Apan Desh | আপন দেশ

বিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৯:১৫, ৯ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদে

ফাইল ছবি, আপন দেশ

চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে উদ্বিগ্ন বিশ্ব। এ সংঘাত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় পাকিস্তান। যুদ্ধ বিরতির মধস্থতা হবে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে। কড়া নিরাপত্তার আড়ালে পর্দার অন্তরালে চলছে ব্যস্ত কূটনৈতিক তৎপরতা। পুরো বিশ্বের নজর এখন এ শহরের দিকেই। হঠাৎ করেই দুদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে ইসলামাবাদে।

আগামী শনিবার থেকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে এবং চলবে বেশ কয়েক দিন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বহুল প্রতীক্ষিত সরাসরি বৈঠক সফল হলে থামতে পারে হাজার হাজার মানুষের প্রাণঘাতী এক যুদ্ধ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে।  

যে পাকিস্তান কিছুদিন আগেও উগ্রবাদ আর নড়বড়ে অর্থনীতির কারণে বিশ্বজুড়ে সমালোচিত ছিল, সে ইসলামাবাদই এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায়। অথচ প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, পাকিস্তানের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রতারণা ছাড়া কিছুই পায়নি। ২০১১ সালে ওসামা বিন লাদেনের অ্যাবোটাবাদে ধরা পড়ার ঘটনা দেশটিকে বিশ্বদরবারে প্রায় একঘরে করে দিয়েছিল। এমনকি জো বাইডেন তার পুরো মেয়াদে পাকিস্তানের কোনও প্রধানমন্ত্রীকেই ফোন করেননি। 

আরও পড়ুন<<>>লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, ফের বন্ধ হরমুজ প্রণালি

কিন্তু ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সব ওলটপালট হয়ে গেছে। ট্রাম্প এখন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে তার প্রিয় ফিল্ড মার্শাল বলে ডাকছেন। এ বিস্ময়কর পরিবর্তনের মূলে রয়েছে পাকিস্তানের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান, কূটনৈতিক দক্ষতা এবং ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ যুদ্ধ থামানোর পেছনে ইসলামাবাদের নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে। পাকিস্তান তার জ্বালানির বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে, যা হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় চরম সংকটে পড়েছে। এ ছাড়া সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির কারণে রিয়াদ যুদ্ধে জড়ালে পাকিস্তানেরও জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ছিল। এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ফারওয়া আমের বলেন, ‘পাকিস্তান নিজেকে এমন এক অনন্য অবস্থানে নিয়ে গেছে যেখান থেকে তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয় পক্ষের সঙ্গেই সুসম্পর্ক রাখা সম্ভব হয়েছে।’

পাকিস্তানের এ সাফল্যে বেইজিংয়ের পরোক্ষ সমর্থন বড় ভূমিকা রেখেছে। গত সপ্তাহে পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দারের বেইজিং সফর ইরানের নমনীয় হওয়ার পেছনে কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। চীনের সম্মতির সঙ্গে পাকিস্তানের তদবির মিলে যাওয়ায় ইরানিদের জন্য আলোচনার টেবিলে আসা সহজ হয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিতে আসছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার। ২০১১ সালের পর ভ্যান্সই হবেন পাকিস্তান সফরকারী সবচেয়ে উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা। 

রুদ্ধদ্বার এ বৈঠকের ভেন্যু হিসেবে বিলাস বহুল 'সেরেনা হোটেল'কে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেল খালি করে অতিথিদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। হোটেলের কর্মীরা ইতোমধ্যেই দুই দেশের প্রতিনিধিদের আপ্যায়নের জোর প্রস্তুতি শুরু করেছেন। বৈঠক ঘিরে গোটা শহরে নেয়া হয়েছে অভূতপূর্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সরকারি কমপ্লেক্স সংলগ্ন রেড জোন এলাকা সাধারণ যানবাহনের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শান্তি আলোচনা নির্বিঘ্ন করতে ৯ ও ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

তবে এ শান্তি আলোচনা শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে। লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১৮০ জনের বেশি নিহত হওয়ার পর ইরানের আইআরজিসি দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ হয়ে গেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইসরায়েলের এ পদক্ষেপ শান্তি প্রতিষ্ঠার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়