Apan Desh | আপন দেশ

হজ পরবর্তী জীবন যেমন হওয়া উচিত

আপন দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:০৫, ৪ জুন ২০২৬

হজ পরবর্তী জীবন যেমন হওয়া উচিত

ছবি: আপন দেশ

হজ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী এবং আর্থিক ও শারীরিকভাবে সক্ষম প্রতিটি মুসলিমের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। হজ পালন আল্লাহর প্রতি বান্দার অকৃত্রিম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। প্রতি বছর বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশ থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মানুষ ভালোবাসার টানে হজ পালনে ছুটে আসেন। ‘লাববাইক আল্লাহুম্মা লাববাইক... ধ্বনিতে মুখরিত করে তোলেন মক্কা প্রান্তর।

হজের একটি ফজিলত হলো— হজের মাধ্যমে মানুষ অতীত জীবনের যাবতীয় গুনাহ থেকে মুক্তি লাভ করে। তবে বান্দার হক ব্যতীত।  হাদিস শরিফে এসেছে— যে ব্যক্তির আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ করে এবং সকল অশ্লীল ও গুনাহের কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকে সে সদ্য ভূমিষ্ট শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়। (বুখারি ১:২০৬)

তাই কেউ যদি বান্দার যাবতীয় অনাদায়ী হক আদায় করে হজের সফরে বের হয় এবং সকল বিধি-নিষেধ মেনে হজ আদায়ে সক্ষম হয় তাহলে সে সদ্যভূমিষ্ট শিশুর মতোই নিষ্পাপ হয়ে যায়। আর এ নিষ্পাপ বান্দাটির সঙ্গে আল্লাহর সম্পর্ক আরও গভীর হয়। সুতরাং হজের পর দেশে ফিরেও যেন সে গুনাহ ও পঙ্কিলতামুক্ত থাকে, তার বাকিটা জীবন যেন নিষ্পাপ শিশুর মতোই কেটে যায় এজন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা জরুরি। আর এটিই হবে আল্লাহর প্রতি প্রকৃত ভালোবাসার মূল দাবি ও একজন সাচ্চা আশেকের সতেজ ইশকের বহিঃপ্রকাশ।

দেশে ফিরে করণীয়
হজের সফরের পূর্ণ সময়টা মূলত মানুষের জীবনে তাকওয়া ও খোদাভীতি অর্জনের এক মোক্ষম সময়। এ স্বল্প সময়ের প্রশিক্ষণে একজন মানুষ নিজেকে পরিপূর্ণ মুত্তাকি হিসেবে গড়ে তোলে। তাই দেশে ফিরেও যেন সে তাকওয়া অটুট থাকে সেদিকে খেয়াল রাখা আবশ্যক। আর হজের সফরের আগে থেকে পেশাগত অথবা অন্য কোনো কারণে কোনো প্রকার গুনাহের কাজে জড়িত থাকলে হজ সফরের পূর্বেই তা থেকে সম্পূর্ণভাবে পৃথক হয়ে যাওয়া এবং হজের সময় জুড়ে আল্লাহর কাছে বারংবার কায়মনোবাক্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকা জরুরি। আর হজ শেষে দেশে ফিরে সব রকমের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক।

আরও পড়ুন<<>>উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হলো ঈদুল আজহা উদযাপন

হজের সফর থেকে এসে নিম্নোক্ত আমলগুলো নিয়মিতভাবে করে যাওয়া উচিত—

১. প্রতিদিন নিয়মিতভাবে কিছু পরিমাণ কুরআন মাজিদ তেলাওয়াত করা।

২. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে গিয়ে তাকবিরে উলার সঙ্গে আদায়ের চেষ্টা করা।

৩. প্রতিদিনের ফরজ ও সুন্নত নামাজের পাশাপাশি কিছু পরিমাণ নফল নামাজেরও অভ্যাস গড়ে তোলা।

৪. নিয়মিত তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার চেষ্টা করা।

৫. প্রতিদিন ইস্তেগফার, দরুদ শরিফ ও অন্যান্য দোয়া ও জিকির ইত্যাদি পাঠ করা।

আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক হাজিকে নিয়মিত আল্লাহর স্মরণে থাকার তৌফিক দান করুন। আমিন।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়