Apan Desh | আপন দেশ

রোজা রাখা নিয়ে বিজ্ঞান কী বলে

আপন দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:৪৩, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রোজা রাখা নিয়ে বিজ্ঞান কী বলে

ছবি: সংগৃহীত

রোজা শুধু ধর্মীয় ইবাদতই নয়, আধুনিক বিজ্ঞানেও এর নানা স্বাস্থ্যগত উপকারিতা উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, নির্দিষ্ট সময় খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকা শরীর ও মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ইসলামে প্রায় ১৪ শত বছর আগে রোজার যে উপকারিতার কথা বলা হয়েছে, তার সঙ্গে আধুনিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার মিল পাওয়া যাচ্ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, রোজা মানুষের মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করে। এতে মনোযোগ, স্মরণশক্তি ও যুক্তি বিশ্লেষণের ক্ষমতা উন্নত হয়। একই সঙ্গে ঘ্রাণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণক্ষমতার ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। নিয়মিত রোজা খাদ্যে অরুচি দূর করে এবং শরীরের বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।

রোজাকে শরীরের প্রাকৃতিক পরিশোধন প্রক্রিয়া হিসেবেও দেখা হয়। এতে রক্ত পরিশুদ্ধ হয় এবং শরীরে নতুন প্রাণশক্তি সঞ্চারিত হয়। বিশেষজ্ঞরা জানান, দীর্ঘ সময় না খাওয়ার ফলে শরীরে ‘অটোফেজি’ নামের একটি প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়। এ অবস্থায় কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত বা দুর্বল কোষ ভেঙে পুনর্গঠন শুরু করে, যা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

রোজা শরীরের অতিরিক্ত ওজন ও মেদ কমাতে ভূমিকা রাখে। লিভারের রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং শ্বাসতন্ত্রের কিছু সমস্যার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। এছাড়া বাত, বহুমূত্রসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি হ্রাসেও রোজার ইতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করা হয়।

হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও রোজা উপকারী বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। পেপটিক আলসার, হাঁপানি ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায়ও উপকার পাওয়া যেতে পারে। কিডনিতে জমে থাকা ক্ষুদ্র পাথর বা খনিজ পদার্থ দূরীকরণে রোজা সহায়ক ভূমিকা রাখে বলেও মত রয়েছে। কিছু গবেষণায় ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধির গতি কমাতেও উপবাসভিত্তিক জীবনযাপনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন <<>> রমজানে যে আমলে গুনাহ মাফ হয়

অটোফেজি প্রক্রিয়াটি ২০১৬ সালে বৈজ্ঞানিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব পায়। এরপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ সুস্থতার জন্য নিয়ন্ত্রিত উপবাস পদ্ধতির দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন। মুসলমানরা দীর্ঘদিন ধরেই ধর্মীয় বিধান হিসেবে রোজা পালন করে আসছেন, যা স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও উপকারী বলে মনে করা হচ্ছে।

ইসলাম ধর্মেও রোজার কল্যাণের কথা উল্লেখ রয়েছে। পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারা’র ১৮৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, রোজা পালন মানুষের জন্য কল্যাণকর—যদি তারা তা উপলব্ধি করতে পারে।

হাদিসেও রোজাদারের মর্যাদা ও ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে। সহিহ বুখারি শরিফে উল্লেখ আছে, রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের সুগন্ধির চেয়েও প্রিয়। জান্নাতের ‘রাইয়ান’ নামের বিশেষ দরজা দিয়ে কেবল রোজাদাররাই প্রবেশ করবে বলেও হাদিসে বলা হয়েছে।

এছাড়া রমজান মাসে আল্লাহ তাআলার বিশেষ রহমত নাজিল হয় এবং রোজাদারের জন্য পুরস্কার আল্লাহ নিজেই প্রদান করবেন বলে বর্ণনা রয়েছে। রোজার মাধ্যমে গুনাহ মাফ হওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি লাভ করে—এমন কথাও বিভিন্ন হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই রোজাকে মানবজীবনের জন্য উপকারী ও কল্যাণকর একটি অনুশীলন হিসেবে দেখা হয়।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়