মসজিদের ছবি
পবিত্র মাহে রমজান অফুরন্ত ফজিলতের মাস। একই সঙ্গে রমজান মাসে জুমাবার মুসলমানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ইসলামের দৃষ্টিতে দিনটি অনেক বরকতময় ও তাৎপর্যপূর্ণ। আল্লাহ এ দিনকে অন্যান্য দিনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। পবিত্র রমজানের জুমার দিন হওয়ায় এর ফজিলত আরও অনেকগুণ বেশি। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে জুমার দিনের বহু ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা এ দিনের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে কুরআনে ইরশাদ করেন, মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের আজান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর ইবাদতের জন্য দ্রুত যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বোঝ। (সূরা আল জুমুআ: আয়াত ৯)
হাদিসে বলা হয়েছে, আব্দুল্লাহ্ ইবনে ইউসুফ (রা.) ও আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন জানাবত (ফরজ) গোসলের মত গোসল করে সালাতের জন্য আগমণ করে, সে যেন একটি উট কুরবানী করল। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় পর্যায়ে আগমণ করে, সে যেন একটি গাভী কুরবানী করল। যে ব্যক্তি তৃতীয় পর্যায়ে যে আগমণ করে, সে যেন একটি শিং বিশিষ্ট দুম্বা কুরবানী করল। চতুর্থ পর্যায়ে যে আগমণ করে সে যেন একটি মুরগী কুরবানী করল। পঞ্চম পর্যায়ে যে আগমণ করল সে যেন একটি ডিম কুরবানী করল। পরে ইমাম যখন খুতবা দেয়ার জন্য বের হয় তখন ফেরেশতারা জিকির শোনার জন্য হাজির হয়ে থাকেন।
দুই ইবাদতের মিলন
রমজান মাসের প্রতিটি দিনই ইবাদতের জন্য শ্রেষ্ঠ, আর জুম্মার দিন হলো সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। যখন নবম রোজা জুম্মার দিনে পড়ে, তখন একজন মুমিন একই সঙ্গে রমজানের ফজিলত এবং জুম্মার বরকত লাভ করেন। হাদিসে জুম্মার দিনকে ‘মুমিনের ঈদের দিন’ বলা হয়।
দোয়া কবুলের সুবর্ণ সুযোগ
রোজাদার ব্যক্তির দোয়া আল্লাহ তাআলা ফিরিয়ে দেন না (ইফতারের আগ মুহূর্তে)। অন্যদিকে জুম্মার দিনেও এমন একটি সময় রয়েছে (বিশেষ করে আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত), যখন দোয়া করলে তা নিশ্চিতভাবে কবুল হয়। নবম রোজা জুম্মার দিনে হওয়ায় এ দুই বিশেষ সময় একত্রিত হয়, যা দোয়া কবুলের সম্ভাবনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
গুনাহ মাফ ও সওয়াবের আধিক্য
রমজানের রোজা পালনের মাধ্যমে পূর্বের গুনাহ মাফ হয়। আবার এক জুম্মা থেকে অন্য জুম্মা পর্যন্ত সময়ের গুনাহসমূহও মাফ করে দেয়া হয়। সুতরাং এ দিনে রোজা রাখা মানে হলো দ্বিগুন রহমত ও মাগফিরাত হাসিল করা।
আরও পড়ুন<<>>রমজান মাসে যাদের ধ্বংস অনিবার্য
ইবাদতের সওয়াব বৃদ্ধি
রমজান মাসে যেকোনো নফল ইবাদত ফরজের সমান এবং ফরজ ইবাদত ৭০ গুণ সওয়াব বাড়িয়ে দেয়া হয়। জুম্মার দিনের বিশেষ আমল যেমন-সুরা কাহাফ তেলাওয়াত, দরুদ শরীফ পাঠ এবং জুম্মার নামাজ আদায়ের সওয়াব রমজানের বরকতে আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
আশুরার রোজার সাথে সাদৃশ্য (একটি সূক্ষ্ম দিক)
ইসলামী ইতিহাসে ৯ ও ১০ মহররম রোজা রাখা সুন্নত। যদিও এটি রমজান মাস, তবুও 'নবম' সংখ্যাটি একটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। রমজানের নবম দিনে জুম্মার বরকত পাওয়া আধ্যাত্মিকভাবে একজন মুমিনের ঈমানি শক্তিকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
করণীয় আমল
সুরা কাহাফ তেলাওয়াত: জুম্মার দিনের বিশেষ সুন্নত।
বেশি বেশি দরুদ পাঠ: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা।
আসরের পর দোয়া: ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে মুনাজাত করা।
এছাড়া বিশেষ এ দিনটি জিকির, তেলাওয়াত ও তওবার মাধ্যমে অতিবাহিত করা একজন উম্মার জন্য সর্বোত্তম সময়।
ইসলামি শরীয়তের বিধানে জুমার দিনের মাহাত্ম্য সীমাহীন। এ দিন মানব জাতির আদি পিতা হজরত আদম (আ.) এর দেহের বিভিন্ন অংশ সংযোজিত বা জমা করা হয়েছিল বলেই দিনটির নাম জুমা রাখা হয়েছে। জুমার দিনকে আল্লাহ তায়ালা সীমাহীন বরকত দ্বারা সমৃদ্ধ করেছেন। এটি সপ্তাহের সেরা দিন। হাদিস শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী এ বরকতময় দিনটি আল্লাহ তায়ালা বিশেষভাবে উম্মতে মুহাম্মদিকে (সা.) দান করেছেন।
নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, সর্বাপেক্ষা উত্তম ও বরকতময় দিন হচ্ছে জুমার দিন। এ পবিত্র দিনে হজরত আদম (আ.) কে সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং এ দিনে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়। (মুসলিম শরিফ)
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































