Apan Desh | আপন দেশ

তারেক রহমানে নির্ভর ধানের শীষের অনেক প্রার্থী

আফজাল বারী

প্রকাশিত: ১২:৪৩, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৩:০১, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

তারেক রহমানে নির্ভর ধানের শীষের অনেক প্রার্থী

ছবি: এআই

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে প্রার্থী বাছাই, নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু এবং নির্বাচনী কৌশল।

মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় স্পষ্ট হয়ে উঠছে- এবারের নির্বাচনে ধানের শীষের অনেক প্রার্থীই নিজেদের ব্যক্তি ইমেজ, সাংগঠনিক শক্তি কিংবা দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগের ওপর নয়; বরং সরাসরি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা, বক্তব্য ও ক্যারিসমেটিক নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করেই নির্বাচনী বৈতরণি পার হতে চাইছেন।

দলীয় সূত্র ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক আসনেই মনোনীত প্রার্থীদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল। কোথাও দীর্ঘদিন মাঠে অনুপস্থিত থাকা নেতা, কোথাও আবার বিতর্কিত কিংবা সাংগঠনিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ব্যক্তিরা দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। বিপরীতে বহু ত্যাগী নেতা- যারা মামলা, হামলা, গ্রেফতার, জেল-জুলুম সহ্য করে বছরের পর বছর রাজপথে সক্রিয় ছিলেন- তারা মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এতে তৃণমূলে হতাশা এবং নীরব অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন<<>> ‘জান্নাতের টিকিট’ দাঁড়িপাল্লায় বনাম তারেক রহমানের ‘নাউযুবিল্লাহ’

এ অবস্থায় দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে অনেকেই বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, যার জেরে বিএনপি থেকে বহিষ্কার হয়েছেন অন্তত ৬৯ জন প্রার্থী। রাজনৈতিক বাস্তবতা হলো- এ বহিষ্কৃত নেতাদের প্রত্যেকেরই নিজ নিজ এলাকায় অনুসারী রয়েছে, যা নেহায়েত কম নয়। অনেক আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর অনড় অবস্থানের কারণে ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দলীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব আসনে প্রতিপক্ষ সহজেই বিজয়ের সুযোগ পেতে পারে।

এ বাস্তবতায় নির্বাচনী প্রচারণায় অনেক প্রার্থীই নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমানের নাম, বক্তব্য ও অবস্থানকে। ফেস্টুন, লিফলেট, প্রচারণাসভায় প্রার্থীর নিজস্ব রাজনৈতিক অর্জনের চেয়ে ‘তারেক রহমানের নির্দেশনা’, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্ব’ এবং ‘আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে তার ভাবমূর্তিকেই সামনে আনা হচ্ছে। এতে বোঝা যায়, দলীয়ভাবেই বিএনপি উপলব্ধি করছে- অনেক প্রার্থীর নিজস্ব ভোটব্যাংক দুর্বল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীত অভিজ্ঞতা বিএনপিকে এ বাস্তবতায় নিয়ে এসেছে। দলের আসন ও ভোট বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার। তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থান ও ক্যারিসমেটিক উপস্থিতিই বিএনপিকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিল। আজ তিনি নেই। এ শূন্যতা দলকে এক নতুন ও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে।

আরও পড়ুন<>>> ন্যাশনাল লাইফের তদন্তে দুদক: ২১শ’ অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেন, ৭১৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ-পাচার

সে শূন্যতায় তারেক রহমানই এখন বিএনপির একমাত্র বড় রাজনৈতিক ভরসা। দীর্ঘদিন দেশের বাইরে অবস্থান করলেও দল পরিচালনা, আন্দোলন-কৌশল নির্ধারণ এবং বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আবারও নিজেকে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক দুই দিনের বক্তব্য আরও পরিণত, কৌশলগতভাবে সংযত এবং আধুনিক রাজনৈতিক বোধসম্পন্ন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। নির্বাচনী প্রচারণায় তার বক্তব্য ঘিরে একটি ঢেউ সৃষ্টি হয়েছে, যা তরুণ ভোটারদের মধ্যেও প্রভাব ফেলছে। প্রচারণার ভঙ্গি এবং উপস্থাপনাতেও ধর্মীয়মূল্যবোধসহ কিছুটা পশ্চিমা রাজনৈতিক কৌশলের ছাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

তবে সমালোচনার জায়গাও রয়েছে। একটি বড় রাজনৈতিক দল যখন অতিরিক্তভাবে একজন ব্যক্তির ক্যারিসমেটিক নেতৃত্বের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন দলীয় কাঠামো, তৃণমূল নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যৎ বিকল্প নেতৃত্ব দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। ত্যাগী নেতাদের উপেক্ষা করে কেবল কেন্দ্রীয় আস্থার ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই দীর্ঘমেয়াদে দলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

তবুও বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই- বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির জন্য তারেক রহমানের ক্যারিসমেটিক লিডারশীপই এখন একমাত্র সম্ভাব্য বিজয়ের পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ব্যক্তি ইমেজ দুর্বল বহু প্রার্থীর জন্য তিনিই মূল শক্তি, মূল ঢাল এবং শেষ ভরসা। এ নির্ভরতার রাজনীতি শেষ পর্যন্ত বিএনপিকে কোন পথে নিয়ে যাবে- সেটাই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

আপন দেশ/এবি

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়