ফাইল ছবি
রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির রমনা কর্পোরেট শাখার লকার থেকে প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার বেআইনিভাবে উত্তোলনের অভিযোগ করেছেন প্রবাসী নারী। ৩০ আগস্ট অভিযোগটি দাখিল করেছেন ভুক্তভোগী ফারজানা রহমান লিমা।
এ ঘটনায় তার স্বাক্ষর জাল করে মিথ্যা ঘোষণাপত্র তৈরি, ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তার সহায়তা এবং সাকসেশন সার্টিফিকেট ছাড়াই লকার থেকে স্বর্ণালঙ্কার উত্তোলনের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন লিমা।
অভিযোগপত্রে ফারজানা রহমান লিমা জানান, তিনি ও তার স্বামী ২০১৯ সালের ১৫ জুন বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। দেশ ছাড়ার আগে তার নিজের স্বর্ণালঙ্কার এবং তার মায়ের গচ্ছিত স্বর্ণালঙ্কার অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, রমনা কর্পোরেট শাখা, ঢাকা-১০০০-এর লকার নম্বর ৪০৯-এ রাখা হয়। লকারটি তার মায়ের নামে ছিল।
আরও পড়ুন<> খেলাপিদের ঋণ দিতে মরিয়া অগ্রণী ব্যাংকের নয়া চেয়ারম্যান বখতিয়ার
অভিযোগ অনুযায়ী, লকারে ফারজানা রহমান লিমার নিজের স্বর্ণালঙ্কারের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অন্যদিকে তার মায়ের গচ্ছিত স্বর্ণালঙ্কারের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। মায়ের গচ্ছিত স্বর্ণালঙ্কারে তারও অংশ রয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন তিনি।
ফারজানা রহমান লিমার দাবি, পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, তার মা লকারটি পরিচালনার জন্য তার নামও অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। তার মা ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই মারা যান। তবে ২০১৯ সালের ১৫ জুন বাংলাদেশ ত্যাগের পর থেকে ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট পর্যন্ত তিনি আর বাংলাদেশে আসেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
স্বাক্ষর জাল করে ঘোষণাপত্র দাখিলের অভিযোগ
অভিযোগপত্রে ফারজানা রহমান লিমা বলেন, তার মা মারা যাওয়ার বিষয়টি তার বোন ফারহানা রহমান অগ্রণী ব্যাংককে অবহিত করেন। পরে ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট দেশে ফিরে তিনি লোকমুখে জানতে পারেন, তার বোন ফারহানা রহমান অগ্রণী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার কিছু কর্মকর্তার সহায়তায় তার স্বাক্ষর জাল করে একটি ঘোষণাপত্র তৈরি করে ব্যাংকে দাখিল করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ঘোষণাপত্রটি ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ব্যাংকে জমা দেয়া হয়। এরপর ওই ঘোষণাপত্রের ভিত্তিতে ফারজানা রহমান লিমা ও তার মায়ের লকারে থাকা সব স্বর্ণালঙ্কার উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
২৪ আগস্ট ব্যাংকে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন
ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত হতে ফারজানা রহমান লিমা ২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট অগ্রণী ব্যাংকের রমনা কর্পোরেট শাখায় স্বশরীরে উপস্থিত হন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন। সেখানে তিনি জানতে পারেন, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে স্বর্ণালঙ্কার উত্তোলনের পর লকারটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
পরে তিনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানতে চান, তার অনুপস্থিতিতে ও অনুমতি ছাড়া এবং কোনো সাকসেশন সার্টিফিকেট ছাড়াই কীভাবে তদের গচ্ছিত স্বর্ণালঙ্কার লকার থেকে উত্তোলন করা হলো। অগ্রণী ব্যাংকের রমনা শাখার ব্যবস্থাপক বরাবর আবেদন করেছেন লিমা। তিনি আপন দেশকে বলেন, ঘটনার পরপরই আমি ম্যানেজার বরাবর অভিযোগ দাখিল করেছি। তিনি বলেছেন বিষয়টি দেখবেন কিন্তু দীর্ঘদিনেও কোনো কিছুই জানায়নি ওই কর্মকর্তা।
ফারজানা রহমান লিমার দাবি, এ বিষয়ে প্রমাণ হিসেবে তিনি অগ্রণী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে কিছু কাগজপত্রের কপি সংগ্রহ করেছেন। এসব নথি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে দেয়া অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করেছেন বলেও জানান তিনি।
বিদেশে থাকা অবস্থায় চেকের পাতায় টাকা উত্তোলনের অভিযোগ
অভিযোগপত্রে ফারজানা রহমান লিমা আরও দাবি করেন, বিদেশ যাওয়ার আগে তিনি তার স্বাক্ষর করা অগ্রণী ব্যাংকের একটি চেকবই তার মায়ের কাছে রেখে যান। মায়ের দৈনন্দিন খরচ বা জরুরি প্রয়োজনে ওই চেক ব্যবহার করার উদ্দেশ্যেই তিনি চেকবইটি মায়ের কাছে রেখেছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন<> ঋণশোধে বিদেশি মুদ্রা কোথায় পাবে মেঘনা গ্রুপ?
তার অভিযোগ, ওই চেকবইয়ের দুটি পাতা ব্যবহার করে তার বোন ফারহানা রহমান ২০২৬ সালের ২৭ জুলাই এবং ৩ আগস্ট অগ্রণী ব্যাংকের পৃথক দুটি শাখা থেকে তার প্রতিনিধি ফাহমিদা ও সামিয়ার মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করেন। ওই সময় ফারজানা রহমান লিমা বিদেশে অবস্থান করছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তসহ ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন
অগ্রণী ব্যাংকের লকার থেকে স্বর্ণালঙ্কার উত্তোলন, তার স্বাক্ষর জাল করে ঘোষণাপত্র দাখিল এবং তার অনুপস্থিতিতে চেক ব্যবহার করে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন জানিয়েছেন ফারজানা রহমান লিমা।
অগ্রণী ও ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য:
অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে একটি ইনকোয়ারি বা অডিট টিম গঠন করা হচ্ছে। তদন্ত না করে এখনই অভিযোগটি সত্য না মিথ্যা- কোনোটিই বলা সম্ভব নয়।
আরও পড়ুন<> কমার্স ব্যাংকের ছায়া এমডি পুত্রবধূ, চেয়ারম্যান শ্বশুর
তিনি বলেন, তদন্তে যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় এবং কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মেলে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করতে চাই না। যাচাই-বাছাই শেষে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই প্রকৃত বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, অভিযোগ এসেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে। পাশাপাশি আমরা অগ্রণী ব্যাংকের কাছে জবাব চাইবো। অভিযোগ প্রমানিত হলে, সে আনুযায়ী ব্যবস্থা নিবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আপন দেশ/এবি
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































