Apan Desh | আপন দেশ

আজ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস

আপন দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:৫২, ২৪ মার্চ ২০২৬

আজ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস

ছবি: সংগৃহীত

আজ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস। প্রতিবছর ২৪ মার্চ এ দিবসটি পালন করা হয়। এ বছরের বিশ্ব যক্ষ্মা দিবসের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য ‘হ্যাঁ! আমরা যক্ষ্মা নির্মূল করতে পারি!’। স্টপ টিবি পার্টনারশিপ এ প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী যক্ষ্মা নির্মূলে দ্রুত পদক্ষেপ, বিনিয়োগ ও প্রতিশ্রুতির গুরুত্ব তুলে ধরেছে। প্রতিবছর এ দিবসটি যক্ষ্মার ক্ষতিকর প্রভাব, স্বাস্থ্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিণতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশে পালিত হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (এনটিপি) অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জানুয়ারি-অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট শনাক্ত যক্ষ্মা রোগী ২,৭৮,৬০৭ জন। এর মধ্যে প্রায় ১,২৫৮ জন ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট (MDR/RR-TB) রোগী। আন্তর্জাতিক অনুমান অনুযায়ী বছরে প্রায় ৩.৭-৩.৮ লাখ মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হতে পারে, যেখানে প্রায় ১৭ শতাংশ রোগী শনাক্ত হয় না।

বাংলাদেশ সরকারের এনটিপি লক্ষ্য করেছে ২০৩৫ সালের মধ্যে যক্ষ্মা নির্মূল করা। মূল লক্ষ্যগুলো হলো:

(ক) ২০১৫ সালের তুলনায় ৯০% টিবি মৃত্যু হ্রাস
(খ) যক্ষ্মা সংক্রমণ এবং রোগের ঘটনা প্রায় ১০ কেস/১ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে আনা
(গ)‘যক্ষামুক্ত বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা করা

টিবি নির্মূলের প্রধান ৫ কৌশল

1. প্রারম্ভিক রোগ শনাক্তকরণ (সক্রিয় স্ক্রিনিং ও কন্টাক্ট ট্রেসিং)
2. দ্রুত ও সম্পূর্ণ চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ (DOTS বা উপযুক্ত রেজিমেনে চিকিৎসা)
3. ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট টিবি নিয়ন্ত্রণ (MDR/RR-TB শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা)
4. প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা (BCG টিকা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং TB প্রিভেনটিভ থেরাপি)
5. সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ (জনগণকে শিক্ষা ও নিয়মিত ফলো-আপ)

বিশ্ব যক্ষ্মা দিবসের তাৎপর্য

* প্রতিরোধযোগ্য এবং নিরাময়যোগ্য হলেও যক্ষ্মা বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর প্রধান কারণ।
* ১৮৮২ সালে ডা. রবার্ট কোচ যক্ষ্মা ব্যাসিলাস আবিষ্কার করেন, যা টিবি নির্ণয়ে বিপ্লব ঘটায়।
* বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত।
* ভারত, ইন্দোনেশিয়া, চীন, ফিলিপাইন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী টিবি মামলার বড় অংশের জন্য দায়ী।

বাংলাদেশে যক্ষ্মার প্রভাব

* ২০২৫ সালে ২,৭৮,৬০৭ জন রোগী শনাক্ত।
* ১,২৫৮ জন ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট।
* প্রতি বছর প্রায় ৩.৭-৩.৮ লাখ মানুষ আক্রান্ত হতে পারে।

ফুসফুসে যক্ষ্মার লক্ষণ

* ক্রমাগত কাশি, রক্ত কাশি, বুকে ব্যথা
* ওজন হ্রাস, অবসাদ, ক্ষুধামান্দ্য
* রাতের ঘাম, জ্বর, শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া

শরীরের অন্যান্য অংশে টিবির লক্ষণ

* পিঠ বা ঘাড়ে ব্যথা, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে দুর্বলতা
* কাশির মাধ্যমে পুঁজযুক্ত কফ বের হওয়া

টিবি প্রতিরোধের উপায়

* বিসিজি টিকা: শিশুদের গুরুতর টিবি থেকে রক্ষা করে
* প্রাথমিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা: রোগের বিস্তার রোধ করে
* মুখ ঢেকে কাশি/হাঁচি দেয়া: সংক্রমণ কমায়
* সঠিক বায়ুচলাচল: টিবি ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়া কমায়
* শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: সুষম খাদ্য, ব্যায়াম, পর্যাপ্ত বিশ্রাম
* সংক্রমিত রোগীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এড়ানো

বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে যক্ষ্মা নির্মূল করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি। সচেতনতা, প্রাথমিক নির্ণয় ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আপন দেশ/এসএস

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়