Apan Desh | আপন দেশ

কালো সম্রাটের দাম নির্ধারণ ১২ লাখ টাকা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৯:২৫, ১৭ মে ২০২৬

কালো সম্রাটের দাম নির্ধারণ ১২ লাখ টাকা

ছবি: আপন দেশ

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে জমে উঠতে শুরু করেছে খাগড়াছড়ির কুরবানির পশুর হাট। আর এবারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে বিশাল আকৃতির ষাঁড় ‘সম্রাট’। কুচকুচে কালো রঙ, মাথা ও শরীরের নিচে সাদা ছাপ, সুঠাম গঠন এবং বিশাল আকৃতির কারণে ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে গরুটি।

শেঠ অ্যাগ্রো ফার্মস লিমিটেডে বিশেষ যত্নে লালন-পালন করা হয়েছে ফ্রিজিয়ান জাতের এ ষাঁড়কে। খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘সম্রাট’-এর বর্তমান ওজন প্রায় এক হাজার ১০০ কেজি। এ কারণে কুরবানির বাজারে গরুটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ লাখ টাকা।

খামারের কর্মচারী মো. ওয়ালি উল্লাহ বাবু জানান, জন্মের পর থেকেই ‘সম্রাট’-কে আলাদা পরিচর্যায় বড় করা হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা রাসায়নিক ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্যে গরুটিকে লালন করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন এর খাবার ও পরিচর্যায় খরচ হচ্ছে হাজার টাকারও বেশি।

সম্রাটের খাদ্যতালিকায় রয়েছে কাঁচা ঘাস, খড়-ভুসি, ভুট্টা, বাঁধাকপি, মিষ্টি কুমড়া, ধানের কুঁড়া ও ভাত। পাশাপাশি নিয়মিত গোসল, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়।

খামারের আরেক কর্মচারী জুলহাস মিয়া বলেন, গরুটিকে পরিবারের সদস্যের মতো করেই বড় করা হয়েছে। তাই এখন ‘সম্রাট’ শুধু একটি গরু নয়, পুরো খামারের কেন্দ্রবিন্দু।

শুধু ‘সম্রাট’ নয়, খামারটিতে এ বছর কুরবানির জন্য আরও ১৭টি ষাঁড়, তিনটি মহিষ, তিনটি পাহাড়ি গয়াল ও কয়েকটি গাড়ল প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমানে সাতজন কর্মচারী পশুগুলোর সার্বক্ষণিক দেখভাল করছেন।

আরও পড়ুন <<>> সরকারিভাবে বোরো মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহ শুরু

খামারের জিএম জানান, এখানে ফ্রিজিয়ান, শাহীওয়াল এবং ব্রাহামা-শাহীওয়াল ক্রস জাতের গরু রয়েছে। বেশ কয়েকটি গরুর ওজন ৮০০-৯০০ কেজির মধ্যে হলেও সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ‘সম্রাট’।

এদিকে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর জানিয়েছে, চলতি বছর জেলায় কুরবানির পশুর চাহিদা মিটিয়ে আরও পাঁচ হাজারের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। পাহাড়ি অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে লালন-পালন হওয়ায় এখানকার গরুর মাংসের মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা আগেভাগেই পশু কিনতে আসছেন।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সোমেন চাকমা বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের গরু দেখতে হৃষ্টপুষ্ট হলেও মাংসে চর্বি কম থাকে। প্রাকৃতিক খাবারে বড় হওয়ায় এখানকার গরুর মাংস শতভাগ নিরাপদ।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়