Apan Desh | আপন দেশ

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ফের বন্যার শঙ্কা, উদ্ধারকাজ স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৪:৪৭, ২৮ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ১৪:৫১, ২৮ আগস্ট ২০২৬

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ফের বন্যার শঙ্কা, উদ্ধারকাজ স্থগিত

ছবি : সংগৃহীত

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ধকল কাটতে না কাটতেই একই এলাকায় ফের বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এমন ঘটনার পর সাম্প্রতিক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো নতুন করে ঝুঁকিতে পড়েছে এবং সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে উদ্ধারকাজ। দুই দেশের কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
 
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় ভোতে কোশি নদীর পানি বাড়তে শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে দেখা যায়। এক প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে বলেছেন, নদীর পানি বাড়ার আশঙ্কায় অনেকে পাহাড়ের উঁচু এলাকায় উঠে যাচ্ছিলেন।

নেপালের সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশটির কয়েকটি জেলায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে; সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে উদ্ধার অভিযান।

নেপাল পুলিশ এবং জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) বন্যা পূর্বাভাস বিভাগও ভোতে কোশি, ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে।

রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

নুয়াকোটের বিদুর জেলা সদর ও ত্রিশূলী বাজারের আশপাশে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন করা বুলডোজার, অন্যান্য সরঞ্জাম এবং উদ্ধারকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। সীমান্ত ও নদীর তীরবর্তী সড়কে যান চলাচলও বন্ধ করে দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।

নেপাল নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, গোরখা, চিতওয়ান ও নাওয়ালপরাসি জেলার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার উদ্ধারকর্মী ও বাসিন্দাদের তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে নেয়ার প্রয়োজন হতে পারে—এমন প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন<<>>নেপালে মৃত্যু বেড়ে ৪৭২, নিখোঁজ ১৪০০

তিব্বতে ভূমিধসের কারণে তৈরি হ্রদ ও অন্যান্য অস্থিতিশীল জলাধার থেকে আরও পানি নেমে আসার আশঙ্কা থেকেই এ সতর্কতা।

গত ২৬ অগাস্ট সকালে নেপাল-চীন সীমান্তের লেন্দে নদী ও ত্রিশূলী উপত্যকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। হঠাৎ করে হিমবাদ গলে বা ভেঙে নেমে আসা কাদা-পানির স্রোত সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এতে বহু গ্রাম, রাস্তাঘাট ও সেতু সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।

এ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে; ট্রেকার এবং তীর্থযাত্রীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এ রুটে এখনো দুই হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ভূমিধসের কারণে ভোটে কোশি নদীর গতিপথ অবরুদ্ধ হয়ে একটি হ্রদ তৈরি হয়েছে এবং এর পানি ক্রমাগত বাড়ছে, যা যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।

চীনের আট সদস্যের একটি প্রকৌশলী দল বৃহস্পতিবার হ্রদটির আকাশপথে জরিপ ও ত্রিমাত্রিক মডেল তৈরির কাজ শুরু করে। এক দিনের ব্যবধানে হ্রদটির জলাধারে পানির পরিমাণ আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ লাখ ঘনমিটার থেকে বেড়ে শুক্রবার ২৫ লাখ ঘনমিটারের বেশি হয়।

শুক্রবারই হ্রদটির পানি উপচে পড়তে শুরু করায় দ্রুত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে দুই দিন আগে আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নতুন করে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়।

হ্রদ উপড়ে ঢলের আশঙ্কায় চীনের সব উদ্ধারকর্মী ও যানবাহনকে নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি। নেপালও উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছে।

রাসুয়া জেলার জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা নরেন্দ্র পারিয়ার বলেন, হিমবাহের হ্রদটির তীর উপচে পাকি বেরিয়ে যাচ্ছে বলে তারা সতর্কবার্তা পেয়েছেন। ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি নদীতে পানির উচ্চতা বাড়ছে। তবে তখন নদীর পানি ঠিক কতটা বেড়েছে, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।’

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়