Apan Desh | আপন দেশ

ডিজেলের মজুদ শেষ হলেই থমকে যাবে অর্থনীতির চাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৫:৩০, ১১ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ১৫:৫২, ১১ মার্চ ২০২৬

ডিজেলের মজুদ শেষ হলেই থমকে যাবে অর্থনীতির চাকা

ফাইল ছবি

বড়জোর তিন মাসের ডিজেল মজুদ সক্ষমতা আছে বাংলাদেশের। তবে সংকটকালীন আগাম প্রস্তুতি নেই। বরং লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় চলতি অর্থবছরে আমদানি হয়েছে কম। এ অবস্থায় হুমকির মুখে দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি ডিজেল সরবরাহ।

দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ডিজেল। বার্ষিক জ্বালানি চাহিদার ৮০ শতাংশই মেটে ডিজেলে। প্রতিদিন এর চাহিদা থাকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টন। যা ব্যবহৃত হয় পণ্যবাহী ট্রাক বা লরি, দূরপাল্লার বাস, শিল্প কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সমুদ্রে জাহাজ চলাচলে এমনকি ট্রেনেও। কৃষকের সেচ প্রকল্পেও নির্ভরশীল এই ডিজেলের উপর।

শুধুমাত্র ডিজেলের মজুদ শেষ হলেই থমকে যাবে শিল্প কারখানা, আমদানি-রফতানি, কৃষি উৎপাদন তথা অর্থনীতির চাকা। বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হলে চলবে লোডশেডিং। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে মজুদ নিয়ে।

ক্যাব সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, মজুদাগার বাড়ানো, ডিজেলের মজুদ সক্ষমতা বাড়ানো এবং সামগ্রিকভাবে আমাদের যে জ্বালানি মজুদ সে মজুদটা পর্যাপ্ত পরিমাণ তিন থেকে ছয় মাসের মজুদ করা যায় কি না সে বিষয়টা সরকারকে ভাবতে হবে।

আরও পড়ুন<<>> নতুন পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু

যদিও বিপিসির প্রকাশিত তথ্যে তেল মজুদ সক্ষমতা ৮ লাখ টন। তবে একাধিক গবেষণা বলছে, অন্তত ৩০ লাখ টন মজুদ সক্ষমতা আছে সরকারের।

বিপিসি জ্বালানি তেল আমদানি করে বছরে দুইবার। আর তিন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা, যমুনার নিজস্ব ডিপো আর ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা অনুযায়ী সঠিক উপায়ে মজুদ রাখলে আমদানি বন্ধ হওয়ার পরও অন্তত তিন মাস চলা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এমআইএসটি অধ্যাপক ড. মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘২০২৩ সালে ৫০ লাখ ৭০ হাজার টন ফিনিশড ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল, কেরোসিন, জেট এ-১ আমদানি করেছে। আমরা তিন মাস বাফার রাখি।’ 

কিন্তু সক্ষমতা থাকার পরেও চলতি অর্থবছরের শুরুতে জ্বালানি তেল কম আমদানি করেছে সরকার। প্রথম ছয় মাসে ২৬ লাখ টন আমদানির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও হয়েছে মাত্র ১৪ লাখ টন।

ড. মো. আমিরুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘তারা এই বাফারটাকে ধ্বংস করে দিছে এবং আমাদের বিগত জ্বালানি উপদেষ্টা, জ্বালানি সচিব এর জন্য সম্পূর্ণ দায়ী। এই ২০ কোটি মানুষকে তারা এখন কষ্ট দিবে।’

ডিজেলের চাহিদা পূরণে ভারত থেকে পাইপলাইনে আমদানির উদ্যোগ নেয় হাসিনা সরকার। চলমান পরিস্থিতিতে এই লাইন দিয়ে আরও ৫০ হাজার টন আমদানি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি সরকার।

আপন দেশ/এবি

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়