ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোরে যোগাযোগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ভারত। ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সংযোগ রক্ষার একমাত্র পথ হিসেবে পরিচিত এই সংবেদনশীল করিডোর ঘেঁষে তৈরি হচ্ছে ২ হাজার ৭৭ কোটি রুপি ব্যয়ের একটি বিকল্প চার লেনের মহাসড়ক।
একদিকে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি ও কৌশলগত নিরাপত্তা জোরদার, অন্যদিকে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের সাথে সীমান্ত বাণিজ্যে নতুন গতি আনার লক্ষ্যে গৃহীত ভারতের এই মেগা প্রকল্প ইতোমধ্যেই দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি করেছে ব্যাপক কৌতূহল।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এতথ্য।
সড়কপথে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই ‘শিলিগুড়ি করিডোর’ বা ‘চিকেনস নেক’। আর সেজন্যই নেপাল ও বাংলাদেশ দ্বারা বেষ্টিত এবং চীন ও ভুটান সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত এই সংকীর্ণ ভূখণ্ডটি ভারতের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন : ভিসা দালাল থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান ভারতের
ভারতের কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি এক ফেসবুক বার্তায় জানিয়েছেন, নতুন এই হাইওয়ে নির্মাণের জন্য মোট ২০৭৭.১৮ কোটি রুপি অনুমোদন করা হয়েছে। ৩১.০২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি জাতীয় সড়ক ৩২৭ নামে পরিচিত হবে, যা পানিটাঙ্কি ও খড়িবাড়ি হয়ে বাগডোগরা থেকে বিহারের গলগলিয়াকে সংযুক্ত করবে ও জাতীয় সড়ক ২৭ থেকে ২০-৩০ কিলোমিটার দূরত্ব বজায় রেখে সমান্তরালে চলবে।
৬০ কিলোমিটারের মতো দীর্ঘ শিলিগুড়ি করিডোরটি সবচেয়ে সংকীর্ণ স্থানে মাত্র ২০-২২ কিলোমিটার প্রশস্ত। অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই করিডোরটির গুরুত্ব উল্লেখ করে মন্ত্রী গড়করি লিখেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোরে অবস্থিত এই প্রকল্পটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সংযোগকে জোরদার করবে এবং নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের দিকে যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাবে।
তিনি আরও লিখেন, চার লেনের এই মহাসড়কটি চালু হলে বাগডোগরা, নকশালবাড়ি, খড়িবাড়ি ও পানিটাঙ্কির যানজট কমবে। এটি বাগডোগরা বিমানবন্দর ও অঞ্চলের প্রধান কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ উন্নত করবে এবং কৃষি, উদ্যানপালন, চা ও অন্যান্য স্থানীয় পণ্যের দ্রুততম বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পটির অধীনে তিনটি বড় সেতু, একটি রোড ওভারব্রিজ, পাঁচটি হাতি চলাচলের জন্য বিশেষ আন্ডারপাস ও হাইওয়ের উভয় পাশে সার্ভিস রোড নির্মাণ করা হবে। কার্শিয়াং বন বিভাগের আওতাধীন বেশকিছু এলাকা হাতির প্রধান পারাপার অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা দ্রুতগামী যানবাহনের ধাক্কায় বন্যহাতির প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমাবে।
সাম্প্রতিক সময়ে, বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে শিলিগুড়ি করিডোরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অবকাঠামো জোরদার করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এর আগে, বারাণসী থেকে নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) পর্যন্ত একটি হাই-স্পিড রেলওয়ে করিডোর, শিলিগুড়ির কাছে ৩৫ কিলোমিটারের ভূগর্ভস্থ রেললাইন ও মালদা থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত চতুর্থ রেললাইন পাতার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় সড়ক ২৭-এর বিকল্প ও সমান্তরাল আরও একটি চার লেনের মহাসড়ক তৈরি হওয়ার ফলে এই কৌশলগত অঞ্চলে ভারতের প্রতিরক্ষা পরিবহন ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা সুরক্ষিত হবে। পাশাপাশি এতে ভারতের উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক অবকাঠামোও শক্তিশালী হবে।
আপন দেশ/এমটিআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































