ছবি: আপন দেশ
আগামী মাসের শুরুর দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একটি বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা দেয়া হবে বলে উল্লেখ করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান।
সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশোরে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
সংগঠনটির আহবায়ক ও সিপিডি ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় সংলাপে মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াত নেতা সাইফুল আলম খান।
সাইফুল আলম খান বলেন, আমরা বাজেটের সমালোচনা করার জন্য কোনো ব্যানার তৈরি করিনি। আমাদের টেকনিক্যাল টিম কাজ করছে। আগামী মাসের শুরুর দিকে আমরা একটি বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা দেব। আমরা সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে চাই এবং মনে করিয়ে দিতে চাই যে জনগণের কল্যাণে বাজেটে আর কী কী করা সম্ভব ছিল।
আরও পড়ুন<<>>বিএনপির নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
বর্তমান সরকারের সফলতা কামনা করে সাইফুল আলম খান বলেন, সরকারের সব ভালো কাজে আমাদের সমর্থন থাকবে। কিন্তু জনগণের বিরুদ্ধে কোনও কাজ হলে আমরা সংসদের ভেতরে ও বাইরে কথা বলব।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সম্প্রতি আমি ব্যাংককের ভেজথানি হাসপাতালে জুলাই আন্দোলনের আহত যোদ্ধাদের দেখতে গিয়েছিলাম। তাদের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।
এত দুঃখ-কষ্টের মধ্যেও একাধিক আহত ব্যক্তি আমাকে প্রশ্ন করেছেন ‘আমাদের গণভোটের কী হবে?’ দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শুরুতেই তা নাকচ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু দেশের কল্যাণ ও সুশাসনের জন্য গণরায়কে বাস্তবায়ন করার কোনও বিকল্প নেই।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের পেছনে দুর্নীতিকে প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা অদক্ষ নন, কিন্তু এখানে দুর্নীতির প্রশ্নটি অনেক বড়। ভ্যাট ও কর ফাঁকি দেয়ার পেছনে কর আদায়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাই ব্যবসায়ীদের বুদ্ধি দিয়ে থাকেন। এনবিআরের যেসব কর্মকর্তার সঙ্গে জড়িত, তাদের কর্মদক্ষতা ও সততা বাড়াতে দুই-তিন বছরের একটি বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম নেয়া দরকার। কর্মী যদি খারাপ হন, তবে ভালো কর্মসূচিও বিফলে যায়।
বিদ্যুৎ খাতের সমালোচনা করে সাইফুল আলম খান বলেন, ক্যাপাসিটি চার্জের নাম বসিয়ে কিছু গোষ্ঠীকে জনগণের টাকা দেয়া হচ্ছে। সামিট গ্রুপের আজিজ সাহেব সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ধনী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন, অথচ দেশের মানুষ এ বোঝা টানছে। হাইকোর্ট বললেও সিঙ্গাপুরের আরবিট্রেশন কোর্টে যাওয়ার সাহস সরকারের হয়নি, কারণ হেরে যাওয়ার ভয় রয়েছে। যারা এ ধরণের গণবিরোধী চুক্তি করেছেন, তাদের শাস্তির আওতায় আনা উচিত।
এছাড়াও তিনি কর্ণফুলী ট্যানেলের মতো ‘ব্যাড প্রজেক্ট’ এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকৌশলগত ত্রুটির তীব্র সমালোচনা করেন।
চাঁদাবাজির বিষয়ে জামায়াতের এ নেতা বলেন, চাঁদাবাজদের কোনো দল নেই। চাঁদাবাজি যদি জামায়াতে ইসলামীর কোনো লোকও করে, তাকেও আইনের আওতায় আনুন। জামায়াতের কোনো স্তরের নেতা এর পক্ষে কথা বলবে না।
ব্যাংকিং খাতের অব্যবস্থাপনা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ৮৯ কোটি টাকা ঋণগ্রস্ত একজন ব্যক্তি কীভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হন? পৃথিবীর কোথাও এমন দৃষ্টান্ত নেই। তিনি এসে প্রথম কাজই করলেন ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডিকে সরিয়ে দেয়া। ইসলামী ব্যাংক ছিল জামায়াতের ‘ব্রেন চাইল্ড’। জামায়াতের পরিচালকদের বিরুদ্ধে কখনো ব্যাংক থেকে অবৈধ বিনিয়োগ নেয়ার প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না। অথচ লুতফর রহমান সরকারের মতো দক্ষ মানুষের হাত ধরে যে ব্যাংক বিশ্ব দরবারে পুরস্কার পেয়েছিল, এস আলম গ্রুপকে দিয়ে তা ধ্বংস করা হয়েছে। আর বর্তমান সরকার ব্যাংক রেজুলেশন আইনের মাধ্যমে সে ধ্বংসযজ্ঞের বাকি কাজটুকু সম্পন্ন করছে।
সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবিবা, নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপ সদস্য ও সিপিডি ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শারমিন্দ নীলোর্মি এবং বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ. কে. এনামুল হক প্রমুখ।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































