ছবি: আপন দেশ
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরেছেন কর্মজীবী মানুষ। ফলে চেনা রূপে ফিরেছে রাজধানী ঢাকা। কোরবানির মাংস খেতে খেতে হাপিয়ে উঠেছেন প্রায় সবাই। তাই মাছ ও সবজির প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। কাঁচাবাজারে দোকানগুলোতে থরে থরে সাজানো নানা জাতের সবজি। দামে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। কমেনি মাছের দাম। আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে ছোট-বড় সব মাছ। সে সঙ্গে বেড়েছে চালের দাম। এতে অস্বস্তিতে পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষ।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের আগে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অনেক পণ্যের দাম বাড়লেও এখন বাজারে সরবরাহ বাড়ায় সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। তবে চাল ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতীয় চাল আসা কমে গেছে, এলসিও বন্ধের মতো পরিস্থিতি হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। সে কারণেই দাম বেড়েছে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (০৫ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়েছে।
এদিন রাজধানীর মুগদা কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা গেছে ঈদের আগের তুলনায় বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে। প্রতি কেজি পটোল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, বেগুন ৬০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৫০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে করলা ৮০ টাকা, ঢেঁড়শ ৬০ টাকা, কচুর চারা ৬০ টাকা, লতি ৬০ টাকা, ঝিঙে ৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০ টাকা, গোল বেগুন ৬০ টাকা। এ ছাড়া লেবু প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়।
তবে মাছের বাজারে তেমন স্বস্তি নেই। বাজারে চাষের রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা, পাঙ্গাস ২২০ টাকা এবং চাষের শিং মাছ ৩৮০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০-১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের দাবি, মাছের উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেশি থাকায় দাম কমার সুযোগ কম।
গরুর মাংসের দাম আগের মতই ৮০০-৮৫০ টাকা, খাসির মাংসের দাম ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা। তবে বিক্রেতারা বলছেন কোরবানির পরে মাংসের বেচাকেনা কম।
তবে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে মুরগি ও ডিমের বাজারে। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমে এখন ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দামও ৬০ থেকে ৮০ টাকা কমে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় নেমে এসেছে।
আরও পড়ুন<<>>আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ-রুপা
ডিমের বাজারেও দেখা দিয়েছে কিছুটা স্বস্তি। বর্তমানে প্রতি ডজন লাল ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ১০ টাকা কম। ডিম বিক্রেতা সোলায়মান বলেন, সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। তাই দাম কিছুটা কমেছে। পাইকারি বাজারেও এখন তেমন চাপ নেই।
সবজি, মাছ-মাংস যাই হোক সবচেয়ে দরকারি চালের দাম ভোক্তাদের নতুন করে চিন্তায় ফেলেছে। ৫০ কেজির বস্তায়ও ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। বাজারে প্রতি কেজি আটাশ চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭২ টাকায়, আগে ছিল ৬৬ থেকে ৬৭ টাকা। নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৭২ থেকে ৮০ টাকায়, আগে ছিল ৬৫ থেকে ৭৮ টাকা।
বাজারে চাল কিনতে আসা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চাল এমন একটা পণ্য, যেটা ছাড়া কোনো পরিবার চলতে পারে না। ডিম-মুরগির দাম কমেছে, সেটা ভালো খবর। কিন্তু চালের দাম বাড়ায় সে সুবিধাটা আমরা পাচ্ছি না। সরকারের উচিত চালের বাজারের দিকে এখনই নজর দেয়া।
আরেক ক্রেতা রুমানা আক্তার বলেন, সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিললেও পরিবারের দৈনন্দিন খরচ খুব একটা কমেনি। মাছ ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম আগের মতোই রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৌসুমী সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে বাজারে দামের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে মাছ, ডিম ও মাংসের বাজারে স্বস্তি ফিরতে হলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও নজরদারি প্রয়োজন।
ঈদের পর রাজধানীর বাজারে সবজির দামে যে স্বস্তি ফিরেছে, তা ভোক্তাদের জন্য ইতিবাচক হলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য খাদ্যপণ্যের উচ্চ মূল্য এখনও তাদের উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































