Apan Desh | আপন দেশ

রোমাঞ্চকর জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

ক্রীড়া প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২২:৫৫, ১৫ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ২২:৫৭, ১৫ মার্চ ২০২৬

রোমাঞ্চকর জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

ছবি: সংগৃহীত

সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় একদিনের ম্যাচে পাকিস্তানকে ২৯১ রানের লক্ষ্য দেয় বাংলাদেশ। শুরুতেই পেসারদের দাপটে পাকিস্তানের ব্যাটিং ভেঙে পড়ে। পরে সালমান আলি আগা একাই দলকে টেনে নেন। তিনি দলকে জয়ের খুব কাছাকাছি নিয়ে যান। তবে শেষদিকে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে এগারো রানে জয় পায় বাংলাদেশ। এতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

এ জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা সিরিজ জয়ের নতুন নজির গড়ল বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৫ সালে দুই দল সর্বশেষ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলেছিল। সে সিরিজে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ।

২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভালো শুরু করতে পারেনি পাকিস্তান। তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার গতিময় বোলিংয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে সফরকারীরা। মাত্র ১৭ রানেই হারায় প্রথম তিন উইকেট। ইনিংসের প্রথম ওভারেই তাসকিন আহমেদ ছয় রানে ফেরান সাহিবজাদা ফারহানকে। পরের ওভারে নাহিদ রানা আউট করেন মাজ সাদাকাতকে। এরপর নিজের দ্বিতীয় ওভারে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে চার রানে ফেরান তাসকিন।

চাপে পড়া দলকে সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন গাজি ঘোরি ও আব্দুল সামাদ। তবে তাদের প্রতিরোধ দীর্ঘ হয়নি। ৩৯ বলে ২৯ রান করে আউট হন ঘোরি। আর ৪৫ বলে ৩৪ রান করেন সামাদ।

১০০ রানের আগেই পাঁচ উইকেট হারায় পাকিস্তান। তখন দলের হাল ধরেন সালমান আলি আগা। তাকে সঙ্গ দেন সাদ মাসুদ। অভিষেক ম্যাচেই ভালো শুরু পেয়েছিলেন মাসুদ। কিন্তু ৩৮ রানে তাকে থামান মুস্তাফিজুর রহমান। দুর্দান্ত ডেলিভারিতে তাকে বোল্ড করেন এ বাঁহাতি পেসার। এতে সালমান ও মাসুদের জুটি থামে ২৯ রানে।

এরপর ফাহিম আশরাফকে নিয়ে আরেকটি জুটি গড়ার চেষ্টা করেন সালমান। তবে সে সুযোগ দেননি তাসকিন আহমেদ। নয় রান করা ফাহিমকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান তিনি। বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন তাসকিন আহমেদ। তিনি একাই চারটি উইকেট নেন।

এর আগে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি বাংলাদেশকে ব্যাট করতে পাঠান। ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১০৫ রান। ইনিংসের ১৯ ওভারে শাহীন আফ্রিদির বলে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে বল মিস করে বোল্ড হন সাইফ হাসান। তিনি ৫৫ বলে ৩৬ রান করেন। ভালো শুরু করেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি নাজমুল হোসেন শান্ত। হারিস রউফের বলে আউট হওয়ার আগে তিনি ২৭ রান করেন।

আরও পড়ুন<<>> দর্শক মনে ধাক্কা, হচ্ছে না ফিনালিসিমা

এদিকে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ৪৭ বলে ফিফটি করেন তিনি। এরপর আরও ৪৯ বলে শতকে পৌঁছান। মোট ৯৮ বলে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন এ ওপেনার। সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তামিম। আবরার আহমেদের খাটো লেংথের বলে কাট করতে গিয়ে কাভারে শাহীন আফ্রিদির হাতে ধরা পড়েন। তার ইনিংস ছিল ১০৭ রান, বল খেলেছেন ১০৭টি। এতে ছিল ছয়টি চার ও সাতটি ছক্কা।

চতুর্থ উইকেটে লিটন কুমার দাস ও তাওহীদ হৃদয় দারুণ জুটি গড়েন। তারা যোগ করেন ৬৮ রান। এতে বড় সংগ্রহের দিকে এগোয় বাংলাদেশ। হারিস রউফের বলে আউট হওয়ার আগে ৪১ রান করেন লিটন। আর নতুন ব্যাটার হিসেবে নেমে রানের খাতা খুলতে পারেননি রিশাদ হোসেন। প্রথম বলেই বোল্ড হন তিনি।

শেষদিকে আফিফ হোসেনকে নিয়ে ইনিংস শেষ করেন তাওহীদ হৃদয়। হৃদয় অপরাজিত থাকেন ৪৪ বলে ৪৮ রানে। আর পাঁচ রানে অপরাজিত থাকেন আফিফ। পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন হারিস রউফ। আবরার আহমেদ ও শাহীন শাহ আফ্রিদি একটি করে উইকেট নেন।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়