Apan Desh | আপন দেশ

ই-সেবায় নাগরিকের তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে বড় শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৪:২৩, ৩১ আগস্ট ২০২৬

ই-সেবায় নাগরিকের তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে বড় শঙ্কা

ছবি : আপন দেশ

ডিজিটাল সরকারি সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হলেও নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা রয়ে গেছে। 

বিশেষ করে নারীদের একটি বড় অংশ সরকারি ও বেসরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাদের তথ্য হ্যাক হওয়া। সরকারি কর্মীদের মাধ্যমে তথ্যের অপব্যবহারের আশঙ্কা করছেন। একই সঙ্গে দুর্বল অবকাঠামো, ডিজিটাল দক্ষতার ঘাটতি। ইন্টারনেট বিভ্রাটের কারণে ই-গভর্ন্যান্সের কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নারী, তরুণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ‘ইস্টাবলিশিং ইফেক্টিভ অ্যান্ড অ্যাকাউন্টাবল ই-গভর্নেন্স টু স্ট্রেন্থেন লোকাল গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউশনস’ শীর্ষক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। 

ইউএসএআইডি, সুইজারল্যান্ড, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় পরিচালিত গবেষণায় ২ হাজার ৬১১ জন নাগরিক এবং ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের ২৯৭টি সরকারি দপ্তরের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, কাগজে-কলমে অনেক সরকারি সেবাকে ডিজিটাল করা হলেও বাস্তবে নাগরিকদের বড় অংশকে সেবা নিতে এখনো সরকারি দফতরে যেতে হচ্ছে। জরিপে অংশ নেয়া নারীদের মাত্র ১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং তরুণদের ২ দশমিক ৯ শতাংশ সম্পূর্ণ অনলাইন প্রক্রিয়ায় সেবা নিতে পেরেছেন।

প্রায় ৩৭ শতাংশ নারী ও তরুণ জানান, অনলাইনে আবেদন করার পর সেবার বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাদের কাগজপত্র জমা দিতে ও সশরীরে লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। অর্ধেকেরও বেশি নাগরিককে সেবা নিতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে কাগজপত্র জমা ও সংগ্রহ করতে হয়েছে। প্রায় এক-তৃতীয়াংশকে অফলাইনে ফি পরিশোধ কিংবা স্বাক্ষর করতে হয়েছে। এমনকি সেবা নিতে গিয়ে ঘুস দেয়ার অভিযোগও করেছেন অনেকে।

অনলাইন সেবা, অনিরাপদ তথ্য

ডিজিটাল সেবার বিস্তারের সঙ্গে নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব না পাওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গবেষণায় অংশ নেয়া নাগরিকদের একটি বড় অংশ তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তথ্য হ্যাক হওয়া এবং সরকারি কর্মীদের মাধ্যমে তথ্যের অপব্যবহারের আশঙ্কা বেশি দেখা গেছে।

এ পরিস্থিতিতে শুধু সরকারি সেবার আবেদনপ্রক্রিয়া অনলাইনে নেয়াই যথেষ্ট নয় বলে মনে করছে সিপিডি। নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ব্যবহার ও বিনিময় করা হচ্ছে। সে বিষয়ে কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে তথ্য ফাঁস বা অপব্যবহারের ঘটনা ঘটলে নাগরিক যেন সহজে অভিযোগ করতে ও প্রতিকার পেতে পারেন। সে ব্যবস্থাও জোরদার করার সুপারিশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

গবেষণায় ডিজিটাল সেবা ব্যবহারের ক্ষেত্রে দক্ষতার ঘাটতিও বড় বাধা হিসেবে উঠে এসেছে। প্রায় অর্ধেক নাগরিকের ডিজিটাল সাক্ষরতার ঘাটতি রয়েছে। অধিকাংশ পরিবারে মৌলিক কম্পিউটার ব্যবহারের ন্যূনতম দক্ষতাও নেই। এর সঙ্গে ইন্টারনেট বিভ্রাট ও দুর্বল প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ই-গভর্ন্যান্সের কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত করছে।

সরকারি দপ্তরগুলোর অবকাঠামোগত দুর্বল চিত্রও উঠে এসেছে গবেষণায়। ১০০-এর মধ্যে স্থানীয় সরকার দফতরগুলোর সার্বিক প্রস্তুতি সূচকের স্কোর মাত্র ৩৮ দশমিক ৯। মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন দফতরে কম্পিউটার অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে এবং অধিকাংশ অফিসে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা নেই।

ই-গভর্ন্যান্সের প্রস্তুতিতে আঞ্চলিক বৈষম্যও রয়েছে। ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগ তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকলেও রংপুর বিভাগের পারফরম্যান্স সবচেয়ে নিচে। অন্যদিকে সেবা পেতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হলেও প্রাতিষ্ঠানিক অভিযোগ ব্যবস্থার বিষয়ে অজ্ঞতার কারণে অধিকাংশ নাগরিক অভিযোগ করেন না।

পরিস্থিতি উন্নয়নে সিপিডি প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজনকে সরকারি ই-সেবা ব্যবহারে দক্ষ করে তুলতে ‘ওয়ান ডিজিটাল মেম্বার পার হাউজহোল্ড’ কর্মসূচি নেয়ার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি শুধু আবেদনপ্রক্রিয়া নয়, পুরো সেবা কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা, তৃণমূলের সরকারি দফতরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করা এবং নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার ওপর জোর দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ ছাড়া নাগরিক ভোগান্তি কমাতে সহজ ও কার্যকর অভিযোগ ব্যবস্থা চালু এবং সেবা দেয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা দৃশ্যমান স্থানে প্রকাশের সুপারিশ করা হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলের ‘লা ভিটা হল’-এ ‘ই-গভর্নেন্স অ্যাট দ্য লোকাল গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউশনস : কারেন্ট স্টেট অ্যান্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক সংলাপের আয়োজন করা হয়।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

আরও পড়ুন: এম এ মতিনের জীবনে নিপীড়নের অন্ধকার অধ্যায়

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন আইসোশ্যালের চেয়ারম্যান ড. অনন্য রায়হান, পাবলিক ফাইন্যান্স ম্যানেজমেন্টের এমআইএস বিশেষজ্ঞ আমিনুল মহাইমেন, এটুআইয়ের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ফজলুল জাহেদ পাভেল, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ নূর উল্লাহ এবং সাভার উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান। 

আপন‌ দেশ/মিম

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়