ছবি: আপন দেশ
দেখতে দেখতে অর্ধেক শেষ হয়ে গেল পবিত্র রমজান মাসের। জীবন জীবিকার তাগিদে যারা রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে বসবাস করেন, তাদের মাথায় বাড়ি ফেরার ভাবনা। ফেরার আগে পরিবার ও স্বজনদের জন্য করতে হবে কেনাকাটা। কিন্তু দিন দিন যেভাবে খরচ বাড়ছে, তাতে নাভিশ্বাস উঠেছে বেশির ভাগ মানুষের। আয়ের একটি বড় অংশই ব্যায় হচ্ছে নিত্যপণ্যের বাজারে। রোজার শুরুতে বাজারে অগ্নিমূল্য অসহায় ক্রেতারা। মাঝামাঝি এসে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও বেড়েছে মুরগির দাম।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আমদানি মসলার দাম কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা বেড়েছে। তেলের সরবরাহ কমেছে। চিনির দামও কিছুটা বেড়েছে। তবে লেবু, শসা, কলা, পেঁয়াজ, আলু ও বেগুনসহ সব ধরনের সবজির দাম কিছুটা কমেছে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (০৬ মার্চ) রাজধানীর একাধিক বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এদিন বাজারে গিয়ে দেখায়ায়, ব্রয়লার ও সোনালি উভয় প্রজাতির মুরগির দাম কেজিতে ৩০ টাকা বেড়েছে। তাতে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম আবার ২০০ টাকা ছুঁয়েছে। পাশাপাশি বাজারে চিনি, পোলাওয়ের চাল ও বিভিন্ন ধরনের মসলার দাম বেড়েছে।
রোজার শুরুতেই বাজারে লেবু, শসা, বেগুন, কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজের দাম বেড়েছিল। এক সপ্তাহে এসব পণ্যের দাম কিছুটা কমেছে। গতকাল রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি হালি লেবু ৪০–৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা রোজার শুরুতে ছিল ১০০ টাকার ওপরে।
এ ছাড়া শসা, বেগুন ও কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ২০ টাকা করে কমেছে। গতকাল প্রতি কেজি শসা ৮০–১০০ টাকা, বেগুন ৬০-৮০ টাকা ও কাঁচা মরিচ ১২০-১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। রোজার শুরুতে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়ে ৫৫-৬০ টাকা হয়েছিল। গতকাল পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০-৪৫ টাকা। অন্যান্য সবজির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।
পেঁয়াজের খুচরা বাজারেও দাম কমেছে। রমজানের শুরুতে তিন কেজি পেঁয়াজ ২০০ টাকায় কিনতে হয়েছে, এদিন ১২০ টাকায় কেনা যাচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, ৬০-৭০ টাকার পেঁয়াজ এখন ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলুর দামও কেজিপ্রতি ২০-২৫ টাকা থেকে কমে ১৫-১৮ টাকায় নেমেছে।
গরুর মাংসের দাম সামান্য কমে কেজিপ্রতি ৭৫০-৭৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস আগের মতোই কেজিপ্রতি ১৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম কমে ডজন ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
আরও পড়ুন<<>>কমলেও নাগালে আসেনি লেবু-শসা-বেগুনের দাম
রাজধানীর বাজারগুলোতে বেশির ভাগ সবজির দাম কেজিতে ৫০ টাকার মধ্যে রয়েছে। তবে করলা সর্বোচ্চ ১২০ টাকা কেজিতে ও কাঁচামরিচ কেজিতে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি টমেটো ৩০ থেকে ৫০ টাকা, গোল ও লম্বা বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ফুলকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা, শিম ৪০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, গাজর ৩৫ টাকা, চিচিঙা ৪০ টাকা, বরবটি ৪৫ টাকা এবং প্রতি কেজি আলু ১৪ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজির বাজারে স্বস্তি ফিরলেও ঈদকে সামনে রেখে আমদানি মসলার দাম বেড়ে গেছে। বিক্রেতারা জানান, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর থেকে আমদানি মসলার দাম কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
তিনি জানান, কিছুদিন আগে যে আলু বোখারা ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে বর্তমানে তা হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে। তেমনিভাবে বেড়েছে পেস্তাবাদাম, কাঠবাদাম ও কাজু বাদামের দামও। এলাচের দামও কেজিতে বেড়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত।
তিনি আরো বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে আদমানি মসলার দাম আরো বাড়তে পারে। এছাড়া আমদানি নির্ভর অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান এই ব্যবসায়ী।
ফলের বাজারেও একই চিত্র। সাগর কলার ডজন ১২০-১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ১৮০-২০০ টাকা ছিল। আপেল ও মাল্টার দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৫০ টাকা কমেছে। থাই পেঁপে ও দেশি পেঁপের দামও কমেছে।
ঈদ সামনে রেখে এ মাসের শুরু থেকেই বাজারে বিভিন্ন ধরনের মসলার দাম বাড়ছে। যেমন আলুবোখারার কেজি ৭৫০ থেকে বেড়ে এক হাজার টাকা হয়েছে। এ ছাড়া জিরা ও কিশমিশের দাম কেজিতে ৪০, কাঠ ও কাজুবাদামের দাম কেজিতে ১০০ টাকার মতো বেড়েছে।
এদিকে কয়েক দিন ধরে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমেছে। পণ্যটির দাম না বাড়লেও ক্রেতারা অনেক দোকানে গিয়ে এক লিটার ও দুই লিটারের বোতল পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































