ফাইল ছবি।
রমজান মাস দোয়া কবুলের এক বিশেষ সময়। আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য এ মাসটি আমাদের জন্য এক মহান সুযোগ।
প্রিয় নবী (সা.) এর হাদিস অনুযায়ী, রোজাদারের দোয়া আল্লাহ ফিরিয়ে দেন না। বিশেষ করে ইফতারের সময় দোয়া কবুলের সম্ভাবনা অনেক বেশি।
রমজানের এ দিনগুলোকে সহজভাবে সাজাতে ও ইবাদতকে আনন্দময় করতে নিচের গাইডটি আপনাকে সাহায্য করবে।
রমজান মাসকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি ভাগের আলাদা গুরুত্ব ও বিশেষ প্রার্থনা রয়েছে।
১. প্রথম ১০ দিন: রহমতের সময়
রমজানের শুরুটা হয় আল্লাহর অশেষ রহমতের মাধ্যমে। এ সময়ে আমরা আল্লাহর দয়া পাওয়ার জন্য বেশি বেশি প্রার্থনা করব।
বিশেষ দোয়া: আরবি: رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ উচ্চারণ: রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আনতা খাইরুর রাহিমীন। অর্থ: হে আমার পালনকর্তা! আমাকে ক্ষমা করুন ও রহম করুন; আপনিই শ্রেষ্ঠ দাতা।
২. দ্বিতীয় ১০ দিন: মাগফিরাতের সময়
রমজানের মাঝের ১০ দিন হলো গুনাহ মাফের সময়। এ সময়ে আমরা আগের করা ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইব।
বিশেষ দোয়া: আরবি: أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ رَبِّي مِنْ كُلِّ ذَنْبٍ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ উচ্চারণ: আসতাগফিরুল্লাহা রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বিন ওয়া আতুবু ইলাইহি। অর্থ: আমি আমার পালনকর্তা আল্লাহর কাছে সব গুনাহ থেকে ক্ষমা চাইছি, তার দিকেই ফিরে আসছি।
৩. শেষ ১০ দিন: নাজাত ও কদরের সময়
শেষ ১০ দিন হলো জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং লাইলাতুল কদর তালাশ করার সময়। এটি রমজানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিশেষ দোয়া (লাইলাতুল কদরের জন্য): আরবি: اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি। অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। অতএব আমাকে ক্ষমা করুন।
প্রতিদিনের রোজা শুরু ও শেষের মুহূর্তগুলো ইবাদতের অন্যতম অনুষঙ্গ।
সাহরির দোয়া
সাহরি খাওয়ার মাধ্যমে রোজা শুরু হয়। এটি একটি বরকতময় খাবার। সাহরি খাওয়ার সময় আমরা এই দোয়াটি পড়তে পারি—
আরবি: بِسْمِ اللَّهِ وَعَلَى بَرَكَةِ اللَّهِ উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়া আলা বারাকাতিল্লাহ। অর্থ: আল্লাহর নামে ও আল্লাহর বরকতের সঙ্গে খাবার শুরু করছি।
ইফতারের দোয়া
সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের মুহূর্তটি অত্যন্ত আবেগের। ইফতার করার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) এ দোয়াটি পড়তেন—
আরবি: ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَথَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ উচ্চারণ: জাহাবাজ জামাউ ওয়াবতাল্লাতিল উরুকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ। অর্থ: তৃষ্ণা দূর হয়েছে, শিরাগুলো সিক্ত হয়েছে, আল্লাহ চাইলে পুরস্কার নির্ধারিত হয়েছে।
রমজানে যে ৪টি কাজ বেশি বেশি করবেন
১. কালিমা পাঠ: বেশি বেশি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' পাঠ করা। ২. তওবা ও ইস্তেগফার: নিজের গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে প্রতিনিয়ত ক্ষমা চাওয়া। ৩. জান্নাত প্রার্থনা: আল্লাহর কাছে জান্নাত লাভের জন্য বিনীতভাবে প্রার্থনা করা। ৪. জাহান্নাম থেকে মুক্তি: জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করা।
দোয়া কবুলের সেরা সময়গুলো
রমজানে দোয়া করার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই, তবে কিছু সময় আছে যখন দোয়া দ্রুত কবুল হয়:
-
সাহরির পর ও শেষ রাতে: তাহাজ্জুদের সময় দোয়া করলে তা সরাসরি আল্লাহর দরবারে কবুল হয়।
-
ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে: সারাদিন ক্ষুধার্ত থাকার পর ইফতারের সামনে বসে দোয়া করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
-
আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়: এ সময়ে দোয়া করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
-
জুমার দিন: রমজানের জুমার দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত থাকে।
আপন দেশ/এমবি
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































