Apan Desh | আপন দেশ

যাদের ওপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব

আপন দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৪২, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

যাদের ওপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব

ছবি: সংগৃহীত

‘সদকাতুল ফিতর’ আরবি শব্দ। সদকা অর্থ দান এবং ফিতর অর্থ রোজার সমাপন। অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের দিন যে দান আদায় করা হয়, তাকে সদকাতুল ফিতর বলা হয়। এটি জাকাতুল ফিতর বা ফিতরা নামেও পরিচিত।

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) সদকাতুল ফিতর অপরিহার্য করেছেন। এর পরিমাণ এক সা জব বা এক সা খেজুর এবং ছোট-বড়, স্বাধীন-পরাধীন সবার ওপরই এটি ওয়াজিব। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৫১২)

যাদের ওপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব: ঈদের দিন সুবহে সাদেকের সময় যে স্বাধীন মুসলিম ব্যক্তি নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকেন, তার ওপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়। নেসাব নির্ধারণের ক্ষেত্রে অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, বাসস্থান ও ঋণ বাদ দিয়ে যদি তার কাছে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা বা এর সমমূল্যের সম্পদ থাকে, তবে তাকে ফিতরা দিতে হবে। (তাতারখানিয়া: ৩/৪৫৩)

অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজনীয় সামগ্রী

অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত হলো— বসবাসের ঘর; ঘরের ব্যবহার্য আসবাবপত্র ও বাসন-কোসন; পরিধানের কাপড়; রান্নার সামগ্রী; শিক্ষার বই-পুস্তক; ব্যবহারযোগ্য যানবাহন; প্রয়োজনীয় কর্মসামগ্রী। অন্যের কাছে পাওনা ঋণের অর্থও প্রয়োজনীয় সম্পদের অন্তর্ভুক্ত ধরা হয়।

আরও পড়ুন <<>> রোজা রাখা নিয়ে বিজ্ঞান কী বলে

তবে বছরে ব্যবহার হয় না এমন বা সৌখিনতার জিনিস—যেমন টিভি, গিটার, শোপিস ইত্যাদি অতিরিক্ত সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে এবং নেসাব হিসাবের মধ্যে ধরা হবে। আলেমদের জন্য প্রয়োজনীয় কিতাব প্রয়োজনীয় সামগ্রীর অন্তর্ভুক্ত। (বাদায়েউস সানায়ে: ২/২৯৭; দুররুল মুখতার: ৩/১৭৪–৭৯)

জাকাত ও ফিতরার নেসাবের পার্থক্য: জাকাতের ক্ষেত্রে স্বর্ণ, রূপা, নগদ অর্থ বা ব্যবসায়িক পণ্য থাকা শর্ত। কিন্তু সদকাতুল ফিতরের ক্ষেত্রে যে কোনো অতিরিক্ত সম্পদ নেসাব পরিমাণ হলেই ফিতরা ওয়াজিব হয়। (লামায়াতুত তানকিহ: ৪/২৮১)

জাকাত ফরজ হওয়ার জন্য সম্পদের ওপর এক বছর অতিবাহিত হওয়া জরুরি। কিন্তু ফিতরার ক্ষেত্রে এটি শর্ত নয়। ঈদের দিন সুবহে সাদেকের সময় নেসাবের মালিক হলেই ফিতরা ওয়াজিব হয়ে যায়। (মারাকিউল ফালাহ: ৫৯৫)

গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালা: কোনো ব্যক্তি সামর্থ্যবান হলে রোজা রাখতে না পারলেও তার ওপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব থাকবে। অর্থাৎ রোজা না রাখলেও বা রাখতে অক্ষম হলেও সামর্থ্য থাকলে ফিতরা আদায় করতে হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/১৯২)

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়