Apan Desh | আপন দেশ

চিকিৎসা ব্যয় মিটাতে দারিদ্র্যসীমার নিচে লাখ লাখ রোগী

আপন দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:৫৯, ২ মার্চ ২০২৬

চিকিৎসা ব্যয় মিটাতে দারিদ্র্যসীমার নিচে লাখ লাখ রোগী

ফাইল ছবি

চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ রোগী দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যায় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্সি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া চিকিৎসকদের ইনডাকশন অনুষ্ঠানে এ পরামর্শ দেন তিনি।

রোববার (০১ মার্চ) তিনি বলেন, বিষয়টি মাথায় রেখে কম খরচে কীভাবে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা যায় সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে রোগীদের চিকিৎসাব্যয় কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। 

বিএমইউ ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, ইনডাকশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ তৈরি হবেন তাদের প্রধান কাজ দেশের জনগণের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং গবেষণায় নেতৃত্ব দেয়া। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা দিতে গিয়ে দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রাখতে হবে। কারণ চিকিৎসাসেবা করাতে গিয়ে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ রোগী দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যায়। তাই কম খরচে কীভাবে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা যায় সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে করে রোগীদের চিকিৎসাব্যয় বর্তমান সময় থেকে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।

অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, আজকের রেসিডেন্টরা আগামী দিনের জ্ঞানভিত্তিক মানবিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নিজেকে গড়ে তুলবেন সেটাই কাম্য। ই-লগ বুক ও ই-আইআরবি চালু, বিএমইউ জার্নাল, আইআরবি এবং ইভিডেন্স বেইসড মেডিসিনে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনসহ বিএমইউতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে নবাগত রেসিডেন্টদের আন্তর্জাতিমানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সে সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। গত ১৫ বছরে বিএমইউতে তিন হাজার গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে গত ৫ বছরে ১১শত গবেষণার ফলাফল ইনডেক্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, এমপি, ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল। 

আরও পড়ুন<<>>ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস আজ

রেসিডেন্সি ইনডাকশন প্রোগ্রামে সভাপতিত্ব করেন ও নবাগত রেসিডেন্টদের শপথ বাক্য পাঠ করান ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। অনুষ্ঠানে মোট এক হাজার ৩০৬ জন রেসিডেন্ট শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এর মধ্যে রয়েছে সার্জারি অনুষদে ৫৪৩ জন, মেডিসিন অনুষদে ৪০০ জন, শিশু অনুষদে ১২৪ জন, বেসিক সাইন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সাইন্স অনুষদে ১৫৬ জন এবং ডেন্টাল অনুষদে ৮৩ জন।

ইনডাকশন প্রোগ্রাম সঞ্চালনা করেন বিএমইউর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম। রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম নিয়ে আলোকপাত করেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সম্মানিত কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার। 

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ। এ পর্বে নিজ নিজ অনুষদের নবাগত রেসিডেন্ট শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. ইব্রহীম সিদ্দিক, বেসিক সায়েন্স ও প্যারা ক্লিনিক্যাল সায়েন্স অনুষদের ডীন অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী, মেডিসিন অনুষদের ডীন অধ্যাপক ডা. মো. শামীম আহমেদ, শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. আতিয়ার রহমান, ডেন্টাল অনুষদের ডিন ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন। 

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের কোর্স ডিরেক্টরগণ, অধিভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষগণ, পরিচালকবৃন্দ, নবাগত রেসিডেন্টগণ বক্তব্য রাখেন। সবশেষে নবাগত রেসিডেন্টদের শপথ বাক্য পাঠ করান ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়