ফাইল ছবি, আপন দেশ
মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বর্ষণে যৌবন ফিরে পেয়েছে যমুনা নদী। যমুনার উত্তাল ঢেউ তীরবর্তী মানুষগুলোর আতঙ্ক বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে টানা বর্ষণের কারণে যমুনার পানি দ্রুতগতিতে বাড়তে শুরু করে।
মাঝখানে সামান্য কমে আবারও বাড়তে শুরু করে। এখন পর্যন্ত বিপৎসীমার নিচেই রয়েছে। এরই মধ্যে দুই দিন ধরে ফের কমতে শুরু করেছে যমুনার পানি। আর যমুনার পানি হ্রাস-বৃদ্ধির দোলাচলে চরাঞ্চল ও পূর্ব তীরে শুরু হয়েছে ভাঙন। ফলে বর্ষাকাল শুরুর আগেই এসব অঞ্চলের মানুষের কাছে আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে যমুনা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভাঙনকবলিতদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে নদীর পূর্বপাড়ের চৌহালী উপজেলার খাস কাউলিয়া ইউনিয়নের ভূতের মোড়, বাগুটিয়া ইউনিয়নের বিনানুই, রেহাই পুখুরিয়া, দেওয়ানগঞ্জ বাজার, চর সলিমাবাদসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এসব অঞ্চলের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের শঙ্কায় রয়েছে শত শত বসতবাড়ি, ফসলি জমি, হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
বাগুটিয়া ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার বাবুল সরকার বলেন, চর বিনানুই নদীর পশ্চিম পাশে চার জায়গায় প্রায় ১শ ফুট এলাকার জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী চর সলিমাবাদ গ্রামের মোল্লা সাইফুল ইসলামের বাড়িটি চোখের পলকেই যমুনায় চলে গেছে।
আরও পড়ুন<<>>রাত ১টার মধ্যে ১৮ জেলায় বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা
একই ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মতিউর রহমান বলেন, রেহাই পুখুরিয়া ও দেওয়ানগঞ্জ বাজারের উত্তর পাশে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। অনেক জমি নদীতে চলে গেছে। এখানকার মানুষ খুব আতঙ্কের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুস সালাম বলেন, চর সলিমাবাদ বাজার এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। দুই সপ্তাহে ৩০টিরও বেশি বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ এলাকার অসংখ্য মানুষ ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে।
এদিকে জেলার চরাঞ্চল কাজিপুর উপজেলার খাস রাজবাড়ী, নাটুয়ারপাড়া, সদর উপজেলার কাওয়াকোলা, চৌহালীর ঘোড়জান, শাহজাদপুরের গালা, সনাতনী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামেও তীব্র নদীভাঙন শুরু হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, গত ১৪ মে থেকে যমুনার পানি বাড়া শুরু করে। দ্রুতগতিতেই বাড়ছিল পানি। বুধবার (০৩ জুন) থেকে পানি কমতে শুরু করেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, জুনে যমুনায় পানি বাড়তে শুরু করে। পানি বাড়লে তীরবর্তী অঞ্চল ও চরাঞ্চলে ভাঙন দেখা দেয়। আমরা বেশ কিছু জায়গায় ভাঙনের খবর পেয়েছি। চৌহালী উপজেলার ভূতের মোড় এলাকার নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেখানে বালুভর্তি জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। আর চরাঞ্চলের ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেয়ার কোনো নির্দেশনা নেই, এজন্য সেখানে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































