রফিকুল ইসলাম খান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি ও ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে। এ অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ জামায়াতকে ভোট দিলেও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অন্যকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর পল্টনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শহীদদের স্মরণে এ সভার আয়োজন করা হয়।
নির্বাচনের ফলাফল প্রসঙ্গে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, গত নির্বাচনে কী হয়েছে তা সবার জানা। মানুষ ভোট দিয়েছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে, কিন্তু পাস করানো হয়েছে অন্যজনকে। জামায়াতকে হারানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে দেশের একটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
পিলখানায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এটি কেবল একটি সাধারণ বিদ্রোহ ছিল না। এর পেছনে ছিল গভীর ষড়যন্ত্র। মুক্তিযুদ্ধে যেখানে মাত্র ৪-৫ জন সেনা কর্মকর্তা শহীদ হয়েছিলেন, সেখানে শান্তির সময়ে দুই দিনে কেন ৫৭ জন কর্মকর্তাকে প্রাণ দিতে হলো? ডালভাত কর্মসূচির সাথে জড়িত না থাকা সত্ত্বেও কেন তাদের টার্গেট করা হলো?
তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে দুর্বল করা। সীমান্তকে অরক্ষিত রাখা। যাতে বাংলাদেশকে অন্য দেশের করদরাজ্যে পরিণত করা যায়।
রফিকুল ইসলাম খান অভিযোগ করে বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেনাপ্রধান মঈন উদ্দিন আহমেদ রহস্যজনক ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি বলেন, সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের আর্তনাদের সময় প্রধানমন্ত্রী মুচকি হাসছিলেন। তারা কেন কার্যকর ব্যবস্থা নিলেন না? তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেই আসল সত্য বেরিয়ে আসবে। তিনি অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
জামায়াতের শীর্ষ ১১ জন নেতাকে ফাঁসি ও হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইসলাম ও নেতৃত্বশূন্য করার যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল তা ব্যর্থ হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণেই প্রমাণিত হয়েছে যে সে বিচার প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ ছিল। আদর্শবাদী শক্তিকে যে হত্যা করে নিশ্চিহ্ন করা যায় না, জামায়াত তার বড় প্রমাণ।
বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি কয়েকটি পয়েন্ট উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশ চাঁদাবাজমুক্ত করার কথা বললেও মাঠ পর্যায়ে তা বন্ধ হয়নি।
নারায়ণগঞ্জে প্রতিবন্ধী ব্যবসায়ীর কারখানায় চাঁদাবাজির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, মন্ত্রীরা চাঁদাবাজিকে 'সমঝোতা' বলে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করছেন। আগের সরকারের মতো বর্তমান প্রশাসনও দলীয়করণের ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। জামায়াত সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের স্বার্থে। তবে সরকার যদি জনবিরোধী বা ইসলামবিরোধী কোনো কাজ করে, তবে রাজপথ ও সংসদ—উভয় জায়গাতেই কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
আপন দেশ/এমবি
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































