ছবি: আপন দেশ
আজ ৩১ মে (রোববার) বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। তামাক সেবন থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে প্রতি বছর এ দিনে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এ ছাড়া দিবসটির উদ্দেশ্য তামাক ব্যবহারের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব এবং মানবস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করানো।
এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আনমাস্কিং দ্য অ্যাপিল- কাউন্টারিং নিকোটিন অ্যান্ড টোব্যাকো অ্যাডিকশন’। দিবসটি উপলক্ষে তামাক ও নিকোটিন আসক্তির ভয়াবহ প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে তামাক ব্যবহার এখনো একটি বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৩ দশমিক ৭৮ কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে তামাক ব্যবহার করে। তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে, যা দেশের স্বাস্থ্যখাতের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।
২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। এ ক্ষতির পরিমাণ তামাক খাত থেকে অর্জিত রাজস্ব আয়ের দ্বিগুণেরও বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তামাকজনিত রোগের চিকিৎসা ব্যয় এবং কর্মক্ষমতা হ্রাসের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন<<>>বিশ্ব কচ্ছপ দিবস আজ
বিশ্বব্যাপী ১২৫টিরও বেশি দেশে তামাক চাষ হলেও আবাদযোগ্য জমির সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তামাক চাষে ব্যবহৃত জমির পরিমাণের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ১৩তম। বিশ্বের মোট তামাক উৎপাদনের প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়।
পরিবেশের ওপরও তামাক চাষের নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। টোব্যাকো অ্যাটলাসের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৩১ শতাংশ বন নিধনের সঙ্গে তামাক চাষের সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, কক্সবাজার ও বান্দরবানের কয়েকটি উপজেলায় মাত্র এক বছরে তামাকপাতা শুকানোর কাজে প্রায় ৮৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী অন্তত ৩ কোটি ৭০ লাখ কিশোর-কিশোরী নিয়মিত তামাক ব্যবহার করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণদের লক্ষ্য করে তামাক কোম্পানিগুলো বিভিন্ন প্রচারণা, সুগন্ধিযুক্ত পণ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্যবহার এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষকতার মতো কৌশল গ্রহণ করে থাকে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিন ও তামাক আসক্তির ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে ই-সিগারেট, ভেপিংসহ নতুন ধরনের তামাকপণ্যের বিরুদ্ধে কার্যকর নীতি ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































