ২০২২-২৩ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত সব সংস্করণেই পাকিস্তানের দায়িত্ব সামলান।

আরও পড়ুন<<>>না খেলেও ফিফা বিশ্বকাপে থাকে পাকিস্তান

সাকলায়েনের মেয়াদ শেষে ২০২৩ সালের মার্চে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচের দায়িত্ব পান আবদুল রেহমান। পাশাপাশি পরবর্তী স্থায়ী কোচ নিয়োগে সহায়তার জন্য পরামর্শক হিসেবে মিকি আর্থারকে যুক্ত করে পিসিবি। কী জটিল প্রক্রিয়া!

সে যা হোক, নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিউজিল্যান্ডের গ্র্যান্ট ব্র্যাডবার্নকে বেছে নেন আর্থার। ব্র্যাডবার্নকে নিয়োগ দেয়া হয় তিন বছরের জন্য। কিন্তু ২০২৩ বিশ্বকাপে পাকিস্তান সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হওয়ার পর তার পদমর্যাদা এবং দায়িত্বের পরিধি কমিয়ে দেয় পিসিবি। ব্রাডবার্ন দায়িত্ব ছেড়ে ইংলিশ কাউন্টি দল গ্ল্যামারগনে যোগ দেন।

সে বছরই নভেম্বরে টিম ডিরেক্টর হিসেবে মোহাম্মদ হাফিজকে নিয়োগ দেয় পিসিবি। কিন্তু পরের বছর ফেব্রুয়ারিতে তাকে চলে যেতে হয়। এর কারণ হিসেবে এক্সে হাফিজ জানান, ‘পিসিবির দেয়া চার বছরের নির্ধারিত মেয়াদের ইতি টানা হলো মাত্র দুই মাসের মাথায় বোর্ডে নতুন চেয়ারম্যানশিপ আসার কারণে। তখন পিসিবির নতুন চেয়ারম্যান হন মহসিন নাকভি।

২০২৪ সালের এপ্রিলে আজহার মেহমুদকে নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য কোচের দায়িত্ব দিয়ে স্থায়ী কোচ খুঁজতে শুরু করে পিসিবি। এরপর জেসন গিলেস্পিকে লাল বল ও গ্যারি কারস্টেনকে সাদা বলের সংস্করণে কোচের দায়িত্ব দেয়া হয়। সে বছর টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ার পর অক্টোবরে পদত্যাগ করেন কারস্টেন। পিসিবির সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়েও টানাপড়েন চলছিল। তার জায়গায় গিলেস্পি ছয় মাস সাদা বলের দায়িত্ব পালন করেন। শেষ পর্যন্ত পিসিবির সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটলে তিনিও বিদায় নেন।

২০২৪ সালেই নভেম্বরে গিলেস্পির কাছ থেকে সাদা বলে অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব নেন নির্বাচক কমিটির সদস্য আকিব জাভেদ। এক মাস পর গিলেস্পি বিদায় নিলে লাল বলে কোচিংয়ের দায়িত্বও পান সাবেক এ পেসার।

গত বছর মে মাসে আকিবের কাছ থেকে সাদা বলে কোচের দায়িত্ব বুঝে নেন মাইক হেসন। পরের মাসে লাল বলে অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্বে ফেরেন আজহার মাহমুদ। কিন্তু পিসিবি এ সিদ্ধান্তেও স্থির থাকতে পারেনি।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের আগে চলতি বছর এপ্রিলে টেস্ট দলের কোচের দায়িত্ব পান সরফরাজ। টিকতে পেরেছেন মাত্র পাঁচ মাস। তার জায়গায় হেসনকে টেস্ট দলের দায়িত্বও দেয়া হয়।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়